
অরিন্দম-মধুবন্তী-স্বস্তিকা
শেষ আপডেট: 28 April 2025 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'দুর্গাপুর জংশন' মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিতর্কের ঝড়। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও বিক্রম চট্টোপাধ্যায় অভিনীত এই ছবির পরিচালক ও প্রযোজক অরিন্দম ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ছবির সহকারী পরিচালক মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ছবির প্রকৃত কাজের বড় একটা অংশ তিনিই এবং প্রসেনজিৎ চৌধুরী করেছেন, অথচ কৃতিত্ব পাচ্ছেন অরিন্দম। শুধু তাই নয়, মধুবন্তীর দাবি, তাঁর প্রাপ্য পারিশ্রমিকও এখনও পুরোপুরি মেটানো হয়নি।
মধুবন্তীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ছবির নায়িকা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও। গত শনিবার রাতে সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এই ছবি আমাদের। জানি না কেন এখনও পরিচালককে ক্রেডিট দেওয়া হচ্ছে। ছবির ক্লাইম্যাক্স, চিত্রনাট্য আমরা দুই অভিনেতা, প্রসেনজিৎ ও মধুবন্তী মিলে করেছি। পরিচালক তো তখন ঘুমোচ্ছিলেন।’ স্বস্তিকা আরও অভিযোগ করেন, ‘শুনেছি, পরিচালক অনেক টাকা তুলেছেন বাজার থেকে, অথচ এখনও বহু টেকনিশিয়ান তাঁদের টাকা পাননি।’
নিজের হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, প্রিমিয়ারে বিশেষ মানুষদেরই আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। সেই কারণেই 'দুর্গাপুর জংশন'-এর প্রিমিয়ারে তিনি অংশ নেননি। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অরিন্দম ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, যদি কোনও আর্থিক দাবি বা অভিযোগ থেকে থাকে, তা সরাসরি গিল্ড বা ফেডারেশনে জানানো উচিত।
ড্রিমলাইনার এন্টারটেনমেন্টের পক্ষ থেকেও একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
১. সংস্থাটি ২০১৬ সাল থেকে একাধিক ছবি নির্মাণ করেছে এবং কোনও সময় কোনও পারিশ্রমিক বকেয়া থাকেনি। 'দুর্গাপুর জংশন'-এর ক্ষেত্রেও সব টিম মেম্বারদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।
২. কোনও সিনেমার সেন্সর সার্টিফিকেট তখনই পাওয়া যায় যখন সমস্ত টিমের আর্থিক নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়। 'দুর্গাপুর জংশন' ইতিমধ্যেই সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে, যা প্রমাণ করে কোনও দেনাপাওনা নেই।
৩. ২০২৪ সালেই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস গিল্ড এবং প্রোডাকশন ম্যানেজারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমস্ত বকেয়া মেটানো হয়েছে। ২০২৫ সালে এই অভিযোগ ওঠা রহস্যজনক।
৪. মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়কে সংস্থার তরফে আহ্বান জানানো হয়েছে, প্রযোজনা টিম ও গিল্ডের সঙ্গে বসে কোনও সমস্যার সমাধান করতে।
অরিন্দম ভট্টাচার্যের কথায়, ‘আমাদের কাজই আমাদের উত্তর। ২০১৬ সালে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পাওয়া থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক 'শিবপুর' ছবির একাধিক সম্মান — সবই আমাদের কাজের স্বীকৃতি। এখন সময় একসঙ্গে ভালো সিনেমার পাশে থাকার। নেতিবাচক প্রচার শিল্পের ক্ষতি করে।’
'দুর্গাপুর জংশন' ইতিমধ্যেই হলমুখী হয়েছে। তবে সিনেমার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে এর চারপাশের বিতর্ক! এখন দেখার, এই সংঘাত কোথায় গিয়ে থামে।