এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে বলেই আশাবাদী ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং মহল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 June 2025 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিজিটাল লেনদেনের গতি বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করল ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)। সোমবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে ইউপিআই লেনদেনে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম। ফলে আগের তুলনায় অনেক দ্রুততার সঙ্গে টাকা পাঠানো যাবে, ব্যালেন্স চেক করা কিংবা ব্যর্থ লেনদেনের রিফান্ডও হবে আগের চেয়ে সহজ।
নতুন নিয়মে কী বদল এল?
এখন থেকে ফোনপে, গুগল পে, পেটিএম-সহ যে কোনও ইউপিআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে টাকা পাঠালে বা ব্যালেন্স চেক করলে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে। আগে যেখানে সময় লাগত ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত। পে-অ্যাড্রেস যাচাই করতেও এখন সময় লাগবে মাত্র ১০ সেকেন্ড, আগে ছিল ১৫ সেকেন্ড।
ইন্টারনেট সমস্যা বা কোনও কারণে লেনদেন ব্যর্থ হলে আগের মতো ৩০ সেকেন্ড নয়, এখন ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে যে লেনদেন সফল হয়নি এবং টাকা ফেরত হবে কি না। এমনকি যদি লেনদেন ইউপিআই সিস্টেমেই না পৌঁছয়, তবে তা ট্রান্সকশন ফেইল হিসাবে চিহ্নিত হবে।
আগে কোনও ইউপিআই লেনদেনের স্থিতি জানতে অ্যাপ বা ব্যাঙ্ককে অপেক্ষা করতে হত অন্তত ৯০ সেকেন্ড। এখন ৪৫-৬০ সেকেন্ড পরই সেই তথ্য জানা যাবে। তবে একটি লেনদেনের স্ট্যাটাস জানতে ব্যাঙ্ক বা অ্যাপ এক দিনে সর্বাধিক তিন বার চেক করতে পারবে, সময়সীমা দুই ঘণ্টা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন ইউপিআই অ্যাপে দিনে সর্বাধিক ৫০ বার ব্যালেন্স চেক করা যাবে। আগে এর কোনও সীমা ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সীমাবদ্ধতা রাখার ফলে সার্ভার এবং নেটওয়ার্কের উপর চাপ কমবে।
ডিজিটাল লেনদেনকে আরও স্বচ্ছ করতে এনপিসিআই জানিয়েছে, ইউপিআই অ্যাপে ‘প্রাপক’ বা বেনিফিসিয়ারির নাম আর বদলানো যাবে না। অর্থাৎ লেনদেনের সময় অ্যাপে যা নাম দেখা যাবে, সেটিই প্রকৃত প্রাপকের নাম হবে। কোনওভাবেই তা পরিবর্তন করা যাবে না। প্রতারণা রুখতেই এই পদক্ষেপ, যা সব ইউপিআই অ্যাপ এবং ব্যাঙ্ককে ৩০ জুনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসেই ইউপিআই লেনদেন পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়। ওই এক মাসে ১,৮৬৮ কোটি লেনদেন হয়েছে ইউপিআই-এর মাধ্যমে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫.১৪ লক্ষ কোটি টাকায়।
এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে বলেই আশাবাদী ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং মহল।