
রবিবার ভারত পাকিস্তান মহাযুদ্ধের আগে পিচ নিয়েই প্রশ্ন নিউ ইয়র্কে।
শেষ আপডেট: 8 June 2024 20:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ' যেন পানিপথের যুদ্ধের চব্বিশ ঘণ্টা আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্নের মুখে পানিপথের প্রান্তর!
আগামীকাল, রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি ভারত পাকিস্তান। অনেকগুলো অঙ্ক দাঁড়িয়ে এই ম্যাচের ওপর। এখনও অবধি বিশ্বকাপে দর্শক সমাগম নিয়ে খুব একটা খুশি হতে পারেনি আইসিসি। মনে করা হচ্ছে, খেলা ঘুরবে কাল থেকেই। সম্ভবত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় দর্শক সমাগম দেখতে চলেছে নিউ ইয়র্ক। অথচ দুই দলের খেলোয়াড়দের চাইতেও পুরো স্পটলাইট রয়েছে নিউ ইয়র্কের নতুন বানানো স্টেডিয়ামের পিচের ওপর।
আমেরিকার সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্ক অনেকটা বেসবলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের মতোই। ফুটবলের চাইতেও অতলান্তিকের ওপারে বাস্কেটবল, বেসবল ও আমেরিকার ফুটবল বেশি জনপ্রিয়। ক্রিকেট নেহাতই হালের যোগ। ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে অবশ্য চেষ্টা বহুদিন ধরেই চালিয়েছে আইসিসি। বিশ্বকাপ আয়োজন তারই পরিণতি। রাতারাতি বিশ্বকাপের জন্য নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ইস্ট মিডোর আইজেনহাওয়ার পার্কে গড়ে তোলা হয়েছে নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়াম। সময় কমাতে আগেই বানানো গ্যালারির স্ট্যান্ড এনে বসানো হয়েছে। টুর্নামেন্টের পর সেসব খুলেও ফেলা হবে। পিচ বানাতে অ্যাডিলেড ওভালের কিউরেটর ড্যামিয়েন হোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্কের কনকনে ঠাণ্ডায় ঘাস গজিয়ে আদর্শ পিচ তৈরি প্রায় অসম্ভব। ফলে একাধিক সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে দক্ষিণে ফ্লোরিডায় কৃত্রিমভাবে ঘাসের আস্তরণ দেওয়া পিচ তৈরি করে দু'দিন ধরে ট্রলারে নিয়ে আসা হয়েছে নিউ ইয়র্কে।
এত কাঠখড় পুড়িয়ে পিচ বানানো হলেও যে পরিমাণ প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ছিল, সেটা যে হয়নি, তা এখন ঠারেঠোরে মানছেন আইসিসির কর্তারা। কার্যত বোঝাই যাচ্ছে না, পিচের চরিত্র কী। এখনও অবধি এই মাঠে তিনটে ম্যাচ হয়েছে বিশ্বকাপের। তার মধ্যে শ্রীলঙ্কা-দক্ষিণ আফ্রিকার মত বড় ম্যাচও আছে। অথচ তার দু'টো ম্যাচেই একশো পেরোয়নি রান। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে রোহিত শর্মা এমন কাঁধে আঘাত পেলেন যে বাকি ইনিংস ব্যাটই করেননি। পরে নিজেই বলেছেন, 'সত্যি বলতে, পিচ যে কীরকম হবে আমি নিজেই বুঝতে পারছি না। দলের এগারো জনকেই ভাল খেলতে হবে।'
পাকিস্তানের সমস্যা এর পরে আরও বেশি। ভারতের এই একটা সুবিধে, শুরু থেকে তারা নিউ ইয়র্কেই রয়েছে। আইপিএল শেষ হওয়ার আগেই কার্যত সিংহভাগ দল নিউ ইয়র্কে চলে এসেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে, পরে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও খেলেছে। এদিকে পাকিস্তানের গোড়াতেই গেরো। তারা প্রস্তুতি সেরেছে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ খেলে। চার ম্যাচের সিরিজের দুই ম্যাচ বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়েছে। বাকি দুই ম্যাচে ইংল্যান্ড গো-হারান হারিয়েছে। এদিকে আমেরিকা এসেও পাকিস্তানকে প্রথমে ম্যাচ খেলতে হয়েছে ডালাসে। সেখানে আমেরিকার কাছে হারতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সেই ধাক্কা সামলে সাড়ে তিন ঘন্টার বিমানযাত্রা করে নিউ ইয়র্কে নেমেছেন বাবর আজমরা। পরের দিনটা ছুটি দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের। ডালাস আর নিউ ইয়র্কের কন্ডিশন অনেকটাই আলাদা। এরপর ভারতের কাছে বেমক্কা হেরে বসলে শেষ আটে যাওয়াটাই কঠিন হয়ে যাবে পাকিস্তানের।
ইতিমধ্যেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে আইজেনহাওয়ার পার্কে। নাসাউ কাউন্টির পুলিশ কমিশনার প্যাট্রিক রাইডার যেমন সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তাঁর সফর হলে যেরকম নিরাপত্তা দেওয়া হত, প্রায় সেই মানের নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে মাঠ। নিউ ইয়র্কের প্রবাসী ভারতীয় ও পাকিস্তানিরা কার্যত জনজোয়ার তৈরি করবেন আশা করছে পুলিশ।