রাহুল দ্রাবিড় সরে যাওয়ার পর ওয়ান ডাউনে ভারতের বিশ্বস্ত পিলার। পাক্কা এক দশক পূজারা সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছেন। বিদেশের মাটিতে অসংখ্যবার কঠিন পরিস্থিতি সামলেছেন। একাহাতে দলকে টেনে তুলেছেন।

চেতেশ্বর পূজারা
শেষ আপডেট: 27 August 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরিয়ারে কোনও দিন তাঁকে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। বঞ্চনা আর বৈষম্যের জবাব দিয়েছেন ব্যাট হাতে। না নির্বাচক, না বোর্ড, না সতীর্থ অধিনায়ক, না কোচ—কারও বিরুদ্ধে কোনওদিন সামান্যতম বিষোদ্গার করেননি চেতেশ্বর পূজারা (Cheteshwar Pujara)। রবিবার আপাত-জৌলুসহীন ঠাটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর (Cheteshwar Pujara Retirement) পরও ক্ষোভ নয়, অসন্তোষ নয়, অপ্রাপ্তি কিংবা তিলার্ধ অতৃপ্তি নয়, তাঁর গলায় শোনা গিয়েছে ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতার সুর।
যদিও এর পাশাপাশি অনুচ্চকিত, শান্ত মেজাজে তিনি নির্বাচনের বাস্তবতার দিকেও আঙুল তুলেছেন। তরুণ প্রজন্মকে পূজারার স্পষ্ট বার্তা—শুধু টেস্টে মন দিলেই হবে না, সাদা বলের ক্রিকেটেও নজর রাখতে হবে। না হলে জাতীয় দলে ঢোকার রাস্তা কার্যত বন্ধ। যে কাজ তিনি নিজে করেননি, ফল ভুগেছেন, সেই বিষয়ে অনুজদের সতর্ক করেছেন।
ভারতের হয়ে ১০৩ টেস্ট খেলে ৭,০০০-রও বেশি রান, ১৯টি শতরান, ৩৫টি অর্ধশতরান। অথচ আইপিএলে ডাক পেলেও নাম নেই। সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০১৪-তে। এরপর বছর বছর নিলামে নাম ওঠে, দল মেলে না। আর তাই কেরিয়ারের সমাপ্তি টেনে দ্বিধাহীন পূজারা জানিয়ে দিলেন তেতো সত্যি। তাঁর কথায়, ‘সত্যি বলতে আমি কোনও তরুণ ক্রিকেটারকে শুধু টেস্টে মন দিতে বলব না। সময় পালটাচ্ছে। টেস্ট টিকে থাকবে, বাঁচবে। কিন্তু এই ফরম্যাটে সুযোগ পেতে গেলে আইপিএল কিংবা জাতীয় ওয়ান ডে অথবা টি-২০ দলে পারফর্ম করতেই হবে। সাদা বলের ক্রিকেটে যদি ভাল না খেলো, তবে টেস্ট দলে ঢোকার সম্ভাবনা ভীষণ কম!’
অভিজ্ঞতা আর বাস্তবতার কঠোর মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁর সংযোজন, ‘হয়তো ব্যতিক্রম রয়েছে। রঞ্জি ট্রফি থেকে এক-দু’জন অসাধারণ খেলোয়াড় উঠে আসতে পারেন। কিন্তু এমন ঘটনা বিরল। টেস্টে জায়গা পেতে চাইলে রঞ্জি বা দলীপ ট্রফিতে তোমাকে ভয়ংকর ভাল খেলতে হবে। তবে সহজ পথটা আসলে সাদা বলের ক্রিকেটে!’
ভণিতা না করে স্পষ্ট ভাষায় পূজারার সতর্কবাণী, ‘ভবিষ্যৎ আসলে সাদা বলের ক্রিকেটের সঙ্গে টেস্টকে বয়ে নিয়ে যাবে। তাই তরুণদের উচিত, তিনটি ফরম্যাটেই খেলে যাওয়া। আমি সেটা পারিনি। আর কাউকে এই ভুল করতে বলব না।’ যদিও এতকিছুর পরেও শেষমেশ টেস্টের মাহাত্ম্য মনে করাতে ভোলেননি। পূজারার বক্তব্য, ‘টেস্ট এখনও ক্রিকেটের চূড়ান্ত মাপকাঠি। সম্মান চাইলে, সেরা ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি চাইলে, লাল বলের ক্রিকেটে খেলতে হবে, সফল হতে হবে।’
রাহুল দ্রাবিড় সরে যাওয়ার পর ওয়ান ডাউনে ভারতের বিশ্বস্ত পিলার। পাক্কা এক দশক পূজারা সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছেন। বিদেশের মাটিতে অসংখ্যবার কঠিন পরিস্থিতি সামলেছেন। একাহাতে দলকে টেনে তুলেছেন। সজ্জা-শিরস্ত্রাণ খুলে রাখার পর তরুণদের উদ্দেশে তাঁর খোলাখুলি চেতাবনি—শুধু ধৈর্য আর সংযমের পাঠাভ্যাস নয়, বাস্তবতার সঙ্গেও তাল মেলাতে হবে। সাদা বল আর লাল বলকে একসঙ্গে ধরে এগোনো জরুরি। না হলে জাতীয় দলে দরজা খোলা থাকলেও ভিতরে ঢোকার রাস্তা ক্রমশ সঙ্কীর্ণ হবে।