আশা ভোঁসলে বললেন 'আমি দুটো গানই গাইব, নয়তো একটাও গাইব না'।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 25 June 2025 16:01
'কোন পাখি তার দুঃসাহসের ডানা মেলে
যায় হারিয়ে অন্ধ মনের আঁধার ফেলে
এই মন সঙ্গী করে, আকাশের নীল নগরে
আমিও যাব উড়ে তারই পাখায়।
কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে যেন আমায়
কে ডাকে আয় চলে আয়।'
১৯৬৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল ইন্দর সেনের ছবি 'প্রথম কদম ফুল'। সুধীন দাশগুপ্তর সুরে ছবির প্রতিটি গান মারকাটারি হিট করে সেসময়। তনুজার লিপে আশা ভোঁসলের গান ঘরেঘরে প্রতিটি মানুষের মণিকোঠায় জায়গা করে নেয়। বিশেষত 'কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে' গানটি মানুষের মুখে মুখে ফিরেছিল। যা আজও আশা ভোঁসলের সিগনেচার গান। ক্যাবারে গানের বাইরে আশা ভোঁসলেকে দিয়ে মিষ্টি বাংলা গান প্রথম গাইয়েছিলেন সুধীন দাশগুপ্ত। তবে সবথেকে বড় যে ব্যাপার, 'কোন সে আলোর নিয়ে' গাইবার কথা ছিল লতা মঙ্গেশকরের। এই ছবির গীতিকার ছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

সুধীন দাশগুপ্ত ও ইন্দর সেন, কিন্তু প্রথমে চেয়েছিলেন 'প্রথম কদম ফুল' ছবিতে লতাজি আর আশাজি দু'জনেই গাইবেন দুটো গান। প্রযোজকও তাই চাইলেন। লতা একটা গান গাইলে সে ছবির বাজার এমনই বেড়ে যাবে। প্রভুকুঞ্জে লতার বাড়ি গেলেন ছবির প্রযোজক দীপ্তাংশু দেব। কিন্তু লতাজির দেখা পেলেন না। তখন তিনি বাড়িতে নেই। একই বাড়িতে একসঙ্গে থাকতেন লতা আর আশা। লতার সঙ্গে সাক্ষাত হল না, আশার সঙ্গে হল।
আশা প্রযোজক দীপ্তাংশু বাবুকে বললেন 'লতাজিকে দিয়ে কোন গান গাওয়াতে চান সুধীনদা আর পুলকদা? প্রযোজক বললেন 'লতাজিকে দিয়ে 'কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে' আর আপনাকে দিয়ে 'ডেকে ডেকে চলে গেছি কতদূরে'।
![pratham kadam phul [undated] | Endangered Archives Programme](https://images.eap.bl.uk/EAP127/EAP127_9_1088/1.jp2/full/!600,300/0/default.jpg)
শুনে আশা ভোঁসলে বললেন 'আমি দুটো গানই গাইব, নয়তো একটাও গাইব না'। অতএব তাতেই রাজি হলেন প্রযোজক আর সুরকার সুধীন দাশগুপ্ত। পরিচালক ইন্দর সেনও রাজি হলেন। শেষ অবধি দুটো গানই গাইলেন আশাজি।
লতা মঙ্গেশকর যতদূর আর এ ঘটনা জানতে পারেননি। সুধীন দাশগুপ্ত আশাকেই দুটো গান তোলালেন। নায়িকা তনুজার লিপেই দুটো গান গাইলেন তিনি। কে জানে লতা 'কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে' গাইলে কী হত? লতাজি সরে যেতে প্রযোজকের ছবির খরচও কমে গিয়েছিল। তবে শেষ অবধি আশাজির নিজের আইকনিক ক্লাসিক গান হয়ে গেল 'কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে'।