এই স্টেডিয়াম ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। বড় পরিকাঠামো মানেই আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা।

দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও অজিঙ্ক নায়েক
শেষ আপডেট: 2 April 2026 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেটে ‘মেগা’ ভাবনা এখন আর শুধু আইপিএল (IPL) বা বিশ্বকাপেই আটকে নেই। এবার সেই পরিকল্পনা ঢুকে পড়ছে পরিকাঠামোয়। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের (Narendra Modi Stadium) পর ভারত পেতে চলেছে আরও একটি একলাখ দর্শকাসনবিশিষ্ট বিশাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বানানো হবে মুম্বই মহানগর অঞ্চলে (Mumbai Metropolitan Region)। এই প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ (Devendra Fadnavis)। লক্ষ্য স্পষ্ট—শুধু আরেকটা স্টেডিয়াম নয়, বিশ্বমানের এক ক্রিকেট কেন্দ্র তৈরি করা।
মুম্বইয়ের পাশে নতুন ‘ক্রিকেট সিটি’
এই নতুন স্টেডিয়াম তৈরি হবে এমএমআর এলাকায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সিডকো (CIDCO) এবং মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (Mumbai Cricket Association)। এই দুই সংস্থা ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে। কীভাবে জমি, নকশা, অর্থ—সব মিলিয়ে একটা রোডম্যাপ তৈরি হবে, তা নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
এমসিএ-র সভাপতি অজিঙ্ক নায়েক (Ajinkya Naik) জানিয়েছেন, এই স্টেডিয়াম শুধু মুম্বই নয়, গোটা মহারাষ্ট্রকে বিশ্ব ক্রীড়ামঞ্চে নতুন জায়গা করে দেবে। অর্থাৎ, নিছক শহরের আরেকটা মাঠ নয়—বানানো হতে চলেছে ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট’।
ওয়াংখেড়ের জায়গা কি কমছে?
এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের (Wankhede Stadium) গুরুত্ব কমবে? এটা তো শুধু একটা মাঠ নয়। ২০১১ বিশ্বকাপের (ICC Cricket World Cup 2011) ফাইনালে ছক্কা মেরে খেতাব জিতিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni)… সে তো এখানেই!
বাস্তব বলছে, ওয়াংখেড়ের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩৩ হাজারের কিছু বেশি। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে লাখের উপরে দর্শক বসতে পারে, সেখানে এই সংখ্যা তুলনায় কম। মুম্বইয়ে আরও স্টেডিয়াম আছে—ব্রেবোর্ন (Brabourne Stadium), ডি ওয়াই পাটিল (DY Patil Stadium)। কিন্তু তারাও একলাখ দর্শকের কাছাকাছি নয়। ফলে নতুন স্টেডিয়াম তৈরি হলে বড় ম্যাচ বা বিশ্বকাপের মতো ইভেন্টে কেন্দ্রবিন্দু সরে যেতে পারে—এটাই স্বাভাবিক।
শুধু ক্রিকেট নয়, অর্থনীতির খেলা
এই স্টেডিয়ামকে শুধু খেলাধুলার জায়গা হিসেবে ভাবা হচ্ছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। প্রথমত, স্পোর্টস ট্যুরিজম। বড় ম্যাচ মানেই হাজার হাজার দর্শক, হোটেল, পরিবহন—সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক চাকা ঘুরবে দ্রুত। দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থান। স্টেডিয়াম তৈরি থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণ—অনেক মানুষের কাজের সুযোগ বাড়তে চলেছে। তৃতীয়ত, নাগরিক উন্নয়ন। স্টেডিয়াম ঘিরে রাস্তা থেকে পরিষেবা—সবই উন্নত হবে। অর্থাৎ, এটা এক ঢিলে একাধিক পাখি মারার ছক।
এই স্টেডিয়াম ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। বড় পরিকাঠামো মানেই আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা। দেশীয় ক্রিকেট, আন্তর্জাতিক ম্যাচ, আইপিএল—সব মিলিয়ে এই ময়দান হয়ে উঠতে পারে ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন কেন্দ্র।