Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

চোদ্দোতেই রঞ্জি টিমের সহ-অধিনায়ক! বৈভবকে নিয়ে এতখানি তাড়াহুড়োয় হিতে বিপরীত হবে না তো?

ভাবুন তো—একজন ১৪ বছরের ছেলে, যার গা থেকে স্কুলের গন্ধ মোছেনি, হঠাৎ যদি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে ড্রেসিংরুমে বসে, কোচের ব্রিফিং শোনে, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায়—সে মানসিক চাপ সামলাবে কীভাবে? 

চোদ্দোতেই রঞ্জি টিমের সহ-অধিনায়ক! বৈভবকে নিয়ে এতখানি তাড়াহুড়োয় হিতে বিপরীত হবে না তো?

বৈভব সূর্যবংশী

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 14 October 2025 14:47

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোদ্দো বছরে আইপিএলের স্কোয়াডে ঢুকে পড়া কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। কিন্তু বৈভব সূর্যবংশীর মানেই তো ‘অ-ভূতপূর্ব’ কিছু। তেরো বছর বয়সে রাজস্থান রয়্যালসের নেটে মুখ দেখানো, পরের মরশুমে রঞ্জি ট্রফিতে বিহারের সহ-অধিনায়ক, পুরুষদের টি-২০ ক্রিকেটে বিশ্বের কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান… ৩৫ বলেই শতক!

এমন একের পর এক অর্জন কেবল রেকর্ড নয়, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিতও বটে। তবু, এই তীব্র উত্থান যতটা আশা জাগাচ্ছে, ঠিক ততটাই উসকে দিচ্ছে পিছলা পড়া, হারিয়ে যাওয়ার ভয়ও! রকেটের গতিতে লঞ্চ করেছেন বৈভব। কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত তো? বেসামাল উড়ান ল্যান্ড করার আগে স্রেফ ব্রেক না কষে ধরার মাশুল গুনে অতলে গড়িয়ে যাবে না তো? এমন অজস্র প্রশ্ন কিন্তু সংশয়ীদের মনে ইতিমধ্যে দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। বয়স মাত্র ১৪। জন্ম ২০১১ সালের মার্চে। কিন্তু ব্যাট হাতে যেন সময়ের চেয়েও পরিণত। বাঁ-হাতি ব্যাটার, চোখে-চোখে স্পিন খেলা, পেসারদের পুল করে মারার আত্মবিশ্বাস—সবই চমকে দেয়। এমনকি নেটে তাঁর খেলার ভিডিও দেখে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার পর্যন্ত বলে উঠেছেন, ‘ছেলে অনেক দূর যাবে!’ কিন্তু কতটা দূর, কত তাড়াতাড়ি? এই হচ্ছে আসল প্রশ্ন।

বৈভব এখন দেশের ক্রিকেট মিডিয়ার প্রিয় সন্তান। প্রতিটি ম্যাচে ক্যামেরা তাঁকে খোঁজে, সোশ্যাল মিডিয়া তাঁর পরিসংখ্যান গোনে, ইউটিউব শর্টসে ব্যাটিংয়ের ক্লিপে লাখ লাখ ভিউ। টুইটারে পোস্ট হয়—“পরবর্তী কোহলি?” কিংবা “ভারতের বিস্ময় প্রতিভা!” কিন্তু এমন প্রচারের চাপ, এহেন প্রত্যাশার ওজন—একজন কিশোরের জন্য কতটা ন্যায্য? কতটা ক্ষতিকর?

অতীতে ভারতীয় ক্রিকেট এমন অনেক ‘বিস্ময়’ দেখেছে। প্রত্যেক প্রজন্মে এক-দু’জন করে চোখধাঁধানো প্রতিভাবান এসেছে, যাদের গায়ে ‘নেক্সট বিগ থিং’য়ের লেবেল সেঁটে দেওয়া হয়েছে। তাঁদেরই কেউ হয়ে উঠেছেন বিরাট কোহলি, আবার কেউ বিস্মৃতির আঁধারে হারিয়ে গেছেন। প্রতিভা মানেই সফলতা নয়। তা যদি সময় না পায়, পরিণতি না দেখে, তাহলে অকালে মুছে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। বৈভবের ক্ষেত্রে সেই আশঙ্কা জেগে উঠছে!

তাঁকে রঞ্জি দলে সহ-অধিনায়ক করেছে বিহার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। এটা নিঃসন্দেহে বড় সম্মান। কিন্তু পাশাপাশি বিরাট ঝুঁকিও। নেতৃত্ব মানে কেবল মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়—দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, প্র্যাকটিসে পরিকল্পনা করা, মিডিয়ার মোকাবিলা, ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণ—এই চাপ সামলানো কি এক চোদ্দো বছরের কিশোরের পক্ষে সম্ভব? যখন তাঁর সহ-খেলোয়াড়দের অনেকে বয়সে দ্বিগুণ, তখন এই ফারাকই প্রবল মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ভূমিকা তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বৈভবকে আলোয় এনে নয়, বরং আড়ালে রেখে তৈরি করতে হবে। সময় দিতে হবে শেখার, বোঝার, ঘাম ঝরানোর… এমনকি ভুল করার! তাঁকে পাঠানো উচিত এনসিএ-তে, যেখানে তরুণ ক্রিকেটারদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের উপর নজর দেওয়া হয়। একজন ১৪ বছরের ব্যাটারের দেহ বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি ধাতস্থ হয়ে ওঠে না। প্রতিদিনের কড়া ট্রেনিং, লম্বা ইনিংস, মানসিক ক্লান্তি—সব মিলিয়ে শরীরের উপর নিয়ত চাপ বাড়ে। তাই ধাপে ধাপে এগোনোই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পন্থা।

দেখতে গেলে, প্রতিটি সফল ক্রিকেটারের আড়ালে থাকে দীর্ঘ প্রস্তুতির গল্প! বিরাট কোহলি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঢোকার আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা তিন বছর খেটেছেন। শুভমান গিল তিন সিজন রঞ্জিতে রান না হাঁকালে ভারতীয় দলে আসতেন কি? এমনকি সচিনও, ১৬ বছর বয়সে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক করলেও, তাঁর পিছনে ছিল বহু স্কুল ম্যাচ, ক্লাব টুর্নামেন্ট, শত শত ঘণ্টার অনুশীলনের রসদ। বৈভবের ক্ষেত্রে এই জ্বালানিটা খুব জরুরি। প্রতিভা এক জিনিস, পরিণতি অন্য। তার জন্য রসদ মজুত রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।

এখনই যদি তাঁকে সিনিয়র দলের পরিবেশে ঠেলে দেওয়া হয়, তার সাফ অর্থ: অসম লড়াইয়ে নামানো। ভাবুন তো—একজন ১৪ বছরের ছেলে, যার গা থেকে স্কুলের গন্ধ মোছেনি, হঠাৎ যদি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে ড্রেসিংরুমে বসে, কোচের ব্রিফিং শোনে, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায়—সে মানসিক চাপ সামলাবে কীভাবে? আর যদি ব্যর্থ হয়, সেটার অভিঘাতও তাঁর আত্মবিশ্বাসে কী চূড়ান্ত ফাটল আনতে পারে!

বৈভবের ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাঁর ফ্লিকে টাইমিং, সাহসি পুল, আর অফ-সাইডে শট সিলেকশনে এক অদ্ভুত পরিণতি স্পষ্ট। যে কাউকে তাক লাগাবে। কিন্তু ক্রিকেট শুধু দক্ষতার খেলা নয়; এটা মানসিক স্থিতি আর ধারাবাহিকতার লড়াইও বটে। আগামী পাঁচ বছর বৈভবের পরীক্ষার সময়। এখানেই বোর্ডের দায়িত্ব—ওকে ঢেকে রাখা, ওর উপর ‘অগাধ প্রতিভা’-র উপর প্রত্যাশার বোঝা না চাপানো।

রাজস্থান রয়্যালসও আপাতত ওকে নিয়ে সচেতন পদক্ষেপ নিয়েছে। মূল দলের পাশপাশি ট্রেনিং ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছেন বৈভব, অভিজ্ঞদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। এটা নিখুঁত সিদ্ধান্ত। এমন পরিবেশে শেখা যায়, পুড়ে যাওয়ার ভয় নেই। তাই বৈভবকে ধীরে ধীরে ভারতের এ টিম, তারপর অনূর্ধ্ব-২৩, তারপর ঘরোয়া সিরিজে পরিপক্ব করে তোলা উচিত।


```