.webp)
শেষ আপডেট: 19 December 2023 15:38
কলকাতায় বাসে যাতায়াতের সুযোগ আর কতদিন মিলবে, এই প্রশ্ন নগরবাসীর বহুদিনের। অনেক বছর ধরেই শহরে বাস কমে যাচ্ছে। বাস মালিকরা বলছেন, ব্যবসার অবস্থা ভাল নয়। জ্বালানির দাম, যন্ত্রপাতি সারাই খরচ, ড্রাইভার-কন্ডাক্টরদের বেতন দেওয়ার পর লাভের মুখ দেখা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে বাস কেনা বন্ধ করে দিচ্ছেন তাঁরা।
এরসঙ্গে আছে পরিবেশ রক্ষার বিধি। ১৫ বছরের পুরনো বাস শহরে চলাচল করার কথা নয়। সেই সময়সীমা অনুযায়ী আগামী মাসে বহু বাস শহর থেকে সরিয়ে নিতে হবে। ফলে বাসের আকাল এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে।
কলকাতায় যানজট অনেক কমেছে। অন্যদিকে, এখনই শহরে সাদা চোখে ধরা পরে বাসের অভাব। যানজট কমার ক্ষেত্রে নানা ভাল উদ্যোগের পাশাপাশি শহরে বাস কমে যাওয়াও একটি কারণ। ট্রাফিক সিগনালে বাসের যে ভিড় চোখে পড়ত তা অনেককাল উধাও। সেই জায়গা নিয়েছে ছোট গাড়ি, অটো, টোটো, ট্যাক্সি, প্রাইভেট কার। আছে অগুনতি বাইক। অবলুপ্তির মুখে ট্রাম। শহরের অলিগলিতে টিকে থাকা রিকশও বিলুপ্তির পথে। যানবাহন বলতে সবই দূষণ সৃষ্টিকারী যান।
পরিবেশের এই বিপদ থেকে রক্ষা পেতে আধুনিক বিশ্ব বাসের মতো গণপরিবহণকে আরও বেশি করে গুরুত্ব দিচ্ছে। নাগরিকদের বোঝাচ্ছে অন্তত সব সময় প্রাইভেট কার ব্যবহার না করে গণপরিবহণ ব্যবহার করুন। একটা বাসে পাঁচজন ভ্রমণ করতে যে দূষণ সৃষ্টি হবে, পঞ্চাশজন গেলেও তাই।
কলকাতায় দিন দিন বায়ু দূষণ বাড়ছে। দূষণ সৃষ্টির মাপকাঠিতে বছরে কিছুদিন কলকাতা এক নম্বর স্থানে থাকে। ফলে এই শহরে বাসের মতো গণপরিবহণ বাড়ানো জরুরি। তাতে দু-পয়সা ভাড়া বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সকলের জন্যই মঙ্গলদায়ক। এমনিতেই বাস মালিকরা খরচ বৃদ্ধির কথা বলে ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছেন। উঠলেই দশ টাকা। যদিও সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম ভাড়া সাত টাকা। সরকার ভাড়া না বাড়ানোর কৃতিত্ব দাবি করে থাকে। তার পরিণতিতে বাসের ব্যবসা লাটে উঠলে আদতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি যাদের অটো, টোটো, ট্যাক্সি, অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া গোনার সাধ্য নেই।
ফলে বাস যত কমবে সাধারণ মানুষকে তত বেশি বেশি ভাড়ার যানবাহনের উপর নির্ভর করতে হবে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে দূষণ। তাই সরকারের আশু কর্তব্য হল শহরে বাস বাড়ানো। অবশ্যই তা ইলেকট্রিক বাস হওয়া দরকার। শোনা যাচ্ছে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের চুক্তি হয়েছে। সেই সংস্থা শহরে বাস নামাবে। যাত্রীরা তাতে অনলাইনে টিকিট কাটতে পারবেন।
বলার অপেক্ষা রাখে না, সেই বাসের ভাড়া গোনা বেশিরভাগ যাত্রীর পক্ষেই সম্ভব হবে না। বিশেষ করে যে শহরের গরিব, মধ্যবিত্ত এবং শহরতলি থেকে রুটিরুজির জন্য আসা নিত্যযাত্রীদের পক্ষে তা হবে বড় ধরনের বোঝা। সরকারের তাই উচিত দূষণ রোধ এবং সাধারণ মানুষকে যাতায়াত খরচের বোঝা থেকে মুক্তি দিতে শহরে বাসের ঘাটতি মেটানো।