.jpg)
এত কষ্ট, এত যন্ত্রণা!
শেষ আপডেট: 13 April 2025 19:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি ছিলেন 'এপিটোম অব বিউটি'। যে কোনও বিশেষণই যেন ফিকে তাঁর কাছে। তিনি মধুবালা, বলিউডের প্রথম মহিলা সুপারস্টার। দিলীপ কুমার থেকে কিশোর কুমার-- তাঁর সৌন্দর্য ঘায়েল করেছে বহু সুপুরুষকে। অথচ মধ্য ত্রিশে যখন তাঁকে ঘিরে রেখেছিল অক্সিজেন সিলিন্ডার, রক্তবমি নিংড়ে নিচ্ছিল শরীরের সব শক্তিটুকু। সে সময় মধুবালা পাশে পাননি কাউকেই। হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন কাছের মানুষটিও। শেষের সে দিন, সত্যিই, বড়ই ভয়ঙ্কর!
সালটা ছিল ১৯৫৪। সে সময় 'বহত দিন হুয়ে'র শুটিং করছিলেন মধুবালা। তখন তাঁর কতই বা বয়স? ২৫ ও পার করেননি। সকাল বেলা দাঁত মাজছিলেন। আচমকাই বমি। মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে রক্ত। সে সময় তাঁর প্রেমিক তথা সুপারস্টার দিলীপ কুমারের ব্যাপারটা নজরে আসে। বিখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট রুস্তম জল উকিলকে নিয়েও আসা হয়। ডাক্তার জানান, হৃদযন্ত্রে ছিদ্র রয়েছে মধুবালার। চিকিৎসা না করালে খারাপ কিছু হতে পারে।

অবাক হয়ে যান মধুবালা। তাঁর বোন মধুরের কথায়, "দিদি বিশ্বাসই করতে চাননি। এমনিতে ভালই ছিলেন।কাজ করেই যেতে লাগলেন। ছবির পরিমাণও বাড়তে লাগল পাল্লা দিয়ে।" তামাম দুনিয়াও জানত না নায়িকার অসুস্থতার কথা। গ্ল্যামারের চাকচক্যে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল, রক্তের দাগ, নির্ঘুম রাত। ঠিক এমনই একটা সময়ে শুরু হয় মধুবালার বিরুদ্ধে কোর্ট কেস। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, পরিচালক বিআর চোপড়া। 'নয়া দৌড়' নামক এক ছবিতে কাজ করার কথা ছিল মধুবালা ও দিলীপের। আচমকাই বিআর চোপড়া শুটিং লোকেশন বদলে দেন। মধুবালার বাবা রাজি হননি। বাবার কথা মেনে নিয়ে মধুবালাও শুটিং লোকেশন বদলাতে রাজি ছিলেন না। ছবিটাতে না বলে দেন। আর তখনই চোপড়া যান আদালতে। চলে মামলা। আর এই মামলাতেই মধুবালার বিরুদ্ধে গিয়ে পরিচালকের পাশেই দাঁড়ান দিলীপ কুমার। কষ্ট যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায় মধুবালার! শেষে কিনা ভালবাসার মানুষটিও...
সম্পর্ক খারাপ হওয়া শুরু সেখানেই। ফলাফল বিচ্ছেদ। ওদিকে অসুস্থতাও তখন জাঁকিয়ে বসেছে অভিনেত্রীর উপর। সাল ১৯৬০। মধুবালা আবার প্রেমে পড়েন। মানুষটি আর কেউ নন, কিশোর কুমার। বোন মধুরের কথায়, "দিদির শরীর ভাল যাচ্ছিল না। ওরা ঠিক করে বিয়ে করবে। বাবা বারণ করেছিল। কিন্তু কিশোরদা জেদ করে ওকে সারিয়ে তোলার।" ১৯৬০-এ বিয়ে করেন দু'জনে। বিয়ের দশ দিনের মধ্যেই কিশোর মধুবালাকে নিয়ে লন্ডন পাড়ি দেন। সারিয়ে তুলতেই হবে, এই ছিল তাঁর ইচ্ছে।

কিন্তু হায়! লন্ডনের চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, আর কিচ্ছু করার নেই। নায়িকার আয়ু মেরেকেটে বছর দুয়েক। হৃদযন্ত্র শেষ, কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। ফিরে আসেন ওঁরা। পরিণতির কথা বুঝতে পেরে কিশোরও যেন দূরে সরতে থাকেন তাঁর ভালবাসার মানুষটির থেকে। মধুবালার দিন কাটতে থাকে বাবার বাড়িতে। চারদিকে অক্সিজেন স্লিলিন্ডার, কথায় কথায় রক্তবমি...চোখ বন্ধ। পাশে কেউ নেই...
বাঁচতে চেয়েছিলেন মধুবালা। চেয়েছিলেন সুখের সংসার। কিন্তু যা চাওয়া হয়, তাই কি পাওয়া যায়! ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি। কিশোর কুমার এক শো'র জন্য ফ্লাইট ধরতে বেরোচ্ছেন। আচমকাই মধুবালার বাবার ফোন। 'জলদি এসো কিশোর, মধুবালা বাঁচবে না'। বোনের কথায়, "দিদি সেদিন খুব রক্ত বমি হচ্ছিল। বাবা কিশোরদাকে বলে ফ্লাইট বাতিল করে চলে আসতে।" অনেক দোটানার পর কিশোর এলেন। নায়িকা তখন গভীর ঘুমে। চোখ বন্ধ, জ্ঞান নেই... সেই ঘুম আর ভাঙেনি। মাত্র ৩৬-এ কাছের মানুষের অনুপস্থিতিতেই চিরঘুমে পাড়ি দেন মধুবালা। তাঁর মৃত্যুর পর দাহকাজে হাজির ছিলেন দিলীপ কুমার। কষ্ট বুকে নিয়েই শেষ বিদায় জানিয়েছিলেন প্রিয়তমাকে।