ঘটনার সূত্রপাত ২৮ জুন। স্থানীয় মোবাইল দোকান থেকে নতুন রিলায়েন্স জিও সিম কিনে আনেন মনীশ। সেটিংসের কারবার সেরে হোয়াটসঅ্যাপ খোলামাত্র চক্ষু চড়কগাছ!

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 10 August 2025 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একবার ভাবুন, আপনি গ্রামের মুদির দোকানে বসে। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। ওপার থেকে ভদ্র কণ্ঠে সম্ভাষণ, ‘হ্যালো, আমি বিরাট কোহলি বলছি!’
যখন ভাবছেন কোনও বিচ্ছু ছোকরার প্র্যাঙ্ক কল, তক্ষুনি ফের একবার রিং। এবার অন্য নম্বর থেকে। আর ধরামাত্র ওপার থেকে গমগমিয়ে, ‘হাই, আমি এবি ডিভিলিয়ার্স!’
এরপর একে একে কখনও আর অশ্বিন, কখনও শুভমান গিল। ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের ফোন কলে সরগরম নিরালা দুপুর!
শুনলে মনে হয় কোনও প্রিয়দর্শনের কমেডি ছবির প্রথম দৃশ্য। কিন্তু ছত্তীসগড়ের গারিয়াবন্দ জেলার দেবভোগ ব্লকের মাদাগাঁও গ্রামে সত্যি এমন ঘটনাই ঘটেছে। আর সেই মজাদার কাহিনির নায়ক দুই বন্ধু মনীশ বিসি ও খেমরাজ।
ঘটনার সূত্রপাত ২৮ জুন। স্থানীয় মোবাইল দোকান থেকে নতুন রিলায়েন্স জিও সিম কিনে আনেন মনীশ। সেটিংসের কারবার সেরে হোয়াটসঅ্যাপ খোলামাত্র চক্ষু চড়কগাছ! দেখেন প্রোফাইলে রাজত পাটিদারের ছবি। প্রথমে ভেবেছিলেন, দোকানদারের কারসাজি। ধোঁকা দিতে কিছু একটা গড়বড় করে রেখেছেন। কিন্তু তার পরপরই আসতে শুরু করে--আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীর নয়—সরাসরি ক্রিকেট তারকা আর তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের ফোন! কেউ জানাচ্ছেন তিনি বিরাট কোহলি, কেউ এবি ডিভিলিয়ার্স।
কিন্তু মজা শুনে লাভ কী! নিজেরাও মজা করা যাক! এই ভেবে দুই বন্ধু পালটা জবাব দিতে শুরু করেন। ফোন এলেই ‘হাই-হ্যালো’ বলার পর এপ্রান্ত থেকে বাঁধাধরা উত্তর: ‘মহেন্দ্র সিং ধোনি বলছি।’
এভাবেই জুন গড়িয়ে জুলাই। মাসের মাঝামাঝি, ১৫ তারিখ ফের এক অচেনা নম্বর ভেসে ওঠে। আর খুবই বিনম্র গলায় ভেসে আসে নিবেদন: ‘ভাই, আমি রাজত পাটিদার বলছি। ওই নম্বরটা আমার, দয়া করে ফেরত দিন!’
প্রতিবারের মতো রসিকতা ভেবে দুই বন্ধু হেসে ওঠেন আর ফিরিয়ে দেন স্বভাবসিদ্ধ জবাব, ‘আর আমরা এমএস ধোনি!’
পাটিদার ধৈর্য হারালেন না। মাথা ঠান্ডা করে বোঝালেন, এই নম্বরেই তার কোচ, বন্ধু আর ক্রিকেট জগতের সঙ্গে যোগাযোগ। তাই ফেরত পাওয়া জরুরি। তবু হাসি থামল না। আবার বোঝালেন। কিন্তু ফল সেই একই।
শেষমেশ উপায় না দেখে হুমকি: ‘ঠিক আছে, আমি পুলিশ পাঠাচ্ছি!’
মনীশ আর খেমরাজ ভেবেছিলেন এটাও বুঝি ফাঁকা আওয়াজ। কিন্তু ভুল ভাঙল মিনিট দশেক বাদে। ধুলো উড়িয়ে হাজির পুলিশের ভ্যান। নড়ল টনক। বোঝা গেল—যিনি ফোন করছিলেন, তিনি সত্যিই প্র্যাঙ্ক কলার নন, সাক্ষাৎ রাজত পাটিদার। আর কথা বাড়ানো বা রসিকতার সুযোগ ছিল না। ভাল মানুষের মতো মাফ চেয়ে সিম ফেরত দিতে হল।
যদিও পুলিশি হানায় স্বপ্নভঙ্গে দুজনের কেউউ ভেঙে পড়েননি। খেমরাজ তো জোর গলায় বলেই দিলেন, ‘এটাই আমার জীবনের সেরা মূহূর্ত!’ বিরাট কোহলির অনুরাগী তিনি। একগাল হেসে জবাব দিলেন, ‘ভুল নম্বরের জন্যই কোহলির সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। এতেই সার্থক জীবন!’
যদিও গোটা গ্রামে হাসির ঢেউ উঠেছে। মশকরার পাত্র দুই বন্ধু। অনেকেই ফোড়ন কেটে বলছেন, ‘মাদাগাঁও এখন ক্রিকেট মানচিত্রে!’ কিন্তু মনীশ-খেমরাজ ভেঙে পড়তে নারাজ। আশা, একদিন রজত পাটিদার আবার ফোন করবেন—তবে সিম ফেরত চাইতে নয়, ধন্যবাদ দিতে।
আজব কাহিনির আড়ালের গল্পটা কী? আসলে, টেলিকম কোম্পানিগুলো যে নম্বর ৯০ দিনের বেশি বন্ধ থাকে, তা ফের অন্য গ্রাহককে দিয়ে দেয়। রাজত পাটিদারের পুরনো নম্বরও এমন করেই ঘুরে আসে এক মুদি দোকানির হাতে। আর তাতেই খুলে গিয়েছে মাদাগাঁওয়ের ক্রিকেট হটলাইন… খুল যা সিম সিম!