আঘাতপ্রবণ বোলারকে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়—সেই মন্ত্রও যেমন বদলানোর নয়। কেরিয়ারে জাহির খান, আশিস নেহারাদের সামলেছিলেন যিনি, সেই সৌরভ এবার দলের বর্তমান অধিনায়ক শুভমান গিলকে দিলেন বুমরাহকে কাজে লাগানোর বার্তা।

সৌরভ ও বুমরাহ
শেষ আপডেট: 12 June 2025 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ডের জমিতে কঠিন পরীক্ষা। দলের তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নেই। আর প্রধান বোলার যিনি, সেই জসপ্রীত বুমরাহও (Jasprit Bumrah) সদ্য চোট সারিয়ে উঠেছেন। উপরন্তু তাঁর কেরিয়ারও আঘাতের দগদগে অতীতে ভরা।
বাধ্য হয়ে দল ঘোষণার সময়ই নির্বাচক প্রধান অজিত আগারকর (Ajit Agarkar) সাফ জানিয়ে দেন, বুমরাহ সর্বাধিক তিনটি টেস্ট খেলতে নামবেন। তার বেশি কাজের বোঝা নেওয়াটা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। বোলারের ইচ্ছানুসারেই এই সিদ্ধান্ত, সে কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন আগারকর।
এরপরই দলের প্রধান সিমারকে কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে—সেই নিয়ে একগাদা মতামত ছড়িয়েছে। এবার তাতে যোগ দিলেন জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Surav Ganguly)। ইংল্যান্ডে গিয়ে ইংরেজদের হারানোর স্বাদ টিম ইন্ডিয়া (Team India) পেয়েছিল তাঁরই নেতৃত্বে। অনুরাগীদের স্মৃতিতে আজও তরতাজা ঐতিহাসিক ন্যাটওয়েস্ট সিরিজ, রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল। যেখানে শেষ ওভারে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ভারত!
এখন যুগ বদলেছে। কিন্তু ক্রিকেটের কিছু নিয়ম যে কোনও জমানায় একই থাকে। আঘাতপ্রবণ বোলারকে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়—সেই মন্ত্রও যেমন বদলানোর নয়। কেরিয়ারে জাহির খান, আশিস নেহারাদের সামলেছিলেন যিনি, সেই সৌরভ এবার দলের বর্তমান অধিনায়ক শুভমান গিলকে দিলেন বুমরাহকে কাজে লাগানোর বার্তা। বললেন, ‘জসপ্রীতই আসল খেলোয়াড়। শুভমানকে মাথায় রাখতে হবে, ওকে আর ওভারের পর ওভার বল করানো সম্ভব নয়। বুমরাহকে উইকেট-শিকারীর ভূমিকায় ব্যবহার করতে হবে। দিনে ১২ ওভারের বেশি বল নয়। বাকিদের এগিয়ে আসা জরুরি। যদি বুমরাহকে উইকেট-শিকারী হিসেবে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়, তাহলে ভারতের জেতার ভাল সম্ভাবনা আছে।‘
কিন্তু প্রতিপক্ষ হিসেবে ইংরেজরা নিজেদের ঘরের মাঠে যে শক্ত ঠাঁই, মেনে নিয়েছে সৌরভও। বলেছেন, ‘ইংল্যান্ড এই সমস্ত পরিস্থিতিতে বেশি ভাল খেলবে। কিন্তু ভারত যদি ঠিকমতো ব্যাট ও বল করতে পারে, তাহলে জেতার সুযোগ রয়েছে। আমি হয় এজবাস্টন নয়তো লর্ডসে ম্যাচ দেখতে আসব। এর কারণ ভারতের জয়লাভের সম্ভাবনা।‘
উল্লেখ্য, এর আগে দলের এক নম্বর পেসারকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই নিয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ফিজিওথেরাপিস্ট আশিস কৌশিক (Ashis Kaushik)। ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্বে ছিলেন আশিস। তাঁর মতে, কম টেস্ট খেলানো কোনও সমাধান হতে পারে না। বুমরাহর ‘কাজের ভার’ (ওয়ার্ক লোড) ঠিকমতো ‘কাজে লাগানো’ই তাঁকে ক্ষুরধার, কার্যকরী করে তোলার আসল চাবিকাঠি।
আশিস বলেন, ‘একজন বোলারকে দায়িত্বের বোঝা সামলানোর মতো শক্তিশালী করে তোলাটা কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তাঁদের অনুশীলন করতে হবে, শারীরিকভাবে আরও পাকাপোক্ত করে তুলতে হবে। এর জন্য যথেষ্ট সময় মাঠে থাকা এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি। যাতে ওই বোলার দু’নম্বর কিংবা তিন নম্বর স্পেল একইরকম দক্ষতায় করে যেতে পারেন।‘
কিন্তু কী এই ওয়ার্ক লোড? কীভাবে তাকে সর্বোচ্চ উপায়ে কাজে লাগানো যেতে পারে? কৌশিকের কথায়, ‘প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওয়ার্কলোডের অনুপাত নির্দিষ্ট। গবেষণায় এটা স্পষ্ট যে, একজন ক্রিকেটারকে বাঁধা মাপের ওয়ার্ক লোড নিতেই হবে। এতে চোট পাওয়া কিংবা আহত হওয়ার ঝুঁকি কমে। এর উপর-নীচই মুশকিল।‘
আশিসের যুক্তি: শুধু বেশি বল করা (ওভার বোল্ড) সমস্যার নয়, কম বল করাটাও (আন্ডার বোল্ড) একইরকমভাবে বিপজ্জনক। কাজের বোঝা যে স্রেফ বল করার সময় নিতে হয়—এটা ভুল ধারণা। অনুশীলনেও থাকে একই রকম ওয়ার্ক লোডের চাপ। পাশাপাশি একজন বোলারকে ব্যাটিং, ফিল্ডিং, প্র্যাকটিস ও কন্ডিশনিং ওয়ার্কের পরিশ্রমও সহ্য করতে হয়।
অর্থাৎ, মোদ্দা বিষয় দাঁড়াল বুমরাহকে কম টেস্ট খেলানোই সমাধান নয়। তিনি যতগুলি ম্যাচই খেলুন না কেন, ওয়ার্ক লোডের বন্টন ঠিকঠাক হওয়া জরুরি। নয়তো চোট-আঘাতের বিপদঘণ্টি ফের একবার বাজতে শুরু করবে।