৬০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টিকে টানা পাঁচ ঘণ্টা জেরা করল মুম্বই পুলিশের ইওডব্লিউ। রাজ কুন্দ্রা-জড়িত এই মামলায় শিল্পার বয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা হয়েছে।

শিল্পা শেট্টি
শেষ আপডেট: 7 October 2025 10:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় এবার বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির বয়ান রেকর্ড করল মুম্বই পুলিশের ইকনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)। এই মামলায় শিল্পার স্বামী ও ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রাও অভিযুক্ত।
মুম্বই পুলিশের ইওডব্লিউ টিম শিল্পা শেঠিকে তাঁর বাড়িতেই প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে জেরা করে। ওই সময় তাঁর বিজ্ঞাপন সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত একাধিক আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চান আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিল্পা না কি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও জমা দেন, যেগুলি এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা শিল্পার ওই সংস্থার ভূমিকা এবং লেনদেনের প্রতিটি ধাপের ওপর নজর রাখছেন। তাঁদের ওপর লুক আউট নোটিশ রয়েছে। এই নিয়েও বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সেলেব দম্পতি। চলতি মাসের ২ থেকে ৫ অক্টোবর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা ফুকেতে তাই দুজনই বম্মে হাইকোর্টে সম্প্রতি বিষয়টি জানান এবং লুক আউট স্থগিতের আবেদন করেন। যা অবশ্য খারিজ করে দেয় আদালত।
এক্ষেত্রে সরকারি কৌঁসুলি আদালতে জানান, রাজ কুন্দ্রা ও শিল্পা শেঠির বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অপরাধের মামলা নথিভুক্ত রয়েছে এবং এখনও দু’টি মামলা বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেওয়া উপযুক্ত নয়। যদিও শিল্পা ও রাজের দাবি, এই মামলাগুলি বহু পুরনো এবং রাজ কুন্দ্রা সব সময় তদন্তে সহযোগিতা করেছেন, এমনকি পুলিশের ডাকে হাজিরাও দিয়েছেন।
মূল অভিযোগ, ৬০.০৪ কোটি টাকা প্রতারণার। শিল্পা শেঠি ও রাজ কুন্দ্রা মিলে না কি ৬০.৪ কোটি টাকার প্রতারণা করেছেন। ‘লোটাস ক্যাপিটাল ফাইনান্স সার্ভিসেস’ নামে এক নন-ব্যাঙ্কিং ফাইনান্স কোম্পানির পরিচালক, মুম্বইয়ের ব্যবসায়ী দীপক কোঠারি এই অভিযোগ দায়ের করেন। জানান, রাজ ও তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর রাজেশ আর্যা নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে। রাজ ও শিল্পা তখন ছিলেন ‘বেস্ট ডিল টিভি প্রাইভেট লিমিটেড’-এর পরিচালক—একটি হোম শপিং ও অনলাইন রিটেল সংস্থা। যার সংস্থার মাধ্যমে তাঁরা ৭৫ কোটি টাকার ঋণ চান। তবে করের চাপ এড়াতে তাঁরা সেটিকে ‘ইনভেস্টমেন্ট’ বা বিনিয়োগ হিসেবে দেখান।
২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই টাকা ঋণ ও বিনিয়োগ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে তা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, ‘বেস্ট ডিল টিভি প্রাইভেট লিমিটেড’ বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। এই সংস্থাকে কেন্দ্র করেই এখন চলছে জোর তদন্ত।