Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য করতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশু

'প্রিয়, ফুল খেলিবার দিন নয় অদ্য...', ইতিহাসের মুখোমুখি বিরাটদের আরসিবি

আট ম্যাচে সাতটায় হার। লিগ টেবলের একেবারে তলার সিটে তারা গ্যাঁট হয়ে বসে। সেখান থেকে টানা ছয় ম্যাচে জয়। ইতিহাস গড়ে নেট রানরেটের অঙ্কে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে আইপিএলের শেষ চারে চলে যাওয়া। আরসিবির গ্রেটেস্ট কামব্যাক, আইপিএল ইতিহাসে বেনজির রেকর্ড!

'প্রিয়, ফুল খেলিবার দিন নয় অদ্য...', ইতিহাসের মুখোমুখি বিরাটদের আরসিবি

ইতিহাস গড়ে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে আইপিএল শেষ চারের জায়গা পাকা করে ফেলল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। (ছবিঃ এএফপি / গেটি ইমেজেস)

শেষ আপডেট: 19 May 2024 16:42

সৌরদীপ চট্টোপাধ্যায় 

'বন্যেরা বনে সুন্দর, আরসিবি সবার শেষে।' বা ধরুন, 'ব্যাট-বল দিয়ে আর হবে না ভাই! বুলডোজার বা জেসিবি-টেসিবি লাগবে। নয়ত আরসিবিকে তোলা সম্ভব নয়।' আপনাদের পরিচিত কোনও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু সমর্থক থাকলে, তাকে এইসব খোঁচাগুলো মেরেছেন নিশ্চয়ই? আইপিএলের অন্যতম সমর্থক-পুষ্ট দল। বিরাট কোহলি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ফ্যাফ দুপ্লেসিদের মত তারকারা খেলেন। এককালে খেলে গিয়েছেন এবি ডেভিলিয়ার্স, শ্রীমন্মহারাজ সম্রাট ক্রিস গেইল। আজ দশ বছর পার করেও ২০১৩ সালে পুণে ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে তাঁর সেই বিধ্বংসী ১৭৫ নট আউট ইনিংস এখনও অনেকে মনে করতে পারবেন। অথচ তিনবার ফাইনালে উঠলেও একবারও আইপিএল জিততে পারেনি। উলটে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রান করার রেকর্ড তাদের। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ২০১৭-তে ৪৯ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছিল আরসিবি। এই মরসুমে আবার সবচেয়ে বেশি রান খাওয়ার রেকর্ডও করে নিয়েছে তারা। চিন্নাস্বামীতে বেধড়ক পিটিয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোর ২৮৭ করে গিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। 

কিন্তু গতকালের পর তো আরও একটা শিরোপা যোগ করতে হবে আরসিবির নামের পাশে। আইপিএলের ইতিহাসে গ্রেটেস্ট কামব্যাক! 

প্রথম আট ম্যাচের সাতটায় হার! স্রেফ এই একটা বিশেষণে কি আরসিবিকে ধরা যায়? বিরাট কোহলি নিজে নিয়মিত রান পাচ্ছেন। শুরু থেকে মাথায় কমলা টুপি পরে খেলছেন। দরকার পড়লে দীনেশ কার্তিক, রজত পতিদাররাও খেলে দিচ্ছেন। স্ট্রাইক রেট ঈর্ষণীয়। বলে মহম্মদ সিরাজ নজর কাড়ছেন। অথচ জয় নেই। বাকি সব টেবিলে নামা-ওঠা করছে। শুধু আরসিবি বাদে। একেবারে তলার সিটে তারা গ্যাঁট হয়ে বসে। কোনও নড়াচড়া নেই। সমাজমাধ্যমে রসিকতা ঘুরছে, সূর্য পশ্চিমে ডুববে আর আরসিবি সবার শেষে থাকবে, এ' আর আশ্চর্যের কী? অথচ সমর্থকরা তখনও হতোদ্যম নন। তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের রাজধানী বেঙ্গালুরুর সাদা কালো দোলাচলে থাকা চিন্নাস্বামীর গ্যালারিতে উপচে পড়ে লাল-নীল ভিড়। 

ছবিটা সম্ভবত বদলাতে শুরু করে গত ২১ এপ্রিল, রোববার। কলকাতায় সেদিন ৪২ ডিগ্রিতে হাঁফধরা গরম। কাঠফাটা রোদে রাসবিহারী থেকে শ্যামবাজার দুপুর বারোটা বাজলেই শুনশান। অথচ ইডেনে সাড়ে তিনটের ম্যাচ দেখতে ধর্মতলা চত্বর কার্যত জনসমুদ্র! ওই একটাই নাম, বিরাট কোহলি, ওই একটাই দল, আরসিবি! ইডেনে কলকাতার খাসতালুকে লিগ টেবিলের শেষে ধুঁকতে থাকা একটা দলের জন্য হৃদয় উজাড় করে ভিড় জমিয়েছিল কলকাতা। বাকিটা সবাই দেখেছেন। ফিল সল্ট-শ্রেয়স আইয়ারদের ২২২ তাড়া করতে নেমে রজত পতিদার-উইল জ্যাকসরা পাল্টা ঝড় তুলে দিয়েছিলেন ইডেনে। শেষ ওভারে নেহাত কর্ণ শর্মার কপাল খারাপ না থাকলে ওই ম্যাচ জিতেই বেঙ্গালুরুর বিমান ধরত আরসিবি। 

কিন্তু তারপরেই যে কী হয়ে গেল, ঠিক ক্রিকেটীয় যুক্তিতেও মেলানো যায় না সবসময়। 

শেষ চারের জায়গা পাকা করার পরে উল্লাস বিরাট-ফ্যাফদের। (ছবিঃ বিসিসিআই) 

আট ম্যাচে সাতটায় হার। সেখান থেকে টানা ছয় ম্যাচে জয়। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সেই বিধ্বংসী ইনিংসের জবাব সুদে-আসলে মেটানো হল হায়দরাবাদের ঘরের মাঠে। খেলতেই পারলেন না 'ট্র্যাভিষেক' জুটি। পর পর দুই ম্যাচ, হোম-অ্যাওয়েতে গুজরাতকে হারিয়ে আসা। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ২৪১ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা! সেই তারিণীখুড়োর ক্রিকেটার হওয়ার গল্প মনে করিয়ে দেয়। যেন আরসিবির ব্যাটে ভর করলেন আলেকজান্ডারের মত কোনও দিগ্বিজয়ী বীর! লিগ টেবিলের তলা থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা ওপরে। শেষে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে চুলচেরা হিসেব আসে নেট রানরেটের। জিতলে শেষ চারে যাবে চেন্নাই। অল্প ব্যবধানে হারলেও উঠবে চেন্নাই। বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে গেলেও চলে যাবে চেন্নাই। শুধু ১৮ রানের বেশি ব্যবধানে জিতলে বা রান তাড়া করলে ১১ বল বাকি রেখে জিতলে, বাজিমাত করবে আরসিবি।

প্রখর গরমে চলা আইপিএলের গোটা মরসুম জুড়ে প্রবল দাবদাহ ছিল উত্তর থেকে দক্ষিণে। অথচ শেষ মুহূর্তে এসে নাটকের বড় অংশ হয়ে গেল বৃষ্টি। পর পর ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাচ্ছে। গতকালও তিন ওভার খেলার পর ঝমঝমিয়ে নামল আকাশ ভাঙা বৃষ্টি।

মাননীয় পাঠক, আপনি কি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন? নাকি মনে করেন, ভাগ্য বলে কিছু হয় না, সবটাই কাজের ওপর নির্ভর করে? যদি আপনি দ্বিতীয় দলে পড়েন, তাহলে এই অংশ আপনার জন্য নয়। আপনি হয়ত বলবেন, ওই আট ম্যাচের সাতটায় না হারলে আজ তো বৃষ্টি দেখে বুক কেঁপে উঠত না! কিন্তু পাঠক, জীবন তো এরকমই। সাফল্য সবসময় পাশে থাকে না। সাফল্যের রাস্তায় হঠাৎ নেমে আসে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি। হাজার চেষ্টাতেও শেষ মুহূর্তে সব হিসেব এলোমেলো হয়ে যায়। প্রথম দলে যদি পড়েন, তাহলে হয়ত মানবেন, ভাগ্য আরসিবির সঙ্গে সবসময় থাকে না। বৃষ্টির তোড় যত বাড়ছিল, ততই চিন্তার পরত যোগ হত একটা করে। ম্যাচের দৈর্ঘ্য যদি কমে আসে, নেট রানরেটের অঙ্ক আরও কঠিন হয়ে জেঁকে বসবে বিরাট-ফ্যাফদের ঘাড়ে। পৌনে আটটা থেকে সোয়া আটটা অবধি ওই দমবন্ধ করা হিসেবের ভরসাতেই দাঁত চেপে গোটা গ্যালারি। আম্পায়াররা ঘন ঘন কথা বলছেন। পিচ কভারের ওপরে চিন্তিতমুখে দাঁড়িয়ে খোদ চিন্নাস্বামীর পিচ প্রস্তুতকারক। সোয়া আটটার পরে যা হোক, বৃষ্টি ধরে এল। আম্পায়াররা জানিয়ে দিলেন, ওভারে কোনও বদল হচ্ছে না। 

আইপিএলের বাজারে ২১৮ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে খারাপ নয়। কিন্তু উল্টোদিকের দলটার নাম চেন্নাই সুপার কিংস। রাচিন রবীন্দ্র, ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, অজিঙ্ক রাহানেদের সঙ্গে ইমপ্যাক্ট সাবের তালিকায় আছেন শিবম দুবে। আর আছেন স্বয়ং মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। ওদিকে লক্ষ্যমাত্রা তো ২১৮ নয়। নেট রানরেটের অঙ্কে, প্লে-অফে যেতে গেলে, আরসিবিকে ২০০ রানের মধ্যে আটকে দিতে হবে চেন্নাইকে। এদিকে গোটা ম্যাচ জুড়ে অজস্র নো-ওয়াইড করে গেলেন আরসিবির বোলাররা। লকি ফার্গুসন, যশ দয়ালরা বেমক্কা মারধোর খেলেন। ১৯ ওভারে যখন ফ্যাফ যশ দয়ালের হাতে বল তুলে দিলেন, ক্রিজে তখনও ধোনি ও জাডেজা। খাতায় কলমে এক ওভারে দরকার ৩৫, কিন্তু শেষ চারে যেতে মাত্র ১৭ করলেই হবে। আইপিএলে এক ওভারে ১৭ আর এমন কী? যেখানে ক্রিজে রয়েছেন দুই বিধ্বংসী ফিনিশার? 

এক বছর আগের অভিশাপ ভুলে গতকালের নায়ক যশ দয়াল। (ছবিঃ এএফপি / গেটি ইমেজেস) 

যশ দয়াল কি বল হাতে নিয়ে এক বছর আগের একটা দিনের কথা ভাবছিলেন? আমদাবাদে মুখোমুখি গুজরাত টাইটান্স ও কলকাতা নাইট রাইডার্স। শেষ ওভারে কলকাতার দরকার ২৯ রান। ক্রিজে উমেশ যাদবের সঙ্গে রিঙ্কু সিংহ। তার পরের পাঁচটা বলে কেরিয়ারটাই পাল্টে যায় রিঙ্কুর। পাঁচটা বিশাল ছক্কা, আইপিএল ইতিহাসে পাকাপাকি জায়গা করে নেন কলকাতার উঠতি তারকা। সেখানে দরকার ১৭, আছেন, ধোনি-জাডেজা। এদিকে প্রথম বলেই পুল শটে উইকেটের পিছনে বিশাল ছক্কা! বিরাটের মুখ ধরল টিভি-ক্যামেরা। বিস্ময়ে দেখছিলেন ধোনি-ধামাকা। কিন্তু পরের বলেই ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে ক্যাচ! ধোনি আউট! চিন্নাস্বামীকে তখন রোখে কে! অথচ স্থানুর মত দাঁড়িয়ে আরসিবি ডাগআউট। এলেন শার্দূল ঠাকুর। ইনিও ব্যাটের জন্য সুপরিচিত। অথচ এক রান দিয়ে ছেড়ে দিলেন জাডেজাকে। ব্যাস! বাকি হিসেব শেষ দুই বলে। পর পর দুটো স্লো বল, অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে দিয়ে। দুটোই মিস করলেন জাডেজা। দরকার ছিল ১৮ রানের কমে আটকানোর। ২৭ রানে সেখানে জয় ছিনিয়ে নিল বেঙ্গালুরু। চলে গেল শেষ চারে। 

কথায় বলে, সব ভাল যার শেষ ভাল। সব খেলার শেষটা ভাল হয় না। শেষটা ভাল হবে, এই আশাতেই লম্বা রাস্তা পাড়ি দেয় মানুষ। আইপিএলের মত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে হয়ত এতটা আবেগের জায়গা কম। তবু, হারতে হারতে শেষ সীমায় থাকা একটা দল কার্যত আইপিএল ইতিহাসের গ্রেটেস্ট কামব্যাক ঘটিয়ে শেষ চারে চলে গেল, স্রেফ এইটুকু দিয়েই বলা যায়, এখনও সব শেষ হয়নি। কঠিন কোনও বিকেলে, মনখারাপ করা রাতে বা নিঝুম দুপুরে আমি, আপনি আরসিবির কথা মনে করে বুকে হাত রেখে বলতেই পারি, 'আপনা টাইম আয়েগা।'   


```