
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সতীর্থদের সঙ্গে সাকলিন মুস্তাক
শেষ আপডেট: 10 September 2024 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাকলিন মুস্তাক। পাকিস্তানের এই স্পিন বোলারকে চেনেন না, এমন সমর্থক গোটা ক্রিকেট বিশ্বে খুব কমই রয়েছেন। শুধুমাত্র স্পিনের জাদুতেই তিনি বিপক্ষের তাবড় তাবড় ব্যাটারদের কাবু করতেন না, 'দুসরা' ডেলিভারিতে ঘায়েলও করতেন। সেকারণেই তাঁকে দুসরা ডেলিভারির জনকও বলা হয়ে থাকে।
তবে কয়েক বছর আগে তিনি ব্যক্তিগত জীবনের এমন একটা সত্য ফাঁস করেন যা শোনার পর গোটা ক্রিকেট বিশ্ব কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। সাকলিন জানিয়েছিলেন, ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডে আয়োজিত বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট চলাকালীন তিনি নিজের স্ত্রী'কে হোটেলের ঘরে আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
রৌণক কাপুরের শো 'বিয়ন্ড দ্য ফিল্ড' অনুষ্ঠানে কয়েকবছর আগে এসেছিলেন সাকলিন মুস্তাক। সেখানে তিনি এই গোপন কথাটি ফাঁস করেন। পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি স্পিনার বললেন, টুর্নামেন্টের মাঝপথেই আচমকা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আদেশ দেওয়া হয়, পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। কিন্তু, বোর্ডের এই নির্দেশ কার্যত তোয়াক্কাই করেননি তিনি। এই অনুষ্ঠানেই তিনি নিজের স্ত্রী'কে আলমারিতে লুকোনোর ব্যাপারটা খোলসা করেন।
তিনি বললেন, '১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর মাসে আমার বিয়ে হয়েছিল। আমার স্ত্রী লন্ডনেই থাকত। সেকারণে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে আমি স্ত্রী'র সঙ্গেই ছিলাম। প্রতিদিন কঠিন অনুশীলন করতাম এবং দিনের বেলা নিয়ম করে পেশাদার ক্রিকেটারের মতোই ট্রেনিং করতাম। রাতে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটাতাম। কিন্তু, বোর্ডের পক্ষ থেকে আচমকা নির্দেশ দেওয়া হয় যে পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। আমি ক্রিকেট দলের কোচকে একথা জিজ্ঞাসাও করেছিলাম যে সবকিছু যখন ঠিকঠাক চলছিল, তখন কেন এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল।'
সেইসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেছেন, 'পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ম্যানেজার এবং আধিকারিকরা আমাদের ঘরে তল্লাশি করতে এসেছিলেন, তখন আমি স্ত্রী'কে আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলাম। ম্যানেজার এবং কোচ মাঝেমধ্যেই এসে আমাদের ঘরে তল্লাশি করতেন। কয়েকজন ক্রিকেটার আবার কথা বলতেও আসতেন। একদিন যখন আমি দরজায় ধাক্কা দেওয়ার শব্দ শুনলাম, তখন আমি স্ত্রী'কে বলেছিলাম যে তাড়াতাড়ি আলমারির মধ্যে লুকিয়ে পড়ো। প্রথমে ম্যানেজার এসে সবকিছু দেখে চলে যায়। এরপর অপর একজন আধিকারিক আসেন, তিনিও ফিরে যান। এরপর আজহার মেহমুদ এবং ইউসুফ নতুন নিয়মের ব্যাপারে আমার সঙ্গে কথা বলতে আসে। ওরা সন্দেহ করেছিল যে আমার স্ত্রী ওই ঘরের মধ্যেই রয়েছেন। আমাকে জোরাজুরি করতেই সত্যিটা বলে ফেলি। অবশেষে স্ত্রী'কে আলমারি থেকে বেরিয়ে আসতে বলি।'