Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

কলকাতায় রুপোর দামে সামান্য পতন, তবুও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুঙ্গে

আজ কলকাতায় রুপোর দামে সামান্য পতন। তবুও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুঙ্গে। রুপোর ভবিষ্যৎ দর ও বাজার বিশ্লেষণ পড়ুন।

 

কলকাতায় রুপোর দামে সামান্য পতন, তবুও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুঙ্গে

শেষ আপডেট: 17 December 2025 14:50

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় আজ রুপোর দামে সামান্য পতন দেখা গেলেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে একটুও ভাটা পড়েনি। বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মধ্যেও শহরের সোনা-রুপোর বাজারে এই চিত্র স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে রুপো এখনও নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে দাম কিছুটা কমলেও বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন না। বরং কম দামে কেনার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে রুপোর ভবিষ্যৎ দামের গতিপথ নিয়ে বাজারে জল্পনা আরও বেড়েছে।

কলকাতায় রুপোর দামে সাম্প্রতিক পরিবর্তন

দেশের বাজারে, বিশেষত কলকাতায়, রুপোর দামে সাম্প্রতিক সময়ে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে রুপোর বাজার ছিল বেশ চড়া। ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ১০০ গ্রাম রুপোর দাম ছিল ১৯,৭৯০ টাকা, যেখানে এক কিলোগ্রাম রুপোর দাম দাঁড়িয়েছিল ১,৯৭,৯০০ টাকায়। ওই দিন এক ধাক্কায় রুপোর দাম ১০০ টাকা কমেছিল। তার আগের দিনগুলোতে রুপোর দাম ২ লাখ টাকার গণ্ডিও ছাড়িয়েছিল, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছিল।

১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কলকাতায় খুচরো বাজারে প্রতি কেজি রুপোর দাম ছিল ১,৯৩,৭০০ টাকা এবং রুপোর বাটের দাম ছিল ১,৯৩,৬০০ টাকা। আগের দিনের তুলনায় এই দামে প্রায় ২.০৫ থেকে ২.০৬ শতাংশ পরিবর্তন দেখা গেছে। এই সামান্য দরপতন সত্ত্বেও রুপোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং তা আরও তুঙ্গে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্বল্পমেয়াদী একটি প্রবণতা, আর দীর্ঘমেয়াদে রুপো এখনও অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিনিয়োগ।

কেন রুপোর দামে এই ওঠানামা?

রুপোর দামে এই ওঠানামার পেছনে রয়েছে একাধিক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কারণ। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এর অন্যতম প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার পাশাপাশি রুপোর গয়না ও শিল্পক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে সম্প্রতি রুপোর দামে নজিরবিহীন উত্থান দেখা গেছে।

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার কারণ

রুপোর দামে সামান্য পতন হলেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। চলতি বছরে রুপো বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই রুপো সোনার তুলনায় বেশি রিটার্ন দিয়েছে। ব্রোকারেজ ফার্মগুলির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত স্পট রুপোর দাম বেড়েছে প্রায় ১০৮ শতাংশ, যেখানে সোনার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি প্রায় ৬৮ শতাংশে সীমাবদ্ধ।

এই অভূতপূর্ব দরবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারী—সবার মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রুপোকে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা যখন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছয়, তখন অপেক্ষাকৃত কম দামে বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে অনেকেই রুপোর দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে রুপোর প্রতি আস্থাও বেড়েছে। পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা বৃদ্ধিও বিনিয়োগের পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অ্যাক্সিস মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। তাদের মতে, অতিরিক্ত মূল্যায়নের কারণে শারীরিক চাহিদায় সামান্য দুর্বলতাও রুপোর দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে রুপোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচকই রয়েছে।

শিল্পক্ষেত্রে রুপোর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার

বর্তমানে রুপো আর শুধু গয়না বা সাজসজ্জার সামগ্রীতেই সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তিতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। বিদ্যুৎ পরিবহণে রুপো সোনা ও তামার চেয়েও বেশি কার্যকর হওয়ায় শিল্পক্ষেত্রে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), সৌর প্যানেল এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে রুপোর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা যত বাড়বে, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরিতে রুপোর প্রয়োজন ততই বাড়বে। বর্তমানে রুপোর মোট ব্যবহারের অর্ধেকেরও বেশি শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দামের পক্ষে শক্তিশালী সহায়ক। থাইল্যান্ড থেকে রুপোর গয়নার আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা বিশ্ববাজারে রুপোর চাহিদার চিত্র স্পষ্ট করে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস

বাজার বিশেষজ্ঞরা রুপোর ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। মতিলাল অসওয়াল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (MOFSL)-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে রুপোর দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে প্রতি আউন্স রুপোর দাম বর্তমান ৫১ ডলার থেকে বেড়ে ৭৫–৭৭ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ভারতে প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দাম ২.৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।

অ্যাক্সিস মিউচুয়াল ফান্ড সম্ভাব্য সংশোধন ও অস্থিরতা নিয়ে সতর্ক করলেও সামগ্রিকভাবে রুপোর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি রুপোর দাম ১,৭০,০০০ থেকে ১,৭৮,০০০ টাকার মধ্যে নেমে আসে, তবে তা বিনিয়োগের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভাবনা

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও রুপো নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সোনার দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় অনেকেই রুপোকে বিকল্প বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। উৎসবের মরসুমে গয়না ও বাসনের চাহিদা বাড়ার কারণেও রুপোর বাজার সক্রিয় থাকে। অনেক বিনিয়োগকারী সিলভার ইটিএফ এবং ফিজিক্যাল রুপো—বার বা কয়েন—কিনে বিনিয়োগ করছেন।

ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট থেকে ইটিএফ কেনা সহজ হওয়ায় এবং সংরক্ষণের ঝামেলা না থাকায় এটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে ফিজিক্যাল রুপো কেনার ক্ষেত্রে তৈরি চার্জ, জিএসটি এবং স্টোরেজ খরচের বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা এমসিএক্স ফিউচার মার্কেটে স্বল্পমেয়াদী অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছেন, যদিও এতে ঝুঁকি বেশি।

রুপোর চাহিদা ও যোগানের চিত্র

রুপোর দামের ঊর্ধ্বগতির পেছনে চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যহীনতাও বড় ভূমিকা নিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী রুপোর সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো কঠিন, কারণ এটি মূলত সিসা, তামা ও সোনার খনি থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। এর ফলে বাজারে রুপোর ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ভারতে রুপোর খনির পরিমাণ খুবই সীমিত হওয়ায় দেশটি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

উৎসবের মরসুমে চাহিদা বাড়লেও উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের আশঙ্কাও রুপোর দামে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে রুপোর ওপর শুল্ক বসতে পারে—এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে রুপো মজুত করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রুপো যুক্তরাষ্ট্র আমদানি করে, যা শিল্প, অলংকার ও বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়। এই সরবরাহ সংকট এবং শিল্প সংস্থাগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা রুপোর দামকে আরও উস্কে দিচ্ছে।


```