
বাবা-মায়ের সঙ্গে নীতিশ কুমার রেড্ডি
শেষ আপডেট: 7 December 2024 10:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো : রূপকথা? শিরোনাম দেখে অনেকেই হয়ত ভ্রু কোঁচকাবেন। কিন্তু, রূপকথা কি শুধুমাত্র সমাজের বিত্তবানরাই লিখতে পারেন? নীতিশ কুমার রেড্ডি দেখিয়ে দিলেন কীভাবে দারিদ্রেরও রূপকথা লেখা যায়।
ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে নীতিশ রেড্ডি ইতিমধ্যে বেশ পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। পারথের পর অ্যাডিলেডেও তাঁর ব্যাট গর্জে উঠেছে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের রথী-মহারথীরা যখন একের পর এক প্যাভিলিয়নে ফিরে যাচ্ছেন, যখন মিচেল স্টার্কের আগুন বোলিং ভারতীয় শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে; সেইসময় তাঁর কঠিন মুখটা অনেক লড়াইয়ের রূপকথা অচিরেই লিখে যাচ্ছিল।
ততক্ষণে স্টার্কের ঝুলিতে পাঁচ উইকেট চলে এসেছে। গোলাপি বল হাতে তিনি যে সেরার সেরা, তা প্রমাণও করে দিয়েছেন। ঠিক সেইসময় (৪১ ওভারে) স্টার্কের বলেই বিশাল একটা ছক্কা হাঁকালেন নীতিশ। কিছু না বলেই বুঝিয়ে দিলেন, 'তুমি শের হলে, আমি সওয়া শের।' পরের ওভারে স্কট বোলান্ডকে জোড়া ছক্কাও হাঁকালেন তিনি। অ্যাডিলেডে টিম ইন্ডিয়ার সংসারে নীতিশের ৪২ রানের গুরুত্ব যেন একটি মৃতপ্রায় শরীরে অক্সিজেনের মতো কাজ দিয়েছে। তবে বিশাখাপত্তনম থেকে অ্যাডিলেডের এই যাত্রাপথটা কিন্তু একেবারেই সহজ ছিল না।
একেবারে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা একটা ছেলে নীতিশ। নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন, 'আমার এই ক্রিকেটের জন্য বাবা একটা সময় চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। একদিন তো সংসারে টাকা-পয়সার এতটাই টানাটানি ছিল যে আমি বাবাকে কাঁদতেও দেখেছিলাম। এই দৃশ্যটাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মনস্থির করে ফেলি, যতই প্রতিবন্ধকতা আসুক না কেন, ক্রিকেটার আমি হবই। অবশেষে কঠোর পরিশ্রমের ফল আমি পাচ্ছি।'
সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি একেবারে সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসেছি। বাবার খুশি দেখলেই আমি ভাল থাকি। বাবাকে প্রথমবার যখন আমার জার্সিটা দেখিয়েছিলাম, তখন ওঁর চোখ-মুখ দেখে নিজের উপর গর্ব হচ্ছিল।'
অ্যাডিলেডের আগে পারথ টেস্টেও নীতিশ যথেষ্ট নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে তিনি ৪১ রান করার পাশাপাশি, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রানে তিনি অপরাজিত থাকেন। ইতিমধ্যে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, নীতিশের ব্যাটিং অর্ডার আরও খানিকটা উপরের দিকে নিয়ে আসা হোক। তিনি যে ভবিষ্যতের তারকা হতে চলেছেন, তাতে ইতিমধ্যেই সিলমোহর পড়ে গিয়েছে। এবার শুধু সময়ের অপেক্ষা। এটাই বা রূপকথার থেকে কম কীই বা?