কলকাতায় সোনার বাজারে ফের মূল্যবৃদ্ধি। আজ ২২ ও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম কত জানুন। উৎসবের আগে সাধারণ ক্রেতাদের বাজেটে চাপ।

শেষ আপডেট: 17 October 2025 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো : উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে ফের একবার আকাশ ছুঁল সোনার দাম। টানা দ্বিতীয় দিনে হলুদ ধাতুর এই মূল্যবৃদ্ধি কলকাতার বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। শুক্রবার সকালেই বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল, গতকালের তুলনায় ২৪ ক্যারেট ও ২২ ক্যারেট সোনার দরে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ধনতেরাস ও আসন্ন বিবাহ-ঋতুর মুখে এই দামবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
কলকাতায় সোনার নতুন দর
১৭ অক্টোবর, ২০২৫—কলকাতার বাজারে সোনার দর আবারও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারের অর্থনৈতিক প্রভাবের জেরে এই বৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বৃহস্পতিবার ঘোষিত নতুন দরে দেখা যায়, প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ₹১,২৬,২১০, যা আগের দিনের তুলনায় ₹৬৩০ বেশি। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ₹১,২০,২০০—প্রতি ১০ গ্রামে ₹৬০০ বৃদ্ধি। এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি ধনতেরাস ও দীপাবলির আগে ক্রেতাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
গতকাল ও আজকের দামের তুলনামূলক চিত্র
| সোনার প্রকার | ওজন | গতকাল (১৬ অক্টোবর) | আজ (১৭ অক্টোবর) | দাম বৃদ্ধি |
|---|---|---|---|---|
| ২৪ ক্যারেট সোনা | ১ গ্রাম | ₹১২,৫৫৮ | ₹১২,৬২১ | ₹৬৩ |
| ২৪ ক্যারেট সোনা | ১০ গ্রাম | ₹১,২৫,৫৮০ | ₹১,২৬,২১০ | ₹৬৩০ |
| ২২ ক্যারেট সোনা | ১ গ্রাম | ₹১১,৯৬০ | ₹১২,০২০ | ₹৬০ |
| ২২ ক্যারেট সোনা | ১০ গ্রাম | ₹১,১৯,৬০০ | ₹১,২০,২০০ | ₹৬০০ |
দ্রষ্টব্য: উপরোক্ত দামগুলিতে জিএসটি (GST) ও মেকিং চার্জ অন্তর্ভুক্ত নয়। দোকানে সোনার গয়না কেনার সময় এই চার্জগুলি যোগ হবে।
সোনার দাম বাড়ার কারণ
বিশ্ব অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বাজারের একাধিক কারণে সোনার দাম বাড়ছে।
১. আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব: বিশ্ববাজারে সোনার দর বাড়লে ভারতের বাজারেও তা প্রতিফলিত হয়। বর্তমানে স্পট মার্কেটে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াচ্ছে।
২. মুদ্রাস্ফীতি: দেশে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে সোনা তার মূল্য ধরে রাখায় বিনিয়োগকারীরা সেদিকে ঝোঁকেন।
৩. রুপির অবমূল্যায়ন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দুর্বলতা সোনার আমদানি ব্যয় বাড়াচ্ছে, ফলে অভ্যন্তরীণ দামে বৃদ্ধি ঘটছে।
৪. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়: বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের রিজার্ভে সোনার অংশ বাড়াচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে চাহিদা ও দাম দুটোই বাড়াচ্ছে।
৫. ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ একাধিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
৬. সুদের হার: সুদের হার কম থাকলে বা কমানোর সম্ভাবনা থাকলে সোনা আরও আকর্ষণীয় বিনিয়োগে পরিণত হয়।
উৎসব ও বিয়ের মরসুমের প্রভাব
ভারতে সোনার দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উৎসব ও বিবাহের মরসুম। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ধনতেরাস, দীপাবলি ও বিয়ের মৌসুমে সোনার চাহিদা তুঙ্গে থাকে। ভারতীয় পরিবারে সোনা কেবল অলংকার নয়—এটি সম্পদ, ঐতিহ্য এবং আর্থিক সুরক্ষার প্রতীক। এই সময়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামে চাপ পড়ে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (WGC)-এর তথ্য অনুযায়ী, উৎসবের মরসুমে গয়নার চাহিদা কিছুটা কমলেও বিনিয়োগমূলক সোনার (যেমন ETF বা ডিজিটাল গোল্ড) চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে।
ক্রেতাদের উপর প্রভাব
দামের লাগাতার বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়ছেন। অনেকেই হালকা ওজনের গয়নার দিকে ঝুঁকছেন বা দাম কমার আশায় কেনাকাটা স্থগিত রাখছেন। অপরদিকে, বিনিয়োগকারীরা এখনো সোনাকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ধরে রেখেছেন। ডিজিটাল সোনা ও গোল্ড ইটিএফে আগ্রহও দ্রুত বাড়ছে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালের শেষার্ধে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে। যদি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকে, তবে দাম বৃদ্ধির ধারা বজায় থাকবে। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে (বর্তমানে প্রায় ৪,২০০ ডলার)। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা এখনও লাভজনক বিকল্প, যদিও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য তা ক্রমশ বিলাসবহুল পণ্য হয়ে উঠছে।