
শেষ আপডেট: 11 October 2023 10:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি মানেই চমক। তিনি মানেই ম্যাজিকের পর ম্যাজিক। এখন তো এ কথাটা প্রায় নিয়মে পরিণত করে ফেলেছেন আমির খান। ছবির বিষয় থেকে চরিত্র, সবেতেই পরতে পরতে নতুন স্বাদ। তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতেই হবে। বছরে যদি একটাও হয়, তাহলেও আমিরের ছবির জন্য অপেক্ষা করতেই হয়। আর এবার আরও নতুন চমক ঝুলি থেকে বের করতে চলেছেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট।
‘সিতারে জামিন পর’ নিয়ে পর্দায় ফিরছেন আমির। জল্পনা ছিলই যে নতুন ছবির খুব তাড়াতাড়ি ঘোষণা করতে পারেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট। ঠগস অফ হিন্দুস্তান এবং লাল সিং চড্ডা তেমনভাবে দাগ কাটতে পারেনি। এই ব্যর্থতার দায়ে নিজেকে খানিক গুটিয়ে নিয়েছিলেন আমির। তবে কানাঘুষো চলছিল যে খুব তাড়াতাড়ি পর্দায় নতুন ধামাকা নিয়ে কামব্যাক করতে পারেন তিনি। আর সেই জল্পনাই সত্যি হল।
‘সিতারে জমিন পর’ কি ‘তারে জামিন পর’-এর কি সিক্যুয়েল নাকি? ২০০৭ সালে ‘তারে জমিন পর’ তৈরি করেছিলেন আমির। সেই ছবির অনুপ্রেরণাতেই ‘সিতারে জমিন পর’ বানাচ্ছেন তিনি, এমনটাই জানিয়েছেন পারফেকশনিস্ট।
আমির বলছেন, “এই ছবি নিয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে চাই না। তবে ছবির নাম জানাতে চাই। আমার নতুন ছবির নাম সিতারে জমিন পর। তারে জামিন পর-এর পর একই ভাবনা নিয়ে এই ছবি বানাচ্ছি। তবে সিতারে জামিন পর আরও দশ কদম এগিয়ে থাকবে। এই ছবি যেমন হাসাবে, তেমনই কাঁদাবে। দর্শকের মন জিতে নেবে।”
পড়াশোনা করতে পারত না ছেলেটা। কল্পনার জগতে হারিয়ে যেত। অক্ষর-সংখ্যা যেন ডান্স করত চোখের সামনে। অ্যালফাবেটে তালগোল পাকিয়ে যে সব। স্কুলে দিবারাত্র গঞ্জনা, বাবার বকুনিতে নাজেহাল শিশু মাকেই আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিল। ভিতরের কষ্টটা মাকে জানাতে পারত না ছেলেটা। ছবি এঁকে বোঝাতো, মাকে ফেলে স্কুল যেতে কী মন খারাপটাই না করে! এ দিকে ছেলেটা দিনের পর দিন পরীক্ষার খাতায় ছবি আঁকছিল। জটিল অঙ্ক ভয়াঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বাবা তো রেগেই আগুন, বেল্টের বাড়িও কষিয়েছেন বেশ কয়েক বার। ধীরে ধীরে গভীর অবসাদে ডুবে যেতে থাকে ছোট্ট মনটা। পরে ধরা পড়ে ছেলেটি ডিসলেক্সিয়া নামে জটিল মানসিক রোগের শিকার। সেই অবস্থা থেকে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেন একজন শিক্ষক। আমিরের এই ছবি যেমন শিশুমনের যত্নের কথা বলেছিল, তেমনি সমাজ-শিক্ষা ব্যবস্থার খামতিগুলোকেও চোখের সামনে তুলে ধরেছিল অবলীলায়।
আমির বলছেন, সিতারে জামিন পরেও তেমনই বার্তা আছে। তবে এই ছবিতে আরও অনেক রকম চরিত্র আছে, আরও জটিল সমস্যা সমাধানের সহজ উপায় আছে। এই ছবি কঠিন-বাস্তব সমাজব্যবস্থায় একমুঠো ফুরফুরে হাওয়ার মতো আসবে এবং মনকে তৃপ্তি দিয়ে যাবে। এই ছবির পরিচালকের আসনেও কি থাকবেন আমির তা অবশ্য খোলসা করেননি অভিনেতা। বাকি কাস্টিং-এও কী কী চমক থাকবে তা জানার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।