রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) বাজারের অস্থিরতা কমাতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করলেও, বিশ্ববাজারের প্রতিকূল পরিস্থিতি ও বিদেশি লগ্নিকারীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ঝোড়ো হাওয়ায় খড়কুটোর মতো উড়ে গেল টাকার প্রতিরোধ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 March 2026 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের অর্থনীতির কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করে মার্কিন ডলারের (US Dollar) তুলনায় ভারতীয় টাকার (Indian Rupee) দামে রেকর্ড পতন ঘটল। সোমবার বাজার খুলতেই দেখা যায়, ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে এক ডলারের বিনিময় মূল্য ৯৫ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) বাজারের অস্থিরতা কমাতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করলেও, বিশ্ববাজারের প্রতিকূল পরিস্থিতি ও বিদেশি লগ্নিকারীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ঝোড়ো হাওয়ায় খড়কুটোর মতো উড়ে গেল টাকার প্রতিরোধ।
রেকর্ড পতন ও বাজার পরিস্থিতি
সোমবার দিনের শুরুতেই ডলারের তুলনায় টাকার দাম ০.৩ শতাংশ পড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৯৫.২০ টাকায়। মার্চ মাস জুড়েই টাকার দামে রক্তক্ষরণ চলছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মাসেই টাকার দাম ৪ শতাংশের বেশি পড়েছে, যা গত সাত বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চ পতন। এই পতনের রেশ পড়েছে শেয়ার বাজারেও। এ দিন নিফটি-৫০ সূচক প্রায় ২ শতাংশ পড়ে গিয়ে ২০২০ সালের মার্চের পর সবথেকে খারাপ মাসিক ফলের দিকে এগোচ্ছে।
ব্যর্থ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দাওয়াই
বাজারের ফাটকা রুখতে গত শুক্রবারই একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রতিটি ব্যবসায়িক দিনের শেষে ব্যাঙ্কগুলি ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি মুদ্রা হাতে রাখতে পারবে না। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, ব্যাঙ্কগুলি যাতে ডলার মজুত না করে বাজারে ডলারের জোগান বাড়ায়। কিন্তু সেই দাওয়াই সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী পতন রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
কেন এই রক্তক্ষরণ?
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পিছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে:
বাজার বিশেষজ্ঞদের দাবি, যতক্ষণ না তেলের দাম কমছে অথবা বিদেশি লগ্নিকারীরা পুনরায় বিনিয়োগ শুরু করছেন, ততক্ষণ টাকার ওপর এই চাপ বজায় থাকবে। টাকার দামের এই পতন আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে আরও উসকে দিচ্ছে।