দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আমিও আত্মহত্যাপ্রবণ। বেশ কয়েক বার আত্মহত্যা করার কথাও ভেবেছি। আমার যন্ত্রণা কখনওই পুরোপুরি সারেনি।'-- এই কথাগুলিই নিজের টুইটার পেজে লিখেছেন অভিনেত্রী পার্নো মিত্র। সুশান্ত সিংয়ের মৃত্যুর পরেই এভাবেই মনের দুয়ার খুলছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছেন নিজেদের অভিজ্ঞতা।
সবে একটা দিন পেরিয়েছে বলিউডের তরুণ অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর। সামাজিক মাধ্যমে এখনও আলোচনার বিষয় তিনি এবং তাঁর মৃত্যুই। এখনও অনেকেই কারণ হাতড়াচ্ছেন এই মৃত্যুর। আর পাশাপাশিই উঠে এসেছে, আরও একটি বিষয়। অবসাদ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান অবসাদের জেরে আত্মহত্যাই করেছেন সুশান্ত। তিনি গত ছ'মাস ধরে চিকিৎসাও করাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
তাই স্বাভাবিক ভাবেই সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পরে আলোচনায় ভীষণ ভাবে উঠে এসেছে মানসিক অবসাদের নানা প্রসঙ্গ। কাল থেকে বহু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় অবসাদ নিয়ে মত প্রকাশ করছেন। সকলেই বলতে চাইছেন, তাঁরা এই অসুখে কতটা ভুগেছেন, ভুগছেন, বা কাছের মানুষগুলিকে ভুগতে দেখেছেন। ক্রমে আরও যেন স্পষ্ট হচ্ছে, এই দশকের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের অধঃপতন অন্যতম।
তাই নিয়েই মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী পার্নো মিত্র। তিনি লিখেছেন, "এই সময়ে খুব জরুরি একটা বিষয় হল মানসিক স্বাস্থ্য। আমিও আত্মহত্যাপ্রবণ। আমি কয়েক বার আত্মহত্যা করার কথাও ভেবেছি। আমার যন্ত্রণা কখনই সারেনি। আমরা সবাই যেন ধীরে ধীরে একটা খোলসের মধ্যে ঢুকে পড়েছি যেটা ভাঙা অসম্ভব। হঠাৎ করে কারও সঙ্গে কথা বলে এই যন্ত্রণা দূর করা সম্ভব নয়। এটা আপনার নিজেরই একটা অংশ হয়ে পড়েছে। যে কেউ এই সমস্যায় ভুগলে তাঁরা যেন সাহায্য চান। আমি প্রতিদিন এই লড়াই লড়েছি, লড়ছি। এই লড়াই সহজ নয়, কিন্তু আমার পাশে আমার পরিবার, বন্ধুরা রয়েছে। আমার চিকিৎসকরা আমাকে খুব সাহায্য করেন। দয়া করে মানসিক অবসাদের বিষয়টি একটি সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড হিসেবে দেখবেন না। আপনার ভালবাসার মানুষদের সাহায্য করুন।"
https://twitter.com/parnomittra/status/1272410317172232192
সুশান্ত সিং রাজপুতকে সকলে চিনতেন হাসিখুশি, এনার্জেটিক, প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুণ হিসেবেই। সেই ছোট পর্দা থেকেই সকলের স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। পরিশ্রমের জোরে একের পর এক হিট ছবি করেছেন। কেরিয়ারে খারাপ সময় সেভাবে আসেনি। কয়েক মাস আগেও সুশান্ত নিজের ৫০টি স্বপ্নের একটি তালিকা বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। সেই যুবকই কী করে এক রবিবারের সকালে ঘুম থেকে উঠে এভাবে জীবনের চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, সে প্রশ্নেই তোলপাড় সকলে।
এই তোলপাড়েই বারবার সামনে আসছে আরও তোলপাড় করা অভিজ্ঞতারা। প্রতিটা মানুষই কোনও না কোনও ভাবে যন্ত্রণাক্লিষ্ট। একাকীত্বের শিকার। বিশেষ করে গ্ল্যামার দুনিয়ায় এই চাপ যেন আরও বেশি! তলিয়ে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে থাকেন কত জন, কত জন ফিরে আসেন। তেমনই কথা ভাগ করেছেন পার্নো।
পার্নো একা নন, নিজের অবসাদ এবং আত্মহত্যা করার প্রবণতা নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির আরও এক পরিচিত মুখ ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, "সুশান্ত সিং রাজপুতের ভক্ত ছিলাম না আমি, তবে ওঁর অভিনয় ভাল লাগত। ডিপ্রেশন যে ঠিক কী, তা নিজে সাফার না করলে কেউ বুঝতে পারবেন না। গত বছর আমি নিজেও অবসাদের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। ২০১৯ সালের অনেকটাই আমার কাছে খুব যন্ত্রণাদায়ক ছিল। আমি নিয়ম করে শ্যুটিংয়ে যেতাম, সারাদিন কাজ করতাম, সেটে সবার সঙ্গে হাসি ঠাট্টা করতাম, কিন্তু বাড়িতে ফিরে এসেই চরম নিঃসঙ্গতায় ভুগতাম। অন্ধকার ঘরে একা বসে থাকতাম। কিছু ভাল লাগত না। একবার মনে হয়েছিল ১৪ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবনাটা শেষ করে ফেলি। এই ভাবনা নিয়ে ৯টা মাস কাটানো পরে আমি মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তাঁকে বললাম, আমি বাঁচতে চাই।"
এর পরেই ফের জীবনের দিকে মুখ ফেরান ভাস্বর। খুঁজে পান বেঁচে থাকার মানে। ঠিক হয়ে ওঠেন আস্তে আস্তে। তিনি বলেন, এ কথা কখনও কারও সঙ্গে শেয়ার করেননি, সুশান্তের ঘটনাটি তাঁকে এতটাই নাড়িয়ে দিয়েছে, যে বলে ফেললেন।