
পূর্ব ভারতে সবচেয়ে বড় হেল্থকেয়ার প্রোভাইডার হয়ে উঠল মনিপাল গোষ্ঠী।
শেষ আপডেট: 14 May 2024 21:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার আমরি হাসপাতাল এবার অন্তরঙ্গ ও বহিরঙ্গে ষোল আনা মনিপাল হাসপাতাল হল।
দক্ষিণের মনিপাল গোষ্ঠী আট মাসে অধিগ্রহণ করেছে আমরি হাসপাতালকে। আমরির ঢাকুরিয়া, সল্টলেক, মুকুন্দপুর এবং ভুবনেশ্বর—এই চার হাসপাতালই নয়া নামে বদলে গেল। যার অর্থ পূর্ব ভারতে সবচেয়ে বড় হেল্থকেয়ার প্রোভাইডার হয়ে উঠল মনিপাল গোষ্ঠী।
কয়েক বছর আগে কলকাতার কলম্বিয়া এশিয়া হাসপাতাল অধিগ্রহণের মাধ্যমে পূর্ব ভারতে প্রবেশ ঘটে মনিপালের। তার পর তারা আমরি অধিগ্রহণ করেছে। মনিপাল হসপিটালসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সিইও দিলীপ জোস মঙ্গলবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, মেডিকা হাসপাতালও তাঁরা অধিগ্রহণের পথে। যার অর্থ মেডিকার মুকুন্দপুরের হাসপাতাল, শিলিগুড়ির দুটি হাসপাতাল এবং রাঁচির হাসপাতালটিও অধিগ্রহণ করে নিচ্ছে কলকাতা।
দিলীপ জোস এদিন আরও জানিয়েছেন, রাজারহাটে মনিপাল একটি জমি নিয়েছে। সেখানে একটি নতুন হাসপাতালও গড়ে তুলবেন তাঁরা। সেখানে প্রথম দফায় সাড়ে তিনশ বেডের হাসপাতাল তৈরি হবে। তাতে আরও দু-তিন বছর সময় লাগবে। দিলীপের কথায়, “রাজারহাটে চাইলে এখনই পাঁচশ বেডের হাসপাতাল তৈরি করা যেত। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা হল, বেশিরভাগ রোগীকে এখন হাসপাতালে দু-তিন দিনের বেশি থাকতে হয় না। কারণ, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে।”
দিলীপ জোস আরও জানিয়েছেন, আমরি হাসপাতাল অধিগ্রহণের জন্য তাঁরা ২৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তার পর অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে চিকিৎসা সামগ্রী ও প্রযুক্তির আধুনিকীকরণে। কলকাতায় মনিপাল হাসপাতালে রেডিয়েশন অঙ্কোলজি এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্ট শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মনিপাল হাসপাতাল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সুদর্শন বল্লালও ছিলেন। তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে আমরা দেখেছি, কলকাতা তথা পূর্ব ভারত থেকে প্রচুর সংখ্যায় মানুষ চিকিৎসা করাতে বেঙ্গালুরুর মনিপাল হাসপাতালে যান। বেঙ্গালুরুর হাসপাতালের অন্তত ১৫ শতাংশ রোগী হলেন কলকাতার বা পূর্ব ভারতের। এঁদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও কিছু রয়েছেন। এত দূরে চিকিৎসা করানোর জন্য তাঁদের আনুসঙ্গিক খরচ বেড়ে যায়। কলকাতাতেই মনিপালের হাসপাতাল থাকলে তাঁরা হাতের কাছে পরিষেবা পাবেন।”
আবার দিলীপ জানিয়েছেন, মনিপালের প্রতিটি হাসপাতাল একে অপরের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে। অর্থাৎ তাঁদের ডেটা বেস কমন। কলকাতায় কোনও রোগী চিকিৎসা করালে তাঁর রেকর্ড মনিপালের যে কোনও হাসপাতাল থেকে অ্যাকসেস করা যাবে।
আমরি ও মেডিকা অধিগ্রহণের পর দেশের ১৯টি শহর মিলিয়ে মনিপাল হাসপাতালের সংখ্যা হবে ৩৭। হাসপাতালের বেডের সংখ্যা হবে সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি। প্রায় ৬ হাজার পেশাদার ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক থাকবে তাঁদের।
তবে সারা দেশের বিষয়টি ভিন্ন। আপাতত বলা যায়, কলকাতা এখন মনি-ময়। কারণ নয় নয় করে কলকাতায় এবার ৬টি হাসপাতাল থাকবে মনিপালেরই। বাংলায় ৮টি।