বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও, ব্লিটজে এক সেকেন্ডের ভুল যে কতটা বড় শিক্ষা দিতে পারে—দোহায় সেটাই হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিল দাবার বোর্ড।

গ্রফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 30 December 2025 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫ সালের শুরু আর শেষের মধ্যে যেন দুস্তর ব্যবধান। যা হজম করে বেজায় বেগ পেতে হচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দোম্মারাজু গুকেশকে (D. Gukesh)। দোহায় চলতি ফিডে ব্লিটজ চ্যাম্পিয়নশিপে (FIDE World Blitz Championship 2025) সাক্ষী থাকতে হল এমন এক পরাজয়ের, যা দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত দাবা দুনিয়া। প্রতিপক্ষ মাত্র ১২ বছরের, নাম সের্গেই স্ক্লোকিন (Sergey Sklokin)। সময়ের চাপে এক মুহূর্তের ভুল—আর তাতেই মর্মান্তিক হারের সাক্ষী রইলেন গুকেশ।
সময়ের চাপেই ভয়ংকর ভুল?
এদিন ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭০তম চালে। কালো ঘুঁটি নিয়ে খেলছিলেন গুকেশ। তখন ঘড়িতে মাত্র আট সেকেন্ড, স্ক্লোকিনের হাতে ১৩। পরিস্থিতি এমন, যেখানে রুক বদল করে ড্রয়ের দিকে যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ রাস্তা। স্ক্লোকিন সেই প্রস্তাবই রাখেন।
কিন্তু ড্র মানতে নারাজ গুকেশ। বরাবরের মতো লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চাল দেন (70…Rf4)। সেখান থেকেই গড়বড় শুরু। খানিকক্ষণের মধ্যেই একটি বিশপ ও শেষ পন হারান তিনি। দশ চাল শেষে, বোর্ডে কোনও সম্ভাবনা না দেখে অসহায় আত্মসমর্পণ।
রেটিংয়ের ব্যবধান, বাস্তবের ধাক্কা
সংখ্যাগুলো আরও বিস্ময়কর। ব্লিটজে গুকেশের রেটিং ২৬২৮, স্ক্লোকিনের প্রায় ২৪০০—২২৮ পয়েন্টের ফারাক। ক্লাসিক্যালে ২৭৫০-এর উপরে রেটিং নিয়ে ‘সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার’গুকেশ, আর খুদে প্রতিপক্ষ এখনও গ্র্যান্ডমাস্টার-ই নন। তবু ব্লিটজে সময় শেষ কথা। এক মুহূর্তের জেদ, এক চালের সিদ্ধান্ত—সব হিসেব গুবলেট করে দিতে পারে।
‘ড্র-কে ঘেন্না করে বলেই বিপদে পড়ল’
অফিসিয়াল ফিডে স্ট্রিমে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে গ্র্যান্ডমাস্টার মরিস অ্যাশলি চাঁচাছোলা। সোজাসাপ্টা মন্তব্য, ‘এটা সম্ভবত এই রাউন্ডের সবচেয়ে বড় ভুল। গুকেশ ড্র একেবারেই পছন্দ করে না। জেতার চেষ্টা করে সবসময়। কিন্তু এই জায়গায় ড্র-ই ছিল সেরা ফল। যে জেদ শেষ পর্যন্ত ওকে ডোবাল।’অ্যাশলির বিশ্লেষণে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নের এই মানসিকতা অনেক সময় তাঁকে দুর্দান্ত জয়ে পৌঁছে দেয়, আবার কখনও এমন অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় ডেকে আনে।
প্রত্যাশাহীন ব্লিটজ, তবু বড় ধাক্কা
গুকেশ নিজে আগেই জানিয়েছিলেন, র্যাপিড–ব্লিটজ তাঁর অগ্রাধিকার নয়। ক্লাসিক্যালেই ফোকাস বেশি। ম্যাগনাস কার্লসেনের (Magnus Carlsen) উপস্থিতিতেই প্রি-টুর্নামেন্টে বলেছিলেন, ‘এই ইভেন্টে আমি শুধু খেলতে এসেছি, উপভোগ করতে।’কিন্তু ১২ বছরের প্রতিপক্ষের কাছে এই হার নিঃসন্দেহে আলাদা করে মনে থাকবে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও, ব্লিটজে এক সেকেন্ডের ভুল যে কতটা বড় শিক্ষা দিতে পারে—দোহায় সেটাই হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিল দাবার বোর্ড।