
শেষ আপডেট: 23 November 2023 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোটি বছর আগেও এমনটা ছিল না। নবগ্রহের সংসারে সবচেয়ে হ্যান্ডসাম তাকেই বলা হত। সাতখানা রিং যেন সপ্তমুকুট। গুরুগ্রহ বৃহস্পতির পরে রাজকীয় গ্রহ শনির গ্ল্যামারই আলাদা। জন্মলগ্নে এতটা সুদর্শন ছিল না সে। মাঝ বয়স থেকেই তার রূপ খুলতে শুরু করে। বলয়ের বেষ্টনীতে শনির দ্যুতি চোখ ধাঁধিয়ে দিত মহাকাশচারীদের। কিন্তু এখন শনিরও ‘শনির দশা’ চলছে। ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে তার বলয়। নিজের অক্ষ থেকে এমনিও ২৭ ডিগ্রি হেলে রয়েছে সে।
নাসার ক্যাসিনি ও ভয়েজার মহাকাশযানের পাঠানো ছবি ও ভিডিও থেকেই শনি গ্রহের যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়। নাসার ক্যাসিনি ঝুঁকি নিয়ে শনির বলয়ের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। সেখানে কী কী রহস্য়ময় ঘটনা ঘটে চলেছে সে খবর পাঠায় পৃথিবীতে। এই ক্যাসিনিই জানিয়েছে, শনির সপ্ত বলয়ে ঝমঝমিয়ে বরফ বৃষ্টি হচ্ছে। একে বিজ্ঞানীরা বলছেন ‘রিং রেন’। বলয়ে জমা বরফ ছিটকে বেরোচ্ছে চারদিকে। এতই বৃষ্টি হচ্ছে যে সেই বৃষ্টি আধ ঘণ্টায় ভরিয়ে দিতে পারে অলিম্পিকের আস্ত একটা সুইমিং পুল। নাসার গর্ডার্ড স্পেস সেন্টারের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাবে বরফের বৃষ্টি হয়ে চললে শনি তার সবক’টি বলয়ই হারিয়ে ফেলবে এক দিন।
শনি গ্রহের জোরালো অভিকর্ষ বল ও চৌম্বক ক্ষেত্রের টানেই বলয় থেকে বরফের বৃষ্টি হচ্ছে শনির বুকে। তবে সব সময় তা সমান হারে হচ্ছে কি না, তা বোঝা যায়নি। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর যেমন এক বছর লাগে, তেমনই শনির লাগে প্রায় সাড়ে ২৯ বছর (২৯ বছর ৪ মাস)। ওই প্রদক্ষিণের সময় সূর্যের সঙ্গে তার কৌণিক অবস্থানে শনি কখন এই সৌরমণ্ডলের নক্ষত্রের কতটা কাছাকাছি আসছে বা থাকছে বা কত ক্ষণ থাকছে, তার উপরে ওই বরফ বৃষ্টির পরিমাণে বাড়া-কমা নির্ভর করছে। শনির বলয়গুলির বয়স বেশি নয়, মাত্র ১০ কোটি বছর।

শনির বয়স আমাদের গ্রহের ধারেকাছেই। ৪০০ কোটি বছরের বেশি। তবে তার বলয় যে ভাবে দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে, তাতে বলা যায়, অল্প বয়সেই গ্ল্যামার হারিয়ে কিছুটা বুড়িয়ে যেতে পারে শনি। আনুমানিক ১৬ কোটি বছর আগে শনির একটি উপগ্রহ তার একেবারে কাছে চলে এসেছিল। শনির প্রবল মাধ্যাকর্ষণ বলে উপগ্রহটি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অসংখ্য খণ্ড হয়ে ছড়িয়ে পড়ে তার কক্ষপথ জুড়ে। শনির চারপাশে একে একে বলয় বা রিং তৈরি করে।
২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত শনিকে প্রদক্ষিণ করেছিল নাসার মহাকাশযান ক্যাসিনি। গ্রহটিকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে সে। এই ক্যাসিনিই জানিয়েছিল, শনি হল দৈত্যাকার গ্যাসীয় পিণ্ড। এর ৮৩টি গ্রহ রয়েছে। যার মধ্যে ৫৩টির নামকরণ করা হয়েছে, বাকিদের নাম নেই। শনিকে ঘিরে থাকা বলয়ে রয়েছে অসংখ্য বরফ খণ্ড, পাথুরে ধ্বংসস্তূপ ও ধুলো।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুদূর অতীতে এক সময় নেপচুনের কুদৃষ্টি পড়েছিল শনির উপর। নেপচুনের ফাঁদ থেকে বেরোতে পারেনি শনি। নেপচুনের প্রবল মাধ্য়াকর্ষণ বলের প্রভাবে শনি তার অক্ষ থেকে ২৭ ডিগ্রি বেঁকে যায়। তারপর থেকেই কিছুটা হেলে রয়েছে সে।