জন্টি রোডসের পোস্ট তাই শুধু এক প্রাক্তন ক্রিকেটারের বক্তব্য নয়… যেন সাধারণ মানুষের ঘুম ভাঙানোর বার্তা। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। অথচ শাসক-প্রশাসকের গলায় দায়সারা আশ্বাস।

জন্টি রোডস
শেষ আপডেট: 10 November 2025 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি পেরিয়ে রাঁচির পথে। বিমানে। যাত্রাপথেই পোস্ট লিখলেন জন্টি রোডস (Jonty Rhodes)। যার সারমর্ম: রাজধানীর বায়ুদূষণ হজম করা বেশ কষ্টকর। তিনি নিজে দক্ষিণ গোয়ায় জেলেদের গ্রামে বেশ ভালোই আছেন!
এই হতাশা আর নিশ্চিন্তি মেশানো বক্তব্য সমাজমাধ্যমে ছড়ানোমাত্র যেটা আছড়ে পড়ল, তাকে এক শব্দে বলা যেতে পারে জনবিক্ষোভ! কেউ সুচিন্তিত ঢঙে লিখলেন, ‘আমি সবসময় পাঞ্জাব যাই দিল্লি হয়ে৷ এটা আমার প্রিয় শহরগুলোর একটা। বাড়ি যাওয়ার আগে দু'দিন এখানে কাটাই৷ কিন্তু এবার এটা সহ্য করা কঠিন হয়ে উঠছে৷ আমি জেনেবুঝে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেখেলা করতে পারি না৷ ফলে এবার সরাসরি অমৃতসরের ফ্লাইট বুক করতে হয়েছে!’
আবার কেউ চিমটি কাটলেন এই বলে, ‘দিল্লি=কালো ফুসফুস’কিংবা ‘তিনি ঠিকই বলেছেন। কিন্তু এই প্ল্যাটফর্মে আমাদের কোনও ক্রিকেটের কিংবদন্তি এই কথাগুলো উচ্চারণ করতে পারবে না!’ আরও কেউ লিখেছেন, ‘জন্টি রোডস না লিখলে হয়তো আমরা আবারও বিষয়টা এড়িয়ে যেতাম। এখন অন্তত লজ্জাটা লাগছে।’আরেকজন সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন প্রশাসনকে—‘প্রতি বছর এই সময়টা দিল্লি গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়। কবে এর সমাধান হবে?’
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া রোডসের ছবিগুলোয় দেখা যাচ্ছে—একদিকে দিল্লির ধোঁয়ায় ঢাকা আকাশ, অন্যদিকে গোয়ার নীল আকাশে রোদ খেলছে। ক্যাপশনেই তিনি লিখেছেন, ‘এটাই আমার “বাড়ির”সূর্যাস্ত। হ্যাঁ, ওরা আমার বাচ্চা, ফুটবল খেলছে! দিল্লিতে এই সময় ডাক্তাররা বাচ্চাদের ঘরের বাইরে না যেতে বলেন।’
প্রাক্তন প্রোটিয়া তারকার এই মন্তব্য যেন অজান্তেই তুলে ধরেছে একই ভারতের দুটো চিত্র—একদিকে শ্বাসরুদ্ধ মহানগর অন্যদিকে স্বচ্ছ গ্রামীণ জীবন। কমেন্ট সেকশনে মন্তব্য, ‘এই ছবিগুলো ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা!’ কেউ যোগ করেছেন, ‘দিল্লির মানুষ যদি আজও চুপ থাকে, কাল হয়তো শ্বাস নেওয়ারও অধিকার হারাবে!’
Those who can afford no longer want to live in the city. It is only for people who have their livelihood and home in the city are living out of no choice. Saddens me to type this but my city is not livable anymore. https://t.co/ug3iwnmdvf
— Mudit 🇮🇳 (@MuditHastir) November 10, 2025
এদিকে, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM) জানিয়েছে, এখনই ‘গ্র্যাডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান’-এর (GRAP) তৃতীয় ধাপ চালুর প্রয়োজন নেই। কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, রবিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিল্লির গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৩৬৫–এর কাছাকাছি ছিল, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা ভাল।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) ও আইআইটিএম–এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন ‘খুব খারাপ’ (very poor) পর্যায়েই থাকবে বায়ুর মান। তবে তাতেও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় দিল্লির বাতাসে দূষণের মূল কারণ শস্য পোড়ানো (stubble burning), শিল্পক্ষেত্রের ধোঁয়া আর যানবাহনের নির্গমন। প্রতি বছরই নভেম্বরের শুরুতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
এই আবহে জন্টি রোডসের পোস্ট তাই শুধু এক প্রাক্তন ক্রিকেটারের বক্তব্য নয়… যেন সাধারণ মানুষের ঘুম ভাঙানোর বার্তা। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। অথচ শাসক-প্রশাসকের গলায় দায়সারা আশ্বাস। গোয়ার স্বচ্ছ আকাশ আর দিল্লির ধোঁয়াটে সূর্য—দুই ছবির ফারাকেই যেন ফুটে উঠল দেশের দূষণ-বাস্তবতা।