দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেখতে দেখতে লগান-এর ২০ বছর পেরিয়ে গেল। পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ শাসকদের খাজনা চেয়ে অত্যাচার, অনাবৃষ্টি, ক্রিকেট- সব মিলেমিশে এক টানটান গল্প। আমির ছবির বিশতম বর্ষপূর্তিতে মিডিয়ার কাছে কবুল করেছেন পারিবারিক জীবনের অজানা কিছু কথা।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে পিছিয়ে আসার প্রবণতা তাঁর নিজের মধ্যে আছে। অতীতে তিনি অনেকবার প্রোডিউসার হবেন না বলে জানালেও শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সিনেমার এক বহুচর্চিত ছবির প্রযোজনা করে বসেন! লগান-ই সেই ছবি। কিন্তু কেন আমিরের প্রডিউসার হওয়ায় আপত্তি? আমির বলেছেন, আমি ফিল্ম পরিবারের ছেলে। কাকাকে ছবি করতে দেখেছি, বাবাকে দেখেছি। বাবা ছিলেন খুবই উত্সাহী প্রযোজক, একজন ভাল প্রডিউসার। কিন্তু উনি ব্যবসা কীভাবে করতে হয়, জানতেন না। তাই কখনও টাকা কামাতে পারেননি। আর শুধু সমস্যায় জড়াতেন। কোনও ছবি করতে আট বছর লাগত, কোনওটা তিন বছর। উনি বিপুল দেনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। বাবাকে চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়তে দেখেছি। প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়েছিলেন। আমাদের সবার পথে বসার পরিস্থিতি হয়েছিল। আমরা তখন ছোট। আমার মনে পড়ে, ঘরে ফোন বাজত, লোকে টাকা চেয়ে তাগাদা দিত। উনি তাঁদের বলতেন, উনি ফিল্মে টাকা ঢেলেছেন। তিন-চার বছর ধরে এরকম কথোপকথনই শুনেছি।
আমির স্মরণ করেছেন, মা তাঁকে বলেছিলেন, মাঝরাতে ঘু্ম ভেঙে জেগে উঠে দেখতেন, আমিরের বাবা অস্থির, কী যেন খুঁজছেন! কী খুঁজছ, জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলতেন, গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেটটা খুুঁজছেন, কেননা একটা কাজ চাই। চল্লিশের ঘরে পৌঁছে একজন স্ত্রীকে বলছেন, স্নাতক পর্বের শংসাপত্র লাগবে, আমাদের এমনই অবস্থা ছিল। এই কারণেই তিনি কখনও প্রযোজনা করতে চাননি। যদিও দুর্ঘটনাবশতঃ সেই তিনিই লগান প্রযোজনা করেন কেননা তেমন কাউকে সেজন্য পাননি বলে জানান আমির।