বিকাশবাবু সুচিত্রাকে বললেন, 'তুমি যে কী কর রমা, ওদের কথায় মঞ্চে উঠতে রাজি হয়ে গেলে? তোমার কি প্রেস্টিজ নেই?'

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 1 July 2025 20:26
সুচিত্রা সেন কোনদিনও কোনও পুজো উদ্বোধনের ফিতে কাটা কী মঞ্চে ওঠা এসব করেননি। তিনি রুপোলি পর্দাতেই সুচিত্রা সেন হয়ে থাকতে চেয়েছেন চিরকাল। তাঁর মনে হত প্রকৃত স্টার হতে গেলে এসবের প্রয়োজন পড়ে না। পর্দার বাইরে নিজের ব্যক্তিগত জীবন কখনও পাবলিক করেননি শ্রীমতী সেন। এসবের অনুরোধ উপরোধ এলে সবাইকে খারিজ করে দিতেন তিনি। কিন্তু একবার বিধান রায়ের ডাকে অনুষ্ঠানের ফিতে কাটতে যান সুচিত্রা সেন। পাঁচের দশকে চলচ্চিত্রের প্রথমা নায়িকা এমন বিরল ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। এতটাই বিধান চন্দ্র রায়কে শ্রদ্ধা করতেন মহানায়িকা।

বিধান রায় এমন একজন চিকিৎসক ছিলেন যিনি রোগীর গায়ে হাত না দিয়ে, এক ঝলকে রোগ নির্ণয় করতে পারতেন বিধান চন্দ্র রায়। সেসময় তৎকালীন প্রোগাম অর্গানাইজার আজকাল যাকে বলে ইভেন্ট ম্যানেজার বারীন ধর (যিনি পরবর্তী কালে সুচিত্রার ছোট বোন রুনাকে বিয়ে করেন) এসে ধরলেন সুচিত্রাকে। একটা অনুষ্ঠান মঞ্চে সুচিত্রা সেনকে চাই।
সেখানে ছিলেন সুচিত্রার পার্সোনাল ফটোগ্রাফার ধীরেন দেব। ওঁনারা বলতেই বিধান রায়ের নাম শুনে রাজি হয়ে গেলেন সুচিত্রা। তবে একটা শর্ত ছিল, বিধান রায়ের টিবি ক্লিনিকের জন্য ১০০১ টাকা চাঁদা দিতে হবে সুচিত্রাকে। যা শুনে একবাক্যে দান করতে রাজি হন সুচিত্রা।

সেদিন সবাই বুঝল সুচিত্রার মধ্যে কত বড় সমাজসেবী লুকিয়ে আছে। প্রস্তাবটা যখন ওঁকে দেওয়া হয়, তখন সুচিত্রা সেনের পাশে বসে ছিলেন বিকাশ রায়।
বিকাশবাবু সুচিত্রাকে বললেন, 'তুমি যে কী কর রমা, ওদের কথায় মঞ্চে উঠতে রাজি হয়ে গেলে? তোমার কি প্রেস্টিজ নেই?'
সুচিত্রা কিন্তু বিকাশ রায়ের সে কথায় আমল দিলেন না। দিনের দিন ঠিক তিনি পৌঁছে গেলেন অনুষ্ঠানে। মঞ্চে উঠলেন ফিতে কাটতে।

শুধু তাই নয়, সেই টাকা সুচিত্রা দিয়ে এলেন গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায়ের হাতে। বিধান রায়ের বাড়িতে সুচিত্রা উপস্থিত হওয়াতে বেশ চমকে যান তিনি। মধ্যগগনে থাকা হিরোইন তাঁর বাড়িতে। তাও নিজ ইচ্ছেতে এসেছেন নায়িকা। সুচিত্রা কিন্তু খুব মন থেকেই বিধান রায়ের হাতে টাকা তুলে দেন টিবি ক্লিনিকের উন্নয়নের জন্য। আজ চিকিৎসক দিবসে ফিরে দেখা সেই সময়রেখা, যা এ যুগের নায়িকাদের উদ্বুদ্ধ করবে।