
শেষ আপডেট: 31 January 2021 08:12
হিরণ নিজেই জানান যে রাজনীতির ময়দানে কেউই চিরবন্ধু নন আবার কেউই চিরশত্রু নন। ফুল বদলের কোনও সম্ভবনাকেই উড়িয়ে দেননি তিনি। যদিও অনেকেই মনে করছেন তৃণমূলে থেকে টিকিট না পাওয়ার জন্যই নাকি মন ভেঙেছে হিরণে তাই নীল-সাদা ছেড়ে গেরুয়া পথে হাঁটতে চায়ছেন!
হিরণ চট্টোপাধ্যায় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ছিলেন।দীর্ঘ দিন ধরেই বড় পর্দাতে তাঁকে সেভাবে দেখা যায় না, এদিকে টলিপাড়ার এই অন্যতম মুখ রাজনীতির মঞ্চেও সেভাবে সক্রিয় নন। তাই কি এবার পরিবর্তনের লক্ষ্যেই পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়ার মনস্থ করেছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়? প্রশ্ন তো উঠছেই! ভোটের বিশেষভাবে প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছেন সেলেব সাংসদরা। মিমি, নুসরত, দেব, শতাব্দীর ওপরে গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন 'দিদি'। সোহম চক্রবর্তীও রয়েছেন সেই তালিকায়।
তৃণমূলের প্রতি মোহভঙ্গের কারণ হিসেবে হিরণ জানান,"বিধানসভা হোক, লোকসভা হোক যখনই যেখানে ডেকেছেন চলে গেছি। কিন্তু আমি কি এটা করার জন্য দলে জয়েন করেছিলাম? 'হ্যাঁ' বললেই যেকোনও পার্টিতে জয়েন করা যায়। কিন্তু জয়েন করে যদি কাজটাই না করতে পারি তাহলে লাভ কোথায়? মানুষের জন্য কি কাজ করতে পারবো? অভিনেতা মানেই শুধু ভিড় বাড়ানোর জন্য আমাকে ডাকা হয় তাহলে জয়েন করবো না। আমি বহুবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেসেজ করেছি কথা বলতে চেয়েছি। কিন্তু তাঁর সময় হয়নি। আমি পরেরবার অমিত জির সঙ্গে কথা বলবো, বুঝতে চেষ্টা করবো সবটা। আমি যদি বুঝতে পারি যে বিজেপিতে আমি কাজ করতে পারবো তাহলেই জয়েন করবো...।" মোটের ওপর তিনি তিনি তৃণমূল থেকে সরে গেলেও বিজেপিতে যোগদানের নির্দিষ্ট কোনও দিনের কথা জানাননি। আপাতত, বিজেপিতে তাঁর অবস্থান কেমন হতে পারে সে বিষয়েই জল মাপছেন বলা যায়।
এমনিতে বাংলা শিল্প সংস্কৃতি মহলে রাজনৈতিক বিভাজন নতুন নয়। নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর পর্বেও দেখা গিয়েছিল সেই আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যাওয়া। এক দিকে যখন অপর্ণা সেন, শঙ্খ ঘোষ, বিভাস চক্রবর্তীরা সিপিএম তথা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল করছেন তখন পরের দিনই কলকাতার রাস্তায় বুদ্ধবাবুদের পক্ষে মিছিলে নেমেছিলেন বাদশা মৈত্র, চন্দন সেন, অনিন্দিতা সর্বাধিকারী, মিঠুন চক্রবর্তীরা। এখন বাংলার রাজনীতিতেও সেই বিভাজন স্পষ্ট। একদিকে মিমি, নুসরত, দেব, সোহম, কৌশানিরা আর অন্যদিকে রুদ্রনীল, কাঞ্চনা, রূপাঞ্জনারা। সেই তালিকায় নাম জুড়তে চলেছে হিরো হিরণের।