আজ জামাইষষ্ঠীর দিনে ফিরে দেখা যাক বাংলার এমন কয়েকজন অবাঙালি জামাইদের গপ্প।

বাংলার অবাঙালি জামাইরা । গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 1 June 2025 19:47
বাঙালি মেয়েদের রূপ লাবণ্য অন্য প্রদেশের পুরুষদের মন জয় করেছে বারবার। আর সেইসব বিয়ে যুগে যুগে চর্চায় উঠে এসেছে। এখন যেমন অবাঙালি বর বিয়ে করা জলভাত ব্যাপার হয়ে গিয়েছে, তখন কিন্তু এতটা সহজ ছিল না। যেসব বিয়েতে কোনও কন্যের বিয়ে টিকল, কারও বা সংসার ভাঙল। তবে এই অবাঙালি জামাইরা বাঙালিদের গর্ব বাড়িয়েছেন বারবার। আজ জামাইষষ্ঠীর দিনে ফিরে দেখা যাক বাংলার এমন কয়েকজন অবাঙালি জামাইদের গপ্প।
অমিতাভ বচ্চন - জয়া ভাদুড়ি

বাংলার শ্রেষ্ঠ অবাঙালি জামাই রূপে যার নাম যুগে যুগে এসছে তিনি বলিউড মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন। অমিতাভ যখন স্ট্রাগলার তখন তিনি কলকাতাতেই থাকতেন। ততদিনে জয়া ভাদুড়ি সত্যজিৎ রায় থেকে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের বাংলা ছবি করে ফেলেছেন। কলকাতার উঠতি নায়িকা জয়ার সঙ্গে প্রেম হয় অমিতাভ বচ্চন। সেইসময় জয়া-অমিতাভের প্রেম শহরের শিরোনামে ছিল। অমিতাভের জীবনে জয়ার অবদান প্রচুর। অমিতাভের সঙ্গে জয়ার বিয়ে সারা কলকাতার গর্ব বাড়িয়ে তুলেছিল। অমিতাভের জীবনেও পরভিন বাবি থেকে রেখার মতো সঙ্গিনী এসেছেন, কিন্তু জয়া-অমিতাভের নিরবচ্ছিন্ন দাম্পত্য কখনও ভাঙেনি। দীর্ঘ বৈবাহিক জীবনের উদাহরণ জয়া-অমিতাভ।

অন্নু কাপুর - অরুণিতা মুখোপাধ্যায়
অরুণিতা ছিলেন বেহালার মেয়ে। আর পাঁচজন মেয়ের মতোই সাধারণ জীবন চলছিল তাঁর। গানের মাধ্যমে যায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে যায় বলিউডের অভিনেতা গায়ক অন্নু কাপুরের। বলিউড সেলেবের মাদকতায় ভেসে অন্নুর প্রেমে পড়লেন অরুণিতা। ততদিনে প্রথম পক্ষের প্রেম ভেঙে গেছে অন্নুর। অনুপমা প্যাটেল ছিলেন অন্নুর প্রাক্তন স্ত্রী। ১৯৯২ এর বিয়ে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ১৯৯৩ সালেই ভেঙে গিয়েছিল। সেই জায়গায় এলেন অরুণিতা। বম্বে টু কলকাতা ফোনালাপ চলত দু'জনের। ১৯৯৫ সালে অরুণিতার সঙ্গে বিয়ে হয় অন্নুর। দশ বছর টিকেছিল তাঁদের দাম্পত্য। ২০০৫ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে তাঁদের। আশ্চর্যের ব্যাপার, এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রথম স্ত্রী অনুপমা প্যাটেলকে আবার বিয়ে করেন অন্নু। অরুণিতা হারিয়ে গেলেন গ্ল্যামার জগতের আড়ালে।

আশিস বিদ্যার্থী - পিলু বিদ্যার্থী
টলিউডের নামী অভিনেত্রী শকুন্তলা বড়ুয়ার মেয়ে পিলু তখন একটি এফ এম চ্যানেলের আর জে। সঙ্গে পিলুর যেমন রূপ তেমন সুমিষ্টি গানের গলা। সুন্দরী পিলুর প্রেমে পড়েন বলিউড অভিনেতা আশিস বিদ্যার্থী। বিয়ের পর শাশুড়ি শকুন্তলা বড়ুয়ার ভীষণ ভাল বন্ধু হয়ে ওঠেন জামাই আশিস। আশিস শকুন্তলার নতুন নাম দেন দেবী। দেবীদি বলেই শকুন্তলাকে ডাকতেন আশিস। অমিতাভ বচ্চনের পর আশিস বিদ্যার্থী বাংলার জামাই রূপে খুব জনপ্রিয়তা পান। কিন্তু বিয়ের বহু বছর পর হঠাৎ আশিস বেরিয়ে আসতে চান এই সংসার থেকে। দুই সন্তানের মা পিলু আশিসকে দোর আগলে আটকাননি। বরং ছেড়ে দেন স্বামীকে। আশিস আবার বিয়ে করেন। তবে শকুন্তলা বড়ুয়ার সঙ্গে আশিসের সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। প্রাক্তন শাশুড়ির জন্মদিনে আশিস উপহার পাঠান আজও। আশিসের দ্বিতীয় বউয়ের সঙ্গেও শকুন্তলার সম্পর্ক ভাল। শকুন্তলা বলেন 'সবই তো এক আছে!'

গুলজার - রাখী
গুলজার নামটা বললেই শ্বেতশুভ্র আবেশ ছড়িয়ে পড়ে সকলের মনে। গুলজার উর্দুর পাশাপাশি স্পষ্ট বাংলা পড়তে লিখতে পারেন। তাঁর বাড়িতে রবীন্দ্র রচনাবলী থেকে সমস্ত রকমের বাংলা বই থাকে। সেই গুলজার প্রেমে পড়েছিলেন বঙ্গতনয়া রাখীর। রাখী ততদিনে প্রথম বিবাহ থেকে বেরিয়ে এসেছেন। বাংলার মেয়ে রাখী তখন বম্বের ব্যস্ততমা নায়িকা। নীল চোখের গৌরবর্ণা রাখীর প্রেমে গুলজার হাবুডুবু খেয়েছিলেন। রাখীও ভেবেছিলেন গুলজারকে বিয়ে করলে ফিল্ম জগতে তাঁর পথ সুগম হবে। কিন্তু সেখানেই ছিল রাখীর বোঝার ভুল। বিয়ের পর আসল বিরোধ টের পান রাখী।

গুলজার চেয়েছিলেন সংসারী হন রাখী। কিন্তু রাখীর পাখির চোখ তখন বলিউডের বড় বড় প্রযোজনা সংস্থায় কাজ করা। বিরোধ থেকে বিচ্ছেদ। গুলজারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে যশরাজ ফিল্মসের নায়িকার রোলে সাইন করেন রাখী। এক সন্তান মেঘনা হবার পরপরই এই বিচ্ছেদ হয়। তবে রাখী-গুলজার আজও আইনি বিচ্ছেদে যাননি। আর কোনও সঙ্গীও বাছেননি জীবনে। মতের অমিল হওয়াতে শুধুমাত্র আলাদা থেকেছেন তাঁরা। এমনকি গুলজারের পরের ছবিগুলিতেও রাখী আর কাজ করেননি কখনও। অমিতাভ বচ্চন বাংলার জামাই রূপে যতটা গর্বের, কিংবদন্তি গুলজারও ততটাই গর্বের বাংলার জামাই। তবে 'বাংলার জামাই' উপাধিটা অমিতাভ বচ্চন সারা জীবনে যে ভাবে উদযাপন করে গেলেন, আর কোনও তারকা তা করেননি।