আরসিবি বনাম মুম্বই ম্যাচে সতীর্থদের ঝোড়ো ব্যাটিং সত্ত্বেও মন্থর বিরাট কোহলি! কেন স্ট্রাইক রেট নিয়ে উঠল প্রশ্ন? টি-টোয়েন্টির পরিবর্তিত ফরম্যাটে কি মানিয়ে নিতে পারছেন না বিরাট? বিস্তারিত বিশ্লেষণ পড়ুন।

বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 13 April 2026 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮ বছর ধরে আরসিবির ইঞ্জিন তিনি। কিন্তু রবিবার ওয়াংখেড়েতে সেই ইঞ্জিন হোঁচট খেল। বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ৩৮ বলে পঞ্চাশ করলেন যখন, ঠিক পাশেই ফিল সল্ট ৩৬ বলে ৭৮, রাজত পাটিদার ২০ বলে ৫৩, টিম ডেভিড ১৬ বলে ৩৪। তুফানি স্কোরকার্ড! সেখানে কোহলিকে দেখাচ্ছিল মহাসড়কে ফেরারির পাশে আটকে পড়া একটা অটোরিকশার মতো। ওয়াংখেড়ের পাটা পিচে আরসিবি তুলল ২৪০। কিন্তু অর্ধশতরান পেলেও বিরাটের জন্য রাতটা ঘোরতর অস্বস্তির।
পঞ্চাশ হল, উদযাপন নয়
ওপেনে নামা বিরাট কোহলি হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছলেন ১৫তম ওভারে। হেলমেট খুললেন না, হাত তুললেন না। কারণটা স্পষ্ট। নিজেই জানতেন, এমন পিচে এই ইনিংস যথেষ্ট ‘ঝোড়ো’ নয়। পঞ্চাশ আসার দুই বল পরেই হার্দিক পাণ্ডিয়ার ফুল টস মিসহিট করে লং অনে ক্যাচ দিলেন। আউট হওয়ার পর মাঠের বাইরে ডাগআউটে বসে ছুড়ে ফেললেন হেলমেট ও গ্লাভস! এই হতাশা স্পষ্টতই নিজের উপর। মাঠে যখন পাটিদার চারের পর চার মেরে ১৩ বলে ৪৬ করছেন, সেই একই সময়ে বিরাট ড্রেসিং রুমের দিকে হাঁটা লাগালেন। ইঙ্গিতপূর্ণভাবে: মাথাটা তখনও নিচু!
ধারাভাষ্য দিতে বসে ডেল স্টেইনের মন্তব্য, ‘বিরাট নিজেও জানতেন তখন ওর কোথায় থাকার কথা!’ সুনীল গাভাসকর জানালেন, পাওয়ারপ্লেতে স্ট্রাইক কম পাওয়া থেকেই কোহলির সমস্যার শুরু।
‘রিটায়ার্ড আউটে'র কথাও উঠল!
এই পরিস্থিতিতে কমেন্ট্রেটরদের মুখে (আগে কল্পনাতেও না আসা) প্রশ্ন উঠল—আইপিএলে আগামী দিনে এভাবে খেললে কি বিরাট কোহলিকে কি ‘রিটায়ার্ড আউট’ করে পাঠানো উচিত? যখন তিনি ধুঁকতে ধুঁকতে খেলছেন, ডাগআউটে পাওয়ার হিটার ডেভিড প্যাড পরে দাঁড়িয়ে। যেন আউট হলেই দৌড়ে মাঠে নেমে পড়বেন! এই উদ্যম কি টিম ম্যানেজমেন্টের আগাম বার্তা: বিকল্প ভাবনা শুরু হয়ে গিয়েছে? হয় তুমি নিজেকে পাল্টাও, নিজের গিয়ার বদলাও, নয়তো আমাদের অন্য রাস্তা নিতে হবে?
ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম চালু হওয়ার পর এখন দলগুলো আট-নয় নম্বর পর্যন্ত ব্যাটার রাখে। প্রতিটি বল হিট করার সুযোগ। এই পরিস্থিতিতে ১৩০ স্ট্রাইক রেটের পঞ্চাশ আর আগের মতো গ্রহণযোগ্য নয়। আজকাল ২৪০ স্কোরও ঝুকিপূর্ণ। ফলে বিরাট-অনুরাগীরা মানুন চায় না মানুন, পরিবর্তিত আইপিএলে তারকা ব্যাটারকেও ছন্দ পাল্টাতে হবে।
বিরাট কি পিছিয়ে পড়ছেন?
পরিসংখ্যান বলছে—না। ২০২৩ সাল থেকে পাওয়ারপ্লেতে বিরাটের স্ট্রাইক রেট ১৫৩। তার আগে ১২০-এর নিচে। এই মরসুমে যেভাবে শুরু করেছিলেন— সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ৩৮ বলে ৬৯ অপরাজিত—সেটাই তাঁর আসল ক্ষমতার পরিচয়।
তাহলে গাভাসকারের অনুমানই ঠিক? পাওয়ারপ্লে-তে যেহেতু স্ট্রাইক পাননি, সেই কারণে হাত সেট হয়নি? রবিবারটা নিছক ‘অফ ডে’? এটা সত্য, যে গতরাতে পাওয়ারপ্লেতে সল্ট-ঝড়ের কারণে বিরাটকে যতটা স্ট্রাইক পাওয়া উচিত ছিল, ততটা পাননি। তারপর মাঝের দিকে মিচেল স্যান্টনারের ওভারে আসে মাত্র দুই রান। সেখান থেকেই ছন্দ যায় হারিয়ে।
উল্লেখ্য, বিরাটের শ্লথ ইনিংস সত্ত্বেও আরসিবি (Royal Challengers Bengaluru) তুলল ২৪০—মরসুমের সর্বোচ্চ। সল্ট ও পাটিদার সেই কাজটুকু করে দিয়ে গেলেন, যেটা কোহলি পারেননি। টি-২০ ক্রিকেট যেভাবে বদলাচ্ছে, বিরাটও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে চলতে জানেন—এর প্রমাণ আছে। রবিবার শুধু একথাই মনে করিয়ে দিল—রাজার জমানাও সবসময় মসৃণ হয় না।