
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান
শেষ আপডেট: 2 October 2024 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কেরিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটা খেলতে চান সাকিব আল হাসান। সঙ্গে এও যোগ করেছিলেন, বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা দিলে তবেই দেশে ফিরবেন তিনি। কিন্তু, শেষপর্যন্ত নিরাপত্তার আশ্বাস পেলেন না বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই তারকা অলরাউন্ডার। সেকারণে ভারত থেকে তিনি সোজা আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দিলেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কানপুরেই কি কেরিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটা খেলে ফেললেন সাকিব? সেই জবাব এখনও পর্যন্ত অধরাই রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে আপনাদের জানিয়ে রাখি, সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় টাইগারবাহিনী। প্রথম টেস্ট ম্যাচে ২৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারার পর, দ্বিতীয় টেস্ট ম্য়াচেও ৭ উইকেটে তারা হেরে যায়।
উল্লেখ্য, কানপুর টেস্ট চলাকালীনই সাকিব ঘোষণা করেছিলেন যে লাল বলের ক্রিকেট থেকে তিনি এবার অবসর গ্রহণ করতে চান। তবে তাঁর একান্ত ইচ্ছে, কেরিয়ারের শেষ টেস্ট ম্য়াচটা তিনি ঢাকার শের-এ-বাংলা স্টেডিয়ামে খেলতে চান। বাংলাদেশ পরবর্তী টেস্ট সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলতে নামবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে গণ অভ্যুত্থানের পর থেকেই সাকিব আর দেশের মাটিতে পা রাখেননি। বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ খেলার জন্য বিদেশেই আপাতত রয়েছেন তিনি। ক্রিকেটারের পাশাপাশি সাকিবের একটি রাজনৈতিক সত্ত্বাও রয়েছে। তিনি মাগুরা আসন থেকে নির্বাচনে লড়াইও করেন।
বাংলাদেশে গণ অভ্যুত্থানের সময় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এই ঘটনায় পরিস্থিতি রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। সবথেকে বড় ব্য়াপার, এই হত্যাকান্ডে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়েছিল। এখন আশঙ্কা, সাকিব যদি বাংলাদেশে ফেরেন, তাহলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সেকারণেই তিনি নিরাপত্তা চেয়েছিলেন।
কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের যুব এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়ে দেন যে দেশের অন্য ক্রিকেটারদের যতটা নিরাপত্তা দেওয়া হয়, সাকিবকেও সেই নিরাপত্তাই দেওয়া হবে। তার বাইরে আর কোনও নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে সাকিব দেশে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। তবে এবার যখন সাকিব আমেরিকা ফিরে গেলেন, তখন ধরে নেওয়া যেতেই পারে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবেন না তিনি। এই পরিস্থিতিতে কানপুর টেস্টের পরই যদি তিনি নিজের কেরিয়ারে পর্দা টেনে দেন, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।