অভিজ্ঞতা ও মাটি কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতার জন্য কি চেতেশ্বর পুজারা ও অজিঙ্কা রাহানেকে দলে ফেরানো উচিত নয়? বিশেষ করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে, যেখানে ভারতের ব্যাটিং ইউনিট তুলনামূলকভাবে নবীন এবং অপ্রতিষ্ঠিত।

রাহানে ও পুজারা
শেষ আপডেট: 16 May 2025 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মার লাল বলের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর (Test Cricket Retirement) অনেকেই মনে করছেন ভারতের টেস্ট ক্রিকেট ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও খাদের কিনারায়। এই দুই মহাতারকার অবসরে ভারতের টেস্ট ক্রিকেটে এক যুগের অধ্যায় শেষ হয়েছে। এদিকে, সামনেই ইংল্যান্ড সফর (Engalnd Tour)। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন সেই সিরিজ যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে টিম ইন্ডিয়ার (Indian Cricket Team) কাছে।
আসন্ন সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC) ২০২৫-২৭ চক্রের প্রথম সিরিজ। তাই গুরুত্ব যথেষ্ট বেশি। ইংল্যান্ডের ওয়েদারে ইংলিশ পেসারদের সামলানো বরাবরই কঠিন কাজ। গত কয়েক বছর ধরে সেই কাজটা করে আসছিলেন কোহলি, রোহিত, চেতেশ্বর পুজারা (Cheteswar Pujara), অজিঙ্কা রাহানেরা (Ajinkya Rahane)। কিন্তু এবার বিরাট, রোহিত অস্তাচলে, আর গম্ভীর জামানায় ব্রাত্য পুজারা, রাহানে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, শুভমান গিল, যশস্বী জয়সওয়ালদের প্রতিভা থাকলেও তাঁরা ইংল্যান্ডের পরিবেশে নিজেদের কতটা প্রমাণ করতে পারবেন।
তারুণ্যের প্রতি ভরসা রাখেন ভারতের হেডকোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। তাই তাঁর দলে স্থান হয়নি পুজারা, রাহানেদের। অনেকেরই অভিমত, রোহিত-বিরাটদের সরে যাওয়ার পিছনেও রয়েছে চানক্য গম্ভীরের মস্তিষ্ক।
পুজারা ও রাহানেকে ছেঁটে ফেলে গম্ভীর জামানায় টেস্টে মিডল অর্ডার নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। সরফরাজ খান, নীতিশ রেড্ডি, দেবদত্ত পাড্ডিকালের মতো তরুণদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বর্ডার-গাভাসকার ট্রফি ও দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতে হয়েছে। আসন্ন ইংল্যান্ড সফরে রোহিত, বিরাটও নেই। তাই প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অনেকেই বলছেন, দ্রুত ফেরানো উচিত রাহানে ও পুজারাকে।
জাতীয় দলের প্রাক্তন ওপেনার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া (Aakash Chopra) প্রশ্ন তুলেছেন, অভিজ্ঞতা ও মাটি কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতার জন্য কি চেতেশ্বর পুজারা ও অজিঙ্কা রাহানেকে দলে ফেরানো উচিত নয়? বিশেষ করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে, যেখানে ভারতের ব্যাটিং ইউনিট তুলনামূলকভাবে নবীন এবং অপ্রতিষ্ঠিত।
পুজারা ও অজিঙ্কা রাহানে বহুদিন ধরেই ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের মিডল অর্ডার সামলেছেন। বহুম্যাচে দলকে খাদের কিনারা থেকে তুলে এনে জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছেন। পুজারা ১০৩ টেস্টে ৭১৯৫ রান করেছেন ৪৩.৬ গড়ে। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১৯টি শতক ও ৩৫টি অর্ধশতরান। অন্যদিকে, রাহানে খেলেছেন ৮৫ টেস্ট ম্যাচ। করেছেন ৩৮.৫ গড়ে ৫০৭৭ রান, রয়েছে ১২টি সঞ্চুরি ও ২৬টি অর্ধশতক।
২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়। তবে সম্প্রতি তাঁরা আবার ঘরোয়া ক্রিকেট ও কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিকভাবে রান করেছেন। রাহানে রঞ্জি ট্রফি ২০২৪-এ মুম্বইকে নেতৃত্ব দিয়ে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। করেছেন ১২ ইনিংসে ৪৩৭ রান। পুজারাও ইংল্যান্ডে কাউন্টিতে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন।
রাহানে এবারের আইপিএলে কেকেআরকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত নাইটদের সর্বোচ্চ রান এসেছে তাঁরই ব্যাট থেকে। তাই আকাশ চোপড়া মনে করছেন, এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে কখনওই হেলাফেলা করা উচিত নয়।
আকাশ চোপড়া তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, “যদি বিরাট কোহলি না যান, এবং রোহিতও না থাকেন, তবে শুধু এই সিরিজের জন্য পুজারা বা রাহানেকে আনা কি সম্ভব নয়? যদি এটি অন্য কোনও সফর হতো, তবে আমি বলতাম তরুণদের সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু ইংল্যান্ড সফর ভিন্ন—এখানে অভিজ্ঞতা জরুরি।”
আকাশের অভিমত, যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুল ইনিংসের সূচনা করবেন। শুভমন গিল চার নম্বরে নামতে পারেন, যার ফলে তিন নম্বর পজিশন খালি থাকবে, যেখানে পুজারা বা রাহানের সুযোগ পাওয়া উচিত। পাঁচে ঋষভ পন্থ ও ছয়ে নীতিশ কুমার রেড্ডি খেলবেন। এরপর সাত নম্বরে রবীন্দ্র জাদেজা। এই ব্যাটিং অর্ডারের একটা স্থানে পুজারা বা রাহানে ফিট হতে পারেন।
তবে আকাশ চোপড়া নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। বলেন, “আমার মনে হয় না নির্বাচকেরা সেই পথে হাঁটবেন। তাঁরা হয়তো সাই সুদর্শনকে তিনে খেলাতে পারেন, তারপর গিল, পন্থ, রেড্ডি ও অন্য তরুণদের নিয়ে দল সাজাতে পারেন। এভাবে চললে পুজারা-রাহানের জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।”