ম্যাচের শুরুতে আর ম্যাচ খতম হতেই ফোন করা আকাশের অভ্যাস। আর অভ্যাস দিদির হাতের রান্না খাওয়া। ভাই এত দূরে যে, দইবড়া বানিয়ে খাওয়াতে পারবেন না।

দিদির সঙ্গে আকাশ
শেষ আপডেট: 7 July 2025 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসার। চিকিৎসক বলেছেন, ‘থার্ড স্টেজ’। আরও জানিয়েছেন, ছ’মাস কেমো নিতে হবে। তারপর?
চিকিৎসকের তৃতীয় জবাব ততটা নিশ্চিত নয়।
তবু ভাইকে ইংল্যান্ডগামী বিমানে তুলে দিতে এসে বিমানবন্দরে হাতে হাত রেখে দিদি স্রেফ একটাই কথা বলেছিলেন, ‘আমার ক্যানসার নিয়ে ভাবিস না। দেশের হয়ে ভালভাবে খেলে যা!’
ভাল নয়, খুব ভাল খেলেছেন আকাশ। তবে শুধু দেশের জন্য, টিমের জন্য নয়… ইংল্যান্ডের পাঁজর ভেঙে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নেওয়া পেসার ঐতিহাসিক এজবাস্টন টেস্ট জিতে জানিয়েছেন, এই সাফল্য তিনি তাঁর দিদিকে উৎসর্গ করতে চান। যিনি কর্কট রোগে আক্রান্ত। দু’মাস আগে ধরা পড়েছে। প্রতিটি ডেলিভারি ছুড়েছেন যখন, ভেসে উঠেছে দিদির মুখ। আকাশের কথায়, ‘আমি শুধু ওর হাসিমুখ, আনন্দে ভরা মুখ দেখতে চাই!’
সাগর ডিঙিয়ে ইংল্যান্ডের ময়দানে দাপটের সঙ্গে পারফর্ম করে ভাই যখন এতশত কথা বলছে, আগে থেকে তার বিন্দুমাত্র আন্দাজ পাননি অখণ্ডজ্যোতি সিং… আকাশের দিদি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আকাশ যে দশ উইকেট নিল, এটা দেশের জন্য গর্বের। কিন্তু আমি জানতাম না আকাশ এত কিছু জানিয়েছে। আমার কোনও আইডিয়াই ছিল না। আসলে আমরা কেউই ক্যানসারের কথা বাইরের দুনিয়াকে জানানোর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। তবে যেভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে ও আমার কথা বলেছে, নিজের সাফল্য আমায় উৎসর্গ করেছে—এটা খুব বড় বিষয়। এটাই প্রমাণ করে আকাশ পরিবারকে কতটা ভালবাসে। আসলে আমি ওর সবচেয়ে কাছের মানুষ!’
আইপিএল খেলছেন যখন, তখন অখণ্ডজ্যোতির ক্যানসার ধরা পড়ে। লখনউয়ের হয়ে এবার আকাশকে দেখা যায়। কিন্তু ভাগ্য পয়মন্ত ছিল না। মাত্র ছ’খানা ম্যাচ খেলেই চোটের জন্য ছিটকে যান। তবু যতদিন মাঠে নেমেছেন, সুযোগ পেলেই দিদিকে দেখতে এসেছেন। হাসপাতালে ভর্তি থেকে রক্তের জোগাড়—সবকিছুর দায়িত্ব সামলেছেন।
সেদিনের কথা মনে পড়ায় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন জ্যোতি। বলেছেন, ‘ম্যাচ শেষ হতেই আমরা ভিডিও কলে দু’বার কথা বলি। তারপর আজ সকাল পাঁচটাতেও ফোন এসেছে। আকাশ বলেছে, ‘আমায় নিয়ে চিন্তা করিস না। সারা দেশ আমার সঙ্গে আছে!’ ওর মতো ভাই লাখে এক। শুধু আমাদের কথা ভাবে। একটা কাজও না জানিয়ে করে না। সবকিছু পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করা চাই-ই-চাই! বাবা, দাদা চলে যাওয়ার পর ও একা হাতে ঘরের দায়িত্ব সামলাচ্ছে।’
শুধুই চিকিৎসার ব্যবস্থা নয়, দিদিকে মানসিকভাবেও শক্তি জুগিয়েছেন আকাশ। ‘আমি যতবার বলেছি, ‘আমার স্বামী আছে, তুই চিন্তা করিস না’, জবাব এসেছে, ‘আমার যা কিছু, সব আমার দিদি আর পরিবারের জন্য!’’ জ্যোতির গলা আবেগে ধরে আসে।
ম্যাচের শুরুতে আর ম্যাচ খতম হতেই ফোন করা আকাশের অভ্যাস। আর অভ্যাস দিদির হাতের রান্না খাওয়া। ভাই এত দূরে যে, দইবড়া বানিয়ে খাওয়াতে পারবেন না। কিন্তু তাতে কষ্ট নেই জ্যোতির। তিনি শুধু গুনে চলেছেন দিন। যেদিন ভাই ফিরে আসবে। আর ও যা চাইবে, সব নিজের হাতে রেঁধেবেড়ে খাওয়াবেন। ততদিন একটাই প্রার্থনা: ভাই খেলে যাক! দেশের হয়ে… দশের হয়ে… আর অতি অবশ্যই দিদির হয়ে।