কলকাতার বাজারে ফের কমল রুপোর দাম। খুচরো ও বাটের দরে বড় পতন মধ্যবিত্তের স্বস্তি বাড়িয়েছে। জেনে নিন আজকের দাম, পতনের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা।

শেষ আপডেট: 10 November 2025 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার বাজারে ফের এক ধাক্কায় অনেকটা কমল রুপোর দাম—যা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির মুখে হাসি ফোটিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে অস্থির থাকা এই মূল্যবান ধাতুর দর আজ বড়সড় পতনের সাক্ষী। উৎসবের মরসুমের ঠিক আগেই রূপার এই দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের কাছে এক সুখবর, কারণ গয়না কিংবা রুপোর সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে এটি তাদের বাজেটে স্বস্তি আনবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যহ্রাসের মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব। তবে এর ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে স্থানীয় বাজারে। ফলে এই সুযোগ কাজে লাগাতে ইতিমধ্যেই ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন শহরের বিভিন্ন জুয়েলারি ও বুলিয়ন দোকানে—কারণ এমন সুযোগ বারবার আসে না।
কলকাতায় রুপোর দামের সাম্প্রতিক পতন
বিগত কয়েকদিনের ওঠানামার পর রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কলকাতার বাজারে রূপার দামে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। খুচরো রুপো ও রূপার বাট—দুই ক্ষেত্রেই দামের পতন হয়েছে, যা উৎসবের মরশুমের আগে সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিন ধরে যারা রূপা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাঁদের জন্য আজকের এই দর বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
রুপোর দাম কমার পেছনের কারণ
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, রূপার দামের এই পতনের পেছনে কাজ করছে একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কারণ—
শক্তিশালী ডলার সূচক: মার্কিন ডলারের মান বৃদ্ধি পেলে সাধারণত সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান ধাতুর দাম কমে যায়। বর্তমানে ডলার শক্তিশালী অবস্থায় থাকায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে রুপোর চাহিদা কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতি: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীরা রুপোর বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে রুপোর দামে চাপ পড়ছে।
শিল্পে চাহিদা হ্রাস: শিল্পক্ষেত্রে রূপার চাহিদা দুর্বল হয়েছে। বিশেষত ইলেকট্রনিক্স ও সৌর প্যানেল তৈরির খাতে রুপোর ব্যবহার কমে যাওয়ায় সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, ভারতে মোট ব্যবহৃত রূপার প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশই শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
লাভ বুকিং: গত কয়েক মাস ধরে রূপার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় অনেক বিনিয়োগকারী এখন লাভ তুলে নিচ্ছেন, যার ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে।
বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তন: অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা-রূপার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ যেমন শেয়ারে আগ্রহী হচ্ছেন।
কলকাতার বাজারে আজকের রুপোর দাম
১০ নভেম্বর ২০২৫ অনুযায়ী কলকাতার বাজারে রুপোর দর নিম্নরূপ —
| রুপোর প্রকার | পরিমাণ | আজকের দাম (₹) | আগের দিনের তুলনায় পরিবর্তন (₹) |
|---|---|---|---|
| খুচরো রুপোর | ১০০ গ্রাম | ১৪,৮৭০ | -৮০ |
| খুচরো রুপোর | ১ কেজি | ১,৪৮,৭০০ | -৮০০ |
| রুপোর বাট | ১০০ গ্রাম | ১৪,৮৬০ | -৮০ |
| রুপোর বাট | ১ কেজি | ১,৪৮,৬০০ | -৮০০ |
এছাড়া, ৯২৫ বিশুদ্ধ রুপোর দাম বর্তমানে প্রতি গ্রাম ₹১৬৪। রুপোর কেনার সময় উপরের দামের সঙ্গে ৩% জিএসটি এবং মজুরির উপর ৫% জিএসটি অতিরিক্ত ধার্য হয়।
মধ্যবিত্তের মুখে স্বস্তির হাসি
এই দরপতন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। বাঙালি সংস্কৃতিতে সোনা ও রূপা অলঙ্কার এবং উপহারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উৎসব বা বিয়ের মরশুমে রুপোর গয়না কেনার আগ্রহ তুঙ্গে থাকে। ফলে দাম কমায় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বাজেটের চাপও অনেকটা কমেছে। রুপো শুধু অলঙ্কারের জন্য নয়, বিনিয়োগেরও অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম। দাম কমায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও এখন বাজারে প্রবেশ করছেন।
বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রুপোর বাজারের এই পতন স্থায়ী নয়। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও শিল্পখাতে রুপোর চাহিদা বাড়লে দাম আবারও উর্ধ্বমুখী হতে পারে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং সুদের হারের পরিবর্তন রুপোর দামের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই বিনিয়োগকারীদের এখনই সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।