
শেষ আপডেট: 30 November 2024 19:44
টিপ-টিপ করে বৃষ্টি। কার্নিশের জল বেয়ে ভিজছে মাটি। অদৃশ্য বাতাস গায়ে লাগলে পরে, মনে পড়ে যায় প্রিয়জন। মুহূর্ত যেন এক পলকের ‘সেই’ চাহনিকে ডেকে যায় ক্ষণে-ক্ষণে। গুনগুন করে কত গান ঠোঁটের চারপাশে উঁকি মারে। বিড়বিড় করে ওঠা কিছু ধুন। গানের কথা ভুলে গেল জিভ কেটে ডুব দেওয়া যায় অনলাইনে...তারপর সেই গানে পৃথিবী না ভিজলেও আপনি ভিজে গিয়েছেন চুপচুপে। তেমন গান (Rain songs) কিছু রাখা থাকল এই লেখায়। জানলার শার্সিতে জলের ফোঁটা গুনতে গুনতে, কানে গুজে দিন হেডফোন। ভেজা মুহূর্তে আরও সিক্ত হোক...
এক লড়কি ভিগি ভাগি সি
কমবয়েসি কিশোরকুমার গ্যারেজে গাড়ি সারাই করছেন আর গান গাইছেন— ‘এক লড়কি ভিগি ভাগি সি’। যাঁকে দেখে এই গান তাঁর সিক্ত গোটা শরীর। শেডের তলায় দাঁড়িয়ে লজ্জা পাচ্ছেন মধুবালা। ছবির নাম ‘চলতি কা নাম গাড়ি’। সন ১৯৫৮। সাদা-কালো ছবি হলেও আজও সিনেমপ্রেমীদের কাছে ‘এভারগ্রিন’। গানের দৃশ্যের সেই ভীষণ বৃষ্টি হয়তো আজ কলকাতায় পড়ছে না ঠিকই, কিন্তু হয়তো কোথাও হচ্ছে এমন বৃষ্টি আর তাতে প্রেমের গান হয়তো মিশে গিয়েছে এভাবেই।
পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়া
রাজ কাপুর আর পাশে নার্গিস। ছাতা রয়েছে। কিন্তু প্রেমের আকুলতা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা আছে কি ওর? নেই। তাই কখনও ছাতার বাইরে চলে যাচ্ছেন রাজ কখনও বিদ্যার শাড়ি ভিজে একসার। কিন্তু প্রেম অন্তহীন তার ভাব অগাধ। রাশিয়ান লোকসঙ্গীতের ‘ওচি চর্নিয়া’র সুর থেকে অনুপ্রাণিত হন শঙ্কর জয়কিষণ। নিজের মাদকতা ঢালেন সেই সুরে, সঙ্গতে মান্না-লতা। এমন বৃষ্টির গান অপ্রেমেও ভিজিয়ে দেবে আপনাকে। আপনি কি জানেন, গান মুক্তির পর হুহু করে বেড়েছিল ছাতার বিক্রি!
রিমঝিম গিরে সাওয়ান
অমিতাভ-মৌসুমী। আরডির সুর। কণ্ঠে কিশোর। এমন দিনে এই গান যেন আজও মন ভাসিয়ে দেয়। একটা গানই গোটা লাভস্টোরি। মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভ থেকে আরব সাগরের পার, কত যে ভেজা মুহূর্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকল। ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মনজিল ছবির এই গান, বৃষ্টির প্লে-লিস্ট থেকে মুক্তি ব্ল্যাকলিস্টেড হবে না কক্ষণও।
এই মেঘলা দিন একলা
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা গানটির সুরকার ও গায়ক ছিলেন হেমন্ত। ‘শেষ পর্যন্ত’। স্ক্রিন জুড়ে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ঢেউ খেলানো চুল। সে বৃষ্টি দেখে। কখনও জানলার পাশে, কখনও দরজায় দাঁড়িয়ে। বাইরে তখন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মেয়েটাকে উল্টোদিকে বসা ফুটপাথ থেকে যেমন দেখে কোনও মুগ্ধ বালক! বৃষ্টি বন্ধ হল এবং আবার খানিক বাদেই ফের আসতে পারে এমন এক মধ্যবর্তী মুহূর্তে সঙ্গী হতে পারে এই গান।
বৃষ্টি তোমাকে দিলাম
বলিউড পেরিয়ে টলিউড এবং একটি আধুনিক গানে ইতি হোক ঙেজ মরশুমের গানে। ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’। এ গানে প্রিয় মানুষটিকে দিয়ে দিতে পারেন যখন, সবকিছু, এমনকি রেখে দেওয়া বৃষ্টির ছাঁটও। লীলাময় পাত্রর লেখা এ গানে ও সুর করেছেন জয় সরকার। আর গেয়েছেন শ্রীকান্ত আচার্য।