আজ লেখিকার প্রয়াণ দিনে এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক তাঁর কলমে আঁকা পর্দার নারী চরিত্রদের।

সুচিত্রা ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 12 May 2025 15:19
আজ ১২ মে সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যর প্রয়াণ দিন। ২০১৫ সালে আজকের দিনে সুচিত্রা ভট্টাচার্যর আকস্মিক প্রয়াণে সবাই চমকে গিয়েছিল। সুচিত্রাদি নেই! যেন এক অবিশ্বাস্য খবর ছিল। অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারেননি তাঁর পাঠকরা। আজ লেখিকার প্রয়াণের দশম বার্ষিকী। সুচিত্রা ভট্টাচার্যর কাহিনি নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র হয়েছে বারবার। তাঁর কাহিনি শুনেই পর্দায় সেসব ছবি দেখতে দর্শকরা সিনেমা হল হাউসফুল করত। সুচিত্রা কাহিনির নায়িকা হওয়া যে কোনও অভিনেত্রীর কাছে ছিল ভীষণ বড় প্রাপ্তি। আজ লেখিকার প্রয়াণ দিনে এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক তাঁর কলমে আঁকা পর্দার নারী চরিত্রদের।
'দহন'-এর রোমিতা-ঝিনুক

সুচিত্রা ভট্টাচার্যকে আমজনতা চিনেছিল কিন্তু চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। যাঁর হাত ধরে সুচিত্রার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষ। ঋতুপর্ণ 'দহন' ছবি করার পর এবং সেই ছবি থেকে দুই অভিনেত্রী জাতীয় পুরস্কার পাওযার পর রীতিমতো তারকা লেখিকা হয়ে যান সুচিত্রা ভট্টাচার্য। রোমিতা, এক নববধূ যিনি কলকাতা মেট্রো স্টেশনের সামনে ধর্ষিতা হন। রোমিতাকে ধর্ষকদের হাত থেকে উদ্ধার করেন অটোযাত্রী স্কুল শিক্ষিকা ঝিনুক। কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা নিয়ে 'দহন' লিখেছিলেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য। রোমিতা চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও ঝিনুক চরিত্রে ইন্দ্রাণী হালদার ,দুজনেই পান শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। ঋতুপর্ণ ঘোষও পেয়েছিলেন সেরা বাংলা ছবি ও সংলাপ রচয়িতার জাতীয় পুরস্কার। 'দহন' সাড়া জাগানোর পর সুচিত্রা ভট্টাচার্যর কাহিনি প্রযোজক, পরিচালকদের কাছে ছিল সর্বাধিক চাহিদার।
'টলি লাইটস', এক স্বপ্নপূরণ

বিশিষ্ট অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী ছবি পরিচালনা করতে এসে সুচিত্রা ভট্টাচার্যর কাহিনি নিয়ে ছবি করেন 'টলি লাইটস'। এক আটপৌরে গৃহবধূর ফিল্মি দুনিয়ায় নায়িকা হয়ে যাওয়ার গল্প। একান্নবর্তী পরিবারে থেকে এক বউয়ের নিজের কেরিয়ার গড়ার স্ট্রাগলের গল্প। প্রধান ভূমিকায় ছিলেন শ্রীলেখা মিত্র।
হেমন্তের পাখি অদিতির কলম
এক মধ্যবিত্ত গৃহবধূ অদিতি (তনুশ্রী শঙ্কর)। তিনি বিয়ের ২৩ বছর পর লেখিকা হিসেবে কেরিয়ার গড়তে চান। আর সেখানেই তাঁর স্বামী, সন্তানের সঙ্গে সংঘাত হয়। অদিতির বন্দি জীবনে সরস্বতীর দূত হয়ে আসেন হেমেন মামা (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়)। তিনি অদিতিকে উৎসাহ দিয়ে লেখার জগতে পৌঁছে দেন। উর্মি চক্রবর্তীর পরিচালিত ছবিটি সেরা বাংলা ছবির জাতীয় পুরস্কার জিতে নেয়। সুচিত্রা যে আটপৌরে জীবনের মধ্যেও এক আধুনিক মনের ছাপ রেখে যেতেন তা 'হেমন্তের পাখি' ছবিতে ধরতে পেরেছিলেন উর্মি চক্রবর্তী। উর্মি বলেছিলেন 'আমি অদিতির চরিত্রে কোনও জনপ্রিয় নায়িকাকে চাইনি। আমার অদিতি একদম অন্য মুখ। তাই তনুশ্রী শঙ্করকে কাস্ট করি।'
মা-ছেলের 'ইচ্ছে'-র গল্প
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায় পরিচালক জুটি প্রথম সাফল্য পেয়েছিলেন সুচিত্রা ভট্টাচার্যর কাহিনির হাত ধরেই। ' ইচ্ছের গাছ' কাহিনি নিয়ে তৈরি 'ইচ্ছে' ছবিটি বিশাল সাড়া জাগিয়েছিল। মমতা পজেশিভ মায়ের চরিত্রে সোহিনী সেনগুপ্তর অভিনয় পর্দা কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছেলের উপর মায়ের অধিকার ও মায়ের অস্তিত্ব সংকট নিয়ে একদম বাস্তবধর্মী ছবি ছিল 'ইচ্ছে'। ছবি দেখে দর্শক ধন্য ধন্য করেছিল।