চিন্নস্বামীতে ক্রিকেট ফেরার পথ এখন শর্তসাপেক্ষ। ডি’কুনহা কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলেই তবেই মাঠে আইপিএল। সরকারের বার্তা: নিরাপত্তাই প্রথম, তারপরই আয়োজন।
.jpeg.webp)
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম
শেষ আপডেট: 12 December 2025 16:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম (M. Chinnaswamy Stadium) আবারও আন্তর্জাতিক ও আইপিএল ম্যাচ আয়োজনের পথে। কর্নাটক মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। যদিও স্পষ্ট নির্দেশ: একগুচ্ছ কঠোর শর্ত মানলে তবেই ম্যাচ পরিচালনার ছাড়পত্র মিলবে।
সরকার জানিয়ে দিয়েছে, বিচারপতি ডি’কুনহা কমিশনের (D’Cunha Commission) সমস্ত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন না-হলে কোনও ম্যাচের অনুমতি দেওয়া হবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব গৃহ দফতরের। কমিশনের জুলাই রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে নির্মিত স্টেডিয়ামে আধুনিক নিরাপত্তা পরিকাঠামোর ঘাটতি প্রকট।
মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গত জুনে আরসিবি-র (RCB) আইপিএল জয়ের উদযাপনে মর্মান্তিক পদপিষ্ট-কাণ্ডে ১১ জনের মৃত্যু ঘটে। সেই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তেই স্টেডিয়ামকে ‘বড় ইভেন্ট আয়োজনে মৌলিকভাবে অসমর্থ’ ঘোষণা করা হয়েছিল। দর্শক নিয়ন্ত্রণ, জরুরি উদ্ধার, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট—সব ক্ষেত্রেই ‘ঝুঁকি’-র কথা উঠে আসে রিপোর্টে।
এই প্রেক্ষাপটে উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের (DK Shivakumar) বক্তব্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। কেএসসিএ ভোটে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইপিএল ম্যাচ অন্যত্র সরাতে দেব না। বেঙ্গালুরুর সম্মান রক্ষায় সব খেলা এখানেই হবে।’ নিজেকে ‘ক্রিকেটপ্রেমী’ দাবি করে তিনি আশ্বাস দেন—ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আটকানো হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নতুন স্টেডিয়াম তৈরির দিকেও নজর চলবে।
ইতিমধ্যে নবনির্বাচিত কেএসসিএ সভাপতি ভেঙ্কটেশ প্রসাদ (Venkatesh Prasad) ও তাঁর টিম দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপমুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বেলগাভিতে বৈঠক করেন। লক্ষ্য—চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে আবার এলিট ক্রিকেট ফেরানো। প্রসাদের দাবি, রাজ্য সরকার ও বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা ইতিমধ্যেই শেষ।
জুনের পদপিষ্ট-কাণ্ডের পর চিন্নস্বামীতে সেভাবে বড় ম্যাচ হয়নি। মহিলা বিশ্বকাপের (Women’s World Cup) নির্ধারিত খেলা শেষ মুহূর্তে শহর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। যে কারণে শহরের ক্রিকেটপ্রেমীরা ঐতিহাসিক আসর দেখার সুযোগ হারান। ফাইনাল পর্যন্ত ম্যাচগুলি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে সরিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে ভারত।
শুধু তাই নয়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি–মার্চে টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) চিন্নস্বামীকে পাঁচ ভারতীয় ভেন্যুর তালিকাতে রাখা হয়নি। দক্ষিণ ভারতে কেবল চেন্নাই আর অন্য চারটি ভেন্যু—কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি ও আমদাবাদ; সঙ্গে শ্রীলঙ্কার তিনটি স্টেডিয়াম।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট—চিন্নস্বামীতে ক্রিকেট ফেরার পথ এখন শর্তসাপেক্ষ। ডি’কুনহা কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলেই তবেই মাঠে আইপিএল। সরকারের বার্তা: নিরাপত্তাই প্রথম, তারপরই আয়োজন।