আজকের রুপোর দাম ভারতে পৌঁছেছে রেকর্ড স্তরে। আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা ও শিল্প চাহিদার জেরে সিলভার দামে বড় উত্থান।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 27 January 2026 18:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো : আজকের রুপোর দাম ভারতে পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়। সাদা ধাতুর এই ঊর্ধ্বগতি ঘিরে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন পুরোপুরি বাজারের দিকে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেশের একাধিক বড় শহরে রুপোর দামে জোরালো উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।
দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা ও চেন্নাই—প্রায় সব বড় বাজারেই একযোগে দাম বাড়ায় খুচরো ক্রেতা থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর চাহিদা বৃদ্ধি, শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়া এবং ডলারের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি ভারতীয় বাজারে পড়ছে। পাশাপাশি এমসিএক্সে রুপোর দর ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সকাল থেকেই লেনদেন বেড়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে সোনা ও রুপো—দু’টি ধাতুর দামই ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও আজ রুপোর গতি তুলনামূলকভাবে বেশি চোখে পড়ছে। শিল্প কারখানা, গয়নার বাজার এবং বিনিয়োগ—তিন ক্ষেত্রেই একসঙ্গে চাহিদা বাড়ায় রুপোর বাজার এখন চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে দামের দিকনির্দেশ কী হবে, তা নিয়েই আজকের রুপোর দামের গতিপথের দিকে সবার নজর।
আজ দেশের বাজারে রুপোর দামে কী দেখা গেল
ভারতের বুলিয়ন বাজারে আজ রুপোর দামে বড়সড় নড়াচড়া দেখা গেছে। বিভিন্ন শহরের খুচরো বাজারে রুপোর দর কেজিপ্রতি প্রায় ৩.৪০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে কিছু জায়গায় ৩.৭৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বাজার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাস জুড়ে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী গতির পর আজকের এই স্তরকে রুপোর রেকর্ড উচ্চতা হিসেবেই ধরা হচ্ছে। ফলে আজকের রুপোর দাম ভারতে নিয়ে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতা—দু’পক্ষেরই নজর বাজারের দিকে নিবদ্ধ।
শহরভেদে দামের পার্থক্য কেন হচ্ছে
রুপোর দামে শহরভেদে পার্থক্য নতুন কোনও বিষয় নয়। কর কাঠামো, পরিবহণ খরচ এবং স্থানীয় চাহিদার তারতম্যের কারণেই এই পার্থক্য দেখা যায়। আজ দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি শহরে রুপোর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা গেছে, অন্যদিকে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বড় শহরগুলিতে দাম কিছুটা কম। তবে এই আঞ্চলিক পার্থক্য সত্ত্বেও সার্বিকভাবে রুপোর দামের দিকটি স্পষ্টভাবেই ঊর্ধ্বমুখী। আজকের রুপোর দাম ভারতে বিশ্লেষণ করতে গেলে এই দিকটি মাথায় রাখা জরুরি।
প্রধান শহরগুলিতে আজকের রুপোর দর
| শহর | রুপোর দাম (প্রতি কেজি) |
|---|---|
| দিল্লি | প্রায় ₹৩,৪০,০০০ |
| মুম্বই | প্রায় ₹৩,৪০,০০০ |
| চেন্নাই | প্রায় ₹৩,৭৫,০০০ |
| কলকাতা | প্রায় ₹৩,৪০,০০০ |
| হায়দরাবাদ | প্রায় ₹৩,৭৫,০০০ |
দ্রষ্টব্য: এই দামগুলি ইঙ্গিতমূলক। এর সঙ্গে জিএসটি ও স্থানীয় অতিরিক্ত খরচ যুক্ত নয়।
এই মাসে রুপোর দামের ওঠানামা
জানুয়ারি ২০২৬ মাসের শুরুতে রুপোর দাম ছিল তুলনামূলকভাবে কম। মাসের প্রথম সপ্তাহে কেজিপ্রতি প্রায় ২.৩৮ লক্ষ টাকা দরে লেনদেন হচ্ছিল। এরপর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে দাম আজকের স্তরে পৌঁছেছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক মাসেই রুপোর দামে ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। এই দ্রুত উত্থানই রুপোর বাজারকে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে।
এত দ্রুত দাম বাড়ার পেছনের কারণ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপোর দামের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা, শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ—সব মিলিয়েই দামের উপর চাপ বাড়ছে।
বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ তৈরিতে রুপোর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের বাজারেও।
এমসিএক্স বাজারে রুপোর অবস্থান
দেশের পণ্য বাজার এমসিএক্সেও জানুয়ারি মাসে রুপোর দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ১৯ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো এমসিএক্সে রুপোর ফিউচার দাম কেজিপ্রতি ৩ লক্ষ টাকার সীমা অতিক্রম করে। এরপর কিছুটা ওঠানামা হলেও দাম উচ্চ স্তরেই রয়েছে।
এমসিএক্সের এই গতি খুচরো বাজারের দামের উপরও স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
সরকারি মানদণ্ডে রুপোর দাম
ভারতে স্বর্ণ ও রুপোর সরকারি মানদণ্ড হিসেবে ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)–র হার ধরা হয়। এই হারে কর যুক্ত থাকে না এবং এটি বাজারের ভিত্তি দাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আইবিজেএর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে রুপোর মানদণ্ডমূল্য কেজিপ্রতি ৩ লক্ষ টাকার অনেক উপরে, যা সাম্প্রতিক অতীতের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই হারকে ভিত্তি করেই দেশজুড়ে ব্যবসায়ীরা খুচরো দামের হিসাব ঠিক করেন।
বিনিয়োগকারীদের বাড়তি নজর কেন
রুপোর দাম যেভাবে দ্রুত বেড়েছে, তাতে বিনিয়োগকারীদের নজর স্বাভাবিকভাবেই এই ধাতুর দিকে চলে এসেছে। অনেকেই এখন স্বর্ণের পাশাপাশি রুপোকেও গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান ধাতু হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে রুপোর দামে কয়েক গুণ বৃদ্ধি হয়েছে, যা বহু প্রচলিত বিনিয়োগ মাধ্যমের তুলনায় বেশি। এই কারণেই আজকের রুপোর দাম ভারতে বিনিয়োগকারীদের আলোচনায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এর মানে কী
রুপোর গয়না, বাসন কিংবা উপহার সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উপর এই দামের সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বিয়ে ও উৎসবের মরশুমে যাঁরা রুপো কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের খরচ আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।
তবে ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দাম বাড়লেও চাহিদা পুরোপুরি কমেনি। অনেক ক্রেতাই ভবিষ্যতে আরও দাম বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় এখনই কেনাকাটার দিকে ঝুঁকছেন।