ভারত সিরিজে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া, কারণ এখানে হারলে সিরিজ খোয়াবে তারা। হারানোর কিছুই নেই, কিন্তু জিতলে পৃথিবী জয়। এই মনোভাব নিয়ে ভারত নেমেছে।

শেষ আপডেট: 24 July 2025 14:22
সমকালীন ক্রিকেটের অন্যতম গোলকধাঁধা- ৩ টি টেস্টের ১৫ দিনের মধ্যে ১৩.৫ দিন ভারত প্রাধান্য বজায় রেখেও সিরিজ (England vs India Test Series) ১-২ পিছিয়ে, এই তথ্য ক্রিকেট মস্তিষ্কের হার্ড ডিস্ক প্রসেসর প্রসেস করতে পারছে না। এইমতো অবস্থায় ভারত খেলতে নেমেছে এমন এক মাঠে যেখানে তারা আগে কোনওদিন টেস্ট জেতেনি। এজবাস্টনের মতো এখানেও তারা ইতিহাস তৈরি করতে পারবে কিনা সময় বলবে। ভারত এই টেস্টে ৯ দিনের বিশ্রাম পেল, কিন্তু তার সঙ্গে নিদারুণ দুঃসংবাদ বয়ে আনল ত্রিমুখী চোট। এমন তিনজন খেলোয়াড়, যাঁদের তিনজনকেই গিল এবং গম্ভীর ভেবেছিলেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে (Old Trafford, Manchester) মাঠে নামাবেন।
প্রথমে ঠিক হয়েছিল বুমরাহ এই টেস্ট খেলবেন না, যদিও তৃতীয় এবং চতুর্থ টেস্টের মধ্যে ৯ দিনের ব্যবধান ( কেন তিনি খেলতেন না তিনি এবং টিম ম্যানেজমেন্ট জানেন )। কিন্তু অর্শদীপ, আকাশ দীপ এবং নীতীশ রেড্ডির আকস্মিক চোট আঘাতে জর্জরিত দল এখন বুমরাহকে নামাতে বাধ্য হল। বিশেষ করে আকাশ দীপের চোট ভারতীয় টিমের ব্যালান্সকে বেশ ঘেঁটে দিয়েছে। বুমরাহ না খেললে অর্শদীপ খেলতেন কিন্তু সেই সম্ভাবনার ইতি ঘটেছে।
ভারত সিরিজে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া, কারণ এখানে হারলে সিরিজ খোয়াবে তারা। হারানোর কিছুই নেই, কিন্তু জিতলে পৃথিবী জয়। এই মনোভাব নিয়ে ভারত নেমেছে। আগেই বলেছি এই সিরিজে ভারত ৯৭% ম্যাচ ডমিনেট করে সিরিজে ১-২ পিছিয়ে। এ এক অদ্ভুত সংখ্যাতত্ত্ব। হেডিংলেতে ১/২ সেশন এবং লর্ডসে ১ সেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ১ সেশন বাজে খেলার খেসারত দিতে হচ্ছে ভারতকে। ব্যাটিং ভারতের ভাল হচ্ছে - যা ভাবা গিয়েছিল তার থেকে অনেক ভাল । প্রথম সারির ব্যাটার রা সবাই প্রায় রানের মধ্যে - কেএল রাহুল ২ , পন্থ ২, গিল ৩, এবং জয়সওয়াল ১ টি করে শতরান করেছেন। একটি সিরিজে ভারতের ব্যাটাররা ৮ শতরান করেছেন এরকম সিরিজ ভাবতে সময় লাগবে, মাথা চুলকোতে হবে।
ব্যাটিং লাইনআপে একমাত্র বদল করুণ নায়ারের জায়গায় সাই সুদর্শন। করুণ নায়ারের কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু ম্যাঞ্চেস্টার পিচে ঘাস থাকায় শার্দুলকে খেলাতে হত। অতএব টিম ব্যালান্স করতে সুদর্শন সুযোগ পেলেন।
তাছাড়া তিনটি টেস্টে করুণ ভাল খেললেও বড় স্কোর করতে পারেননি, এবং উপর্যুপরি ব্যর্থতা এবং ৩৪ বছর বয়স, কাজেই টিম ম্যানেজমেন্ট তরুণ সাইকে বেছে নিল। সাই সুদর্শনের ওপর অনেক দায়িত্ব এবং বিশ্বাস সাই দারুণ খেলবেন।
সিরিজ শুরুর আগে ভাবা হয়েছিল ভারতের বোলিং ব্যাটিংয়ের থেকে শক্তিশালী, কিন্তু বোলিংয়ে বুমরাহ ছাড়া দুর্বল মনে হচ্ছে।
আকাশ দীপ এবং সিরাজ এজবাস্টনে ভাল বল করলেও লর্ডসে এদের দুজনের কাছে আরও উৎকর্ষতা আশা করা হয়েছিল।
তরুণ তুর্কি অংশুল কম্বোজ জীবনের প্রথম টেস্ট খেলার সুযোগ পেলেন ।ম্যাঞ্চেস্টার। ২৪ বছরের কম্বোজ ৬-২” লম্বা, বেশ জোরের ওপর বল করেন। এবং যাকে বলে হিটিং দ্য ডেক, তাই করেন। মুম্বই ইন্ডিয়ানস এবং এখন চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলা কম্বোজকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট উচ্ছ্বসিত। টিমের একজন সদস্য যাকে টিমের সঙ্গে আনা হল, সেই কৃষ্ণকে নিয়ে মোহভঙ্গ ঘটেছে গম্ভীর এবং গিলের। দলে আরেকটা জায়গা নিয়ে একটু দোনামনা ছিল। উইকেটরক্ষক পন্থের চোটের জন্য জুরেল কি খেলবেন শুধু কিপার হিসাবে ? তাহলে টিমের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একজন বোলার হয়ত বাদ পড়তেন বা সুন্দর। কিন্তু তাতে আটজন ব্যাটার যেটা গম্ভীরের স্ট্রাটেজি এজবাস্টন থেকে সেটা থেকে বিচ্যুতি হত। কিন্তু পন্থ উইকেটকিপিং করছেন এবং হাতের ফোলা ভাবটাও অনেক কম। দলের মাথাব্যথা অন্তত একটা জায়গায় কমল। দল যা ভাবা গিয়েছিল তাই হল, নীতীশের জায়গায় শার্দুল এবং আকাশ দীপের জায়গায় কম্বোজ।
এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক ইংল্যান্ড কী ভাবে দল সাজিয়েছে। লর্ডসে হারের মুখ থেকে জয় পেয়ে বেন স্টোকসের দল এখন পুনরুজ্জীবিত। আহত স্পিনার বশিরের জায়গায় আট বছর পর দলে ফেরা লিয়াম ডসনের নির্বাচন যে চমক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০১৭-তে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাঁর ৩টি টেস্টের শেষ টেস্ট খেলেছেন ডসন। এহেন ডসন মেঘলা এবং বৃষ্টিস্নাত ওল্ড ট্রাফোর্ডে কী করতে পারবেন সময় বলবে !!
ইংল্যান্ড কিন্তু ৩ পেসার এক স্পিনার থিওরিতে ভরসা রাখছে। কার্স, আর্চার, ওকস, এই তিন পেসারের সঙ্গে ঠান্ডা ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস কীরকম বল করেন সেটাই দেখার।
চা পান বিরতি অবধি দুই দলের টক্কর সমানে সমানে চলেছে। অধিনায়ক গিল যদি জাজমেন্ট ভুল না করতেন তাহলে ভারত চা বিরতিতে যেত দু উইকেট হারিয়ে। জয়সওয়াল দারুণ নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং করলেন এবং যখন মনে হচ্ছিল তিনি নিশ্চিত ভাবে শতরানের দিকে আগুয়ান, তখনই আট বছর পর দলে ফেরা লিয়াম ডসনের দারুণ একটা বল জয়সওয়ালের ব্যাট ছুঁয়ে স্লিপে চলে গেল। বলটা সত্যি দারুণ জায়গায় পড়েছিল।
ইংল্যান্ডের দিক থেকে দেখতে হলে ওকস, স্টোকস এবং আর্চার ভাল লাইন এবং লেন্থ রেখে বল করছেন এবং ম্যাঞ্চেস্টার পিচে বোলারদের জন্য বেশ রসদ আছে। ভারত যখন বোলিং করবে ধরেই নেওয়া যায় বুমরাহ এবং কোম্পানি ইংরেজদের ঘাম ছুটিয়ে দেবে।
মন বলছে ভারত তীব্র লড়াই করবে এবং লর্ডসের ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না। আমরা সবাই সাম্প্রতিক কালের এক অসাধারণ সিরিজের চতুর্থ টেস্ট দেখবার জন্য আগামী ৪ দিন টিভিতে চোখ রাখব। কি আপনারা আছেন তো?