
স্লেজিং নিয়ে ইতিমধ্যে মতান্তর শুরু হয়েছে
শেষ আপডেট: 26 December 2024 20:44
মেলবোর্ন টেস্টে উত্তেজনার পারদ ইতিমধ্যে চড়তে শুরু করেছে। আর সেই উত্তেজনাকে এক আলাদা ডাইমেনশনে নিয়ে গিয়েছেন বিরাট কোহলি। সাত-সকালেই তিনি অজি ওপেনার স্যাম কনস্টাসকে কনুইয়ের ধাক্কা মেরে মুচমুচে বিতর্ক তৈরি করেছেন। আর শীতের এই নরম দুপুরবেলা অফিস থেকে পাড়ার ঠেক, সব জায়গায় আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
আদৌ কি ঠিক করেছেন বিরাট? সেই উত্তর অবশ্যই আপেক্ষিক। কেউ বলছেন, 'এভরিথিং ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার।' কারোর মন্তব্য, বিরাটের অতিরিক্ত আগ্রাসন আদতে ক্রিকেটের কৌলিন্য কেড়ে নিচ্ছে।
সাতের দশকের মাঝামাঝি ক্রিকেটে এই 'স্লেজিং' শব্দটার জন্ম হয়েছিল। জন্ম দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমই। ১৯৬৪-৬৫ মরশুমের শেফিল্ড শিল্ড চলাকালীন কথাটা প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপর নদীর জল অনেকদুর গড়িয়েছে। আজ ক্রিকেট ময়দানে এমন কোনও দেশ নেই, যারা এই স্লেজিং করে না। তাহলে শুধুমাত্র বিরাটকে দোষ দিয়ে আদৌ কোনও লাভ আছে?
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এই স্লেজিং ব্যাপারটা আসলে রাজনীতির মতো। যে যত বেশি পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ হবেন, বিপক্ষ শিবিরে তিনি ততই বেশি মানসিক আঘাত করতে পারবেন। কেউ কেউ তো আবার বলেন যে স্লেজিংয়ে চোস্ত হলেই অর্ধেক ম্য়াচ নাকি পকেটে পুরে নেওয়া যায়।
এই প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক স্টিভ ওয়ার একটা কথা মনে পড়ে গেল। তখন বিশ্ব ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার দাপট চোখে পড়ার মতো ছিল। একের পর এক টেস্ট ম্য়াচ জিতে স্টিভের দল ক্রিকেট বিশ্বে সাম্রাজ্য কায়েম করছে। সেইসময় দাঁড়িয়ে স্টিভ মন্তব্য করেছিলেন স্লেজিং ব্যাপারটা একধরনের মেন্টাল ডিসইন্টিগ্রেশন। সহজ বাংলায় বুঝতে গেলে, যুদ্ধের আগেই বিপক্ষ মস্তিষ্কের উপর প্রভাব বিস্তার করা যাতে আরও বেশি করে চাপ তৈরি করা যেতে পারে। তবে একথা আলাদা যে ২০০১ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নামে একজন অধিনায়কের সামনে তাঁকে পড়তে হয়েছিল।
শুধু স্টিভ ওয়া? ২০০৮ সালে এই স্লেজিং করার কারণে শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক অর্জুন রণতুঙ্গাকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি আবার একটা একটা 'শিল্প' বলে মনে করতেন। এমনকী, সচিন তেন্ডুলকরও তাঁর আত্মজীবনী 'প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে'-তে এই ব্যাপারটা উল্লেখ করে গিয়েছেন। যদিও তিনি মনে করেন, শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে বিপক্ষ দলকে স্লেজ করা যেতে পারে।
আজ দিন বদলেছে। সময় বদলেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও অনেকটা বদলে গিয়েছে। এই নয়া আঙ্গিকে স্লেজিং ছাড়া ক্রিকেট যেন কল্পনাই করা যায় না। মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও একে অপরকে চাপ দেওয়ার খেলা চলতে থাকে। অনেকেই হয়ত বলবেন যে ক্রিকেট তো জেন্টলম্যান'স গেম। এইসব আচরণ আসলে খেলার 'শিভ্যালরি' নষ্ট হচ্ছে। জেন্টলম্যান'স গেমে এমন রাউডিবাজি একেবারেই মানায় না। কিন্তু, বছর দশেক আগে যে বাজারমূল্যে আপনার সংসার চলত, তাতে কী আজ আর মাসের প্রথম ১০ দিনও চলে? হিসেবটা আপনারাই করবেন।