গতকাল পরীক্ষা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার্থী দু’জন প্রশ্নপত্রের অনেক ঊর্ধ্বে। তাই ফলাফলও একপেশে। বিজয় হাজারে রোহিত–বিরাটকে যাচাই করতে পারে না—বার্তাটা পরিষ্কার।

বিরাট ও রোহিত
শেষ আপডেট: 25 December 2025 10:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নামেই পরীক্ষা। যাচাইয়ের। কিন্তু প্রশ্নপত্র নেহাতই এলেবেলে। সারমর্ম: যতটা যা শিক্ষার্থীর এলেম টেস্ট, তার চেয়েও বেশি করে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার ও পরীক্ষা পদ্ধতির মান নিয়ে সওয়াল উঠতে শুরু করেছে। বিজয় হাজারে ট্রফিতে (Vijay Hazare Trophy) রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) আর বিরাট কোহলি (Virat Kohli) গতকাল যেভাবে খেললেন, তাতে পরিষ্কার হয়ে গেল—ঘরোয়া সাদা বলের ক্রিকেট আর তাঁদের নিরীক্ষার জায়গা নয়। সবকিছু ছাপিয়ে এই টুর্নামেন্ট হয়ে উঠল বিশাল এক লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন!
এই ম্যাচগুলোতে রোহিত–বিরাট নিজেদের প্রমাণ করতে নামেননি। তাঁরা দেখিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক স্তরের অভিজ্ঞতা, ম্যাচ-রিডিং আর স্কিল একত্রে জুড়ে গেলে পার্থক্যটা কোথায় তৈরি হয়।
রোহিতের মুহূর্ত
জয়পুরের সাওয়াই মানসিংহ স্টেডিয়ামে (Sawai Mansingh Stadium) দর্শকদের ভিড়ই বলে দিচ্ছিল, ম্যাচের আকর্ষণ কোথায়। সিকিম (Sikkim) যখন ব্যাট করছিল, তখন গ্যালারিতে একটা অদ্ভুত মনোভাব—অনেকেই চাইছিল বড় রান হোক। কারণটা খুব সহজ। রান যত বেশি, রোহিত শর্মা তত বেশি সময় ধরে ব্যাট করবেন।
২৩৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে রোহিত যা করলেন, সেটাকে স্রেফ শতরানের ইনিংস বললে কম বলা হয়। এটা ছিল আসলে পরিস্থিতি-পড়া আর স্কিলের নিখুঁত প্রয়োগ। শুরুতে সময় নেওয়া, তারপর বোলারদের মান বুঝে ঝাঁপানো। ৯৪ বলে ১৫৫—সংখ্যাটা বড়, কিন্তু তার চেয়েও বড় ব্যাপার, কোথাও তাড়াহুড়ো নেই। ঝুঁকি নিয়েছেন রোহিত, কিন্তু হিসেব কষে।
এই ইনিংস দেখিয়ে দিল, ওয়ানডে ফরম্যাটে রোহিত এখনও কতটা স্বচ্ছন্দ। সিকিমের বোলিং আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানের নয়—এটা সত্যি। কিন্তু সেই দুর্বলতাকে কতটা নির্মমভাবে কাজে লাগাতে হয়, তা জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।
বিরাটের ‘চেজ মাস্টারক্লাস’
বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) ছবিটা যদিও সম্পূর্ণ আলাদা। দিল্লি বনাম অন্ধ্র (Delhi vs Andhra) ম্যাচ রুদ্ধদ্বার। গ্যালারি ফাঁকা। কিন্তু তাই বলে বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ে কোনও শূন্যতা ছিল না!
ঘরোয়া ক্রিকেটেও ২৯৯ রান তাড়া করা সহজ কাজ নয়। শুরুতে উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বিরাট নামেন। চাপ সামলানো তাঁর মজ্জাগত। আর এখানেই কোহলি আজও গুরুত্বপূর্ণ, এখনও প্রাসঙ্গিক। প্রথমে ধীরছন্দে এগোনো, সঙ্গীকে সেট হতে দেওয়া, তারপর গিয়ার বদল। ১৩১ রান করেছেন ১০১ বলে। কিন্তু আসল বিষয়টা হল, কখনও মনে হয়নি ম্যাচ হাতছাড়া হতে পারে। এটাই বিরাটের ‘চেজ মাস্টারক্লাসে’র পরিচয়। চাপকে কীভাবে নিজের পক্ষে টেনে নিতে হয়, সেটার ক্লাসরুম উদাহরণ কালকের ইনিংস। কাউকে চমক দেননি। তিনি যেটা বছরের পর বছর করে আসছেন, সেটাই মেলে ধরলেন ময়দানে। ক্রিকেটের পরিভাষায় যার নাম—ক্যালকুলেটেড ব্যাটিং!
বোর্ডের উদ্দেশ্যপূরণ, তরুণদের পাঠ
বিসিসিআই (BCCI) যে কারণে রোহিত–বিরাটকে ঘরোয়া ক্রিকেটে নামতে বাধ্য করেছে, তার একটা বড় অংশ সফল। চোখ পড়েছে বিজয় হাজারেতে। আলোচনা হয়েছে ঘরোয়া ম্যাচ নিয়ে। তরুণ ক্রিকেটাররা সামনে থেকে দেখেছে, আন্তর্জাতিক স্তরের ব্যাটাররা কীভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে এটাও ঠিক—এই মঞ্চে রোহিত–বিরাটের জন্য আলাদা করে যাচাইয়ের কিছু নেই। তাঁরা এখানে এসেছেন ম্যাচ ফিটনেস আর রিদম ধরে রাখতে। আর সেই কাজ করতে গিয়ে দুই তারকাই ধারেভারে বাকিদের থেকে কতটা এগিয়ে, তা বিলক্ষণ চোখে পড়েছে।
শেষ কথা
শেষ বিচারে গতকাল পরীক্ষা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার্থী দু’জন প্রশ্নপত্রের অনেক ঊর্ধ্বে। তাই ফলাফলও একপেশে। বিজয় হাজারে রোহিত–বিরাটকে যাচাই করতে পারে না—বার্তাটা পরিষ্কার। কিন্তু তাঁদের উপস্থিতি যে ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব বাড়ায়, তরুণদের শেখায়—তাকে অস্বীকারের উপায় নেই। প্রশ্নপত্র দুধেভাত হলেও মাস্টারক্লাস চিরন্তন।