দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটার পর একটা যৌন হেনস্থার অভিযোগ। #মিটু তীরে বিদ্ধ হতে হতে শেষে প্রযোজক-পরিচালক সাজিদ খানকে তাঁর পদ থেকে ছেঁটে ফেলল ‘দ্য ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ডিরেক্টরস্ অ্যাসোসিয়েশন (IFTDA)।’ আগামী ছবি ‘হাউসফুল ৪’-এর পরিচালনার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়াতে হবে তাঁকে।
আইএফটিডিএ সূত্রে খবর, সাজিদের বদলে ছবির পরিচালনার জন্য ভাবা হয়েছে ফারহাদ সামজিকে। কমিটির মুখপাত্রের কথায়, ‘‘সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে সাজিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও অশালীন আচরণের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এক বছরের জন্য সাজিদকে ছবি পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।’’
সাম্প্রতিক অতীতে বছর আটচল্লিশের পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন চার মহিলা। মডেল ও অভিনেত্রী র্যাচেল হোয়াইট, সাজিদের সহকারী ডিরেক্টর সালোনি চোপড়া, অভিনেত্রী অহনা কুমরা ও সাংবাদিক করিশ্মা উপাধ্যায়।
সাজিদের চরিত্র সম্পর্কে প্রথম প্রশ্ন তোলেন তাঁর একসময়ের সহকারী সালোনি। মিডিয়ার সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে পরিচালককে কার্যত তুলোধনা করেছিলেন তিনি। সালোনি জানিয়েছিলেন, সাজিদ নাকি তাঁকে প্রশ্ন করতেন তিনি হস্তমৈথুন করেন কিনা এবং সপ্তাহে কতবার করেন! তাঁর শরীর নিয়েও নানা কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন সাজিদ। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই ‘হাউসফুল ৪’ ছবির শ্যুটিং বন্ধ করে দেন অক্ষয় কুমার। যৌন হেনস্থার অভিযোগে দুষ্ট পরিচালকের সঙ্গে ভবিষ্যতেও কাজ না করার কথা প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেন তিনি।
সালোনির বক্তব্যকে সমর্থন করে নিজের অভিজ্ঞতার কথা মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন অভিনেত্রী র্যাচেল হোয়াইট।২০১৪-এ ‘হামশকল’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন র্যাচেল। সেই ছবিতে কাস্ট করার সময় র্যাচেলকে নাকি বাড়িতে ডেকেছিলেন সাজিদ। র্যাচেলের কথায়, ‘‘হামশকলের সময় সাজিদ বলেছিল পাঁচ মিনিটের জন্য আমার বাড়িতে এস। আমি প্রথমে যেতে চাইনি। কিন্তু ও বলে, মা আছে। তোমার অসুবিধে হবে না। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার পর কাজের মহিলা আমাকে সাজিদের বেডরুমে যেতে বলে। বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না...। ঘরে যাওয়ার পর আমাকে সাজিদ পোশাক খুলতে বলেছিল। কারণ যে ছবির জন্য আমাকে ভাবা হয়েছিল, সেখানে বিকিনি পরতে হত।”
অহনার অভিযোগ ছিল, নিজের বাড়িতে ডেকে এনে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন সাজিদ। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ১০০ কোটি টাকা দিলে তিনি কুকুরের সঙ্গে সেক্স করতে রাজি হবেন কিনা।