এই প্রত্যাখ্যানের সাদা মানে একটাই—রাজস্থান রয়্যালস মনে করছে দলের আসল মূল্য টেবিলে আসা অঙ্কের চেয়েও অনেক বেশি!

রাজস্থান রয়্যালস
শেষ আপডেট: 20 March 2026 10:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রির বাজারে বড় নাটক। রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals) ১৭০ কোটি ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। এনডিটিভির সূত্র জানাচ্ছে, আমেরিকা ও কানাডায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিনিয়োগ সংস্থা কলম্বিয়া প্যাসিফিক ক্যাপিটাল পার্টনার্সের (Columbia Pacific Capital Partners) তরফ থেকে এই অফার এসেছিল। এমনকি মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল তারা। তবু না বলে দিল রাজস্থান।
এই প্রত্যাখ্যানের সাদা মানে একটাই—রাজস্থান রয়্যালস মনে করছে দলের আসল মূল্য টেবিলে আসা অঙ্কের চেয়েও অনেক বেশি!
কেন প্রত্যাখ্যান?
১৭০ কোটি ডলারের প্রস্তাব নেহাত ছোট নয়। এই অঙ্কে কেনা হলে রাজস্থান রয়্যালস আইপিএলের সবচেয়ে দামি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটি হতে পারত। তবু বোর্ড রাজি হয়নি। কারণ দুটো। প্রথমত, মূল্য যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয়ত, প্রস্তাবের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়—অর্থাৎ, এত বড় লেনদেন সফলভাবে শেষ করার ক্ষমতা আছে কিনা, সেই নিয়ে প্রশ্ন।
রাজস্থান রয়্যালসের আসল মালিকানা মনোজ বাদলের এমার্জিং মিডিয়া ভেঞ্চার্সের কাছে—৬৫ শতাংশ। সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারী হিসেবে আছে রেডবার্ড ক্যাপিটাল। এই মালিকরা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন—সঠিক দাম ও সঠিক ক্রেতা চাই। তার জন্য তাঁরা অপেক্ষা করতে রাজি।
আরসিবির দাম বাড়বে?
এই প্রত্যাখ্যানের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (Royal Challengers Bengaluru) বিক্রিতে। বাজার বিশেষজ্ঞদের নজরে, ব্র্যান্ড ভ্যালু, সমর্থকভিত্তি ও বাণিজ্যিক আকর্ষণের দিক থেকে আরসিবি রাজস্থানের চেয়ে অন্তত ১৫ শতাংশ বেশি দামি। রাজস্থান ১৭০ কোটির নিচে আসতে রাজি নয়—সেই হিসেবে আরসিবির দাম কমপক্ষে ২০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এনডিটিভির আগের রিপোর্ট বলছে, মণিপাল হাসপাতালের রঞ্জন পাই, আমেরিকান প্রাইভেট ইকুইটি সংস্থা কেকেআর ও সিঙ্গাপুরের তেমাসেক মিলিয়ে একটি কনসোর্শিয়াম বিরাটদের ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার দৌড়ে এগিয়ে।
উল্লেখ্য, দামের নিরিখে আইপিএল (IPL) এখন বিশ্বের দ্বিতীয় মূল্যবান ক্রীড়া লিগ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, নতুন বাজার ও একাধিক ফরম্যাটে বিস্তারের সম্ভাবনার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখানে টাকা ঢালতে উদগ্রীব। এই পরিস্থিতিতে রাজস্থানের প্রত্যাখ্যান একটাই বার্তা দিচ্ছে—ভরা বাজারে তাদের দাম তলানিতে ঠেকেনি।