আয়কর ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে (Old Vs New Income Tax Regime) অনেক বেতনভুক কর্মী অজান্তেই বড় আর্থিক ভুল করে বসতে পারেন বলে সতর্কবার্তা দিলেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন করব্যবস্থাকে ডিফল্ট হিসেবে চালু করার পর থেকে অনেকেই তা না ভেবেই বেছে নিচ্ছেন, আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে সমস্যার সম্ভাবনা।

শেষ আপডেট: 31 March 2026 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়কর ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে (Old Vs New Income Tax Regime) অনেক বেতনভুক কর্মী অজান্তেই বড় আর্থিক ভুল করে বসতে পারেন বলে সতর্কবার্তা দিলেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন করব্যবস্থাকে ডিফল্ট হিসেবে চালু করার পর থেকে অনেকেই তা না ভেবেই বেছে নিচ্ছেন, আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে সমস্যার সম্ভাবনা।
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নীতিন কৌশিক জানিয়েছেন, নতুন করব্যবস্থা প্রথম দেখায় আকর্ষণীয় মনে হলেও সবার জন্য তা সমান লাভজনক নয়। তাঁর মতে, “অনেকেই ভিড়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ব্যবস্থায় চলে যাচ্ছেন, অথচ এতে বছরে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত কর দিতে হতে পারে।”
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মূল লড়াইটা দাঁড়িয়েছে—কম করের হার বনাম বেশি ছাড়ের সুবিধা। নতুন করব্যবস্থায় ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে করমুক্ত সুবিধা থাকলেও, এতে HRA, 80C, 80D-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছাড় পাওয়া যায় না। অন্যদিকে পুরনো ব্যবস্থায় এই ছাড়গুলি বজায় থাকলেও করের হার তুলনামূলক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’। যদি কোনও করদাতার মোট ছাড় ৪.২৫ লক্ষ টাকার কম হয়, তাহলে নতুন ব্যবস্থাই বেশি লাভজনক। কিন্তু এই ছাড়ের পরিমাণ যদি ৪.৫ লক্ষ টাকার বেশি হয়ে যায়, তাহলে পুরনো ব্যবস্থায় করের বোঝা কম হতে পারে।
একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে—ধরা যাক, দু’জন কর্মীর বার্ষিক আয় ১৮ লক্ষ টাকা। একজনের ছাড় কম (প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা), তিনি নতুন ব্যবস্থায় গেলে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা বাঁচাতে পারেন। কিন্তু অন্যজন যদি বাড়ির ঋণের সুদ, বেশি ভাড়া ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় ৫.৫ লক্ষ টাকার ছাড় পান, তাহলে তাঁর ক্ষেত্রে পুরনো ব্যবস্থাই বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা সাশ্রয়ী।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে পুনে ও বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলিকে ৫০% HRA শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিশেষ করে আইটি পেশাজীবীদের জন্য পুরনো করব্যবস্থাকে আবারও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, করদাতাদের উচিত তাড়াহুড়ো না করে নিজের আয়, বিনিয়োগ ও ছাড়ের হিসাব ভালোভাবে বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। শুধু ডিফল্ট অপশন দেখে সিদ্ধান্ত নিলে সঞ্চয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে।