‘আশিকি’ ছবির মাধ্যমে বিশেষ পরিচিতি পাওয়া দীপক তিজোরি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তাঁর নতুন ছবি ‘টম, ডিক অ্যান্ড মেরি’-র চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ শুরু করেন।

শেষ আপডেট: 15 January 2026 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক দীপক তিজোরি সম্প্রতি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন একটি হিন্দি ছবির জন্য অর্থ জোগাড় করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। এই ঘটনায় গোরেগাঁওয়ের কবিতা শিবাঘ কুপার, ফৌজিয়া আরশি এবং আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মামলা রুজু হয়েছে।
‘আশিকি’ ছবির মাধ্যমে বিশেষ পরিচিতি পাওয়া দীপক তিজোরি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তাঁর নতুন ছবি ‘টম, ডিক অ্যান্ড মেরি’-র চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ শুরু করেন। ছবির জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজতে গিয়ে এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় কবিতা কুপারের সঙ্গে। কবিতা নিজেকে টি-সিরিজের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, মিডিয়া জগতে তাঁর ভালো যোগাযোগ রয়েছে।
দীপকের ছবির পরিকল্পনা শোনার পর কবিতা জানান, জি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থায়নের ব্যবস্থা করে দেওয়া সম্ভব। যদিও পরে দীপক জানতে পারেন, কবিতা আগেই টি-সিরিজ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কবিতা তাঁকে ওশিওয়ারায় ফৌজিয়া আরশির বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ফৌজিয়া নিজেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, খুব শিগগিরই তিনি একটি এয়ারলাইন সংস্থাও চালু করতে চলেছেন।
ফৌজিয়ার কথায়, জি নেটওয়ার্কে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং সেখান থেকে একটি ‘লেটার অফ ইন্টারেস্ট’ জোগাড় করে দেওয়া সম্ভব, যা দেখিয়ে সহজেই বিনিয়োগকারী পাওয়া যাবে। এই চিঠির জন্য তিনি ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন, যা দু’টি কিস্তিতে দেওয়ার কথা ছিল। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে দীপকের সঙ্গে এক ব্যক্তির ফোনে কথা বলানো হয়, যিনি নিজেকে জি নেটওয়ার্কের কর্মকর্তা ‘মিস্টার যোশী’ বলে পরিচয় দেন। কথাবার্তায় আশ্বস্ত হয়ে দীপক প্রথম কিস্তি হিসেবে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেন।
অভিযুক্তরা এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং সে সংক্রান্ত একটি চুক্তিপত্রেও সই হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর আর কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি। উল্টে দীপকের ফোন ধরা বন্ধ করে দেন তাঁরা। সন্দেহ হওয়ায় দীপক নিজেই খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, জি নেটওয়ার্কে ‘যোশী’ নামে কোনও ব্যক্তি কর্মরতই নন।
এর পরই বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, টি-সিরিজ ও জি নেটওয়ার্কের নাম ব্যবহার করে তাঁকে প্রতারণা করা হয়েছে। অবশেষে দীপক পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই মামলা রুজু করা হয়েছে। শীঘ্রই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।