
চাকরির অপেক্ষায় আইআইটির মত শীর্ষমানের প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও?
শেষ আপডেট: 8 April 2024 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটিতে পড়ার সুযোগ পাওয়াটাই একটা যুদ্ধ। বিস্তর কাঠখড় পুড়িয়ে, প্রবেশিকার প্রস্তুতিতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ছাত্রছাত্রীরা আইআইটিতে ভর্তি হয় কেবলমাত্র পড়াশোনা শেষের সঙ্গে সঙ্গেই হাতে আকর্ষণীয় চাকরির অফার-লেটার পেতে। দেশের সেরা ছেলেমেয়েরাই এই তালিকায় থাকে, চলে যায় দেশ-বিদেশের নামী সংস্থায়। অথচ তথ্যের অধিকার আইনে (আরটিআই) আবেদন করে তার উত্তরের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিবেদন, রিপোর্ট খতিয়ে দেখে ধীরাজ সিংহ নামক জনৈক আইআইটি কানপুরের প্রাক্তনী জানিয়েছিলেন, আইআইটি থেকে কর্মনিয়োগের (প্লেসমেন্ট) তালিকায় রীতিমত মন্দা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৪৫%-এর কাছাকাছি আইআইটির স্নাতকরা এখনও কোনও নিয়োগপত্র হাতে পাননি।
এবার সেই দাবির ভিত্তিতেই আইআইটি মাদ্রাজের তরফে জানানো হল, চিন্তার এখনই কোনও কারণ নেই। এক বিবৃতিতে দেশের অন্যতম শীর্ষ আইআইটি জানিয়েছে, 'প্লেসমেন্ট এখনও শেষ হয়নি। এটা শেষ না হলে কিছুই বলা সম্ভব নয়। ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন রকমের আগ্রহ থাকে। সবাই যে চাকরিতে যোগ দেয়, এমন নয়। কেউ উচ্চতর শিক্ষায় যায়, কেউ নিজেদের মত করে উদ্যোগ নিতে চায়, কেউ সিভিল সার্ভিসের মত কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ চাকরির পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত হয়। ফলে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে। চলতি বছরের জুলাইতে সমাবর্তন হলে তবেই নিয়োগের প্রকৃত চিত্রটা বোঝা যাবে।'
আরটিআই আবেদনের উত্তরের ভিত্তিতে ধীরাজ দেখিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের স্নাতক হতে চলাদের মধ্যে ২১০০ জন প্লেসমেন্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ১১৫০ জন সফলভাবে নিয়োগপত্র পেয়ে গিয়েছেন। অতএব, প্রায় ৯৫০ জন এখনও চাকরির প্রস্তাব পাননি। অর্থাৎ, এই ধাঁচ চালু থাকলে ৪৫.২% ছাত্রছাত্রী এখনও নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় থাকবেন।
এই মুহূর্তে দেশে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাঠ শেষ করা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বেকারত্ব একটা জ্বলন্ত সমস্যা। ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজেশনের শ্রম সমীক্ষার রিপোর্ট দেখে অর্থনীতিবিদদের চোখে ধরা পড়েছে, স্নাতকদের ক্ষেত্রে এই বেকারত্ব ২১.৩% থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬.২%। স্নাতকোত্তরদের ক্ষেত্রে এটা আরও বেশি, প্রায় ৩৬.২%। ২০২১ সালের 'ইন্ডিয়া স্কিলস রিপোর্ট' বলছে, দেশের অর্ধেকের বেশি স্নাতকই আসলে কোনও চাকরির উপযুক্ত নন! অর্থাৎ, তাঁদের উচ্চশিক্ষা আদতে তাঁদের কোনও কাজের উপযুক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। যা রীতিমত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। এবার সেই তালিকায় আইআইটির মত শীর্ষমানের প্রতিষ্ঠানের নাম জুড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে দেশের শিক্ষামহল। যদিও, আইআইটি মাদ্রাজের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে, জুলাইয়ের পরে ছবিটা নিশ্চিতভাবেই পাল্টাবে।