পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি আঘাত হানল ভারতের অর্থনীতিতে। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে হঠাৎ তেলদামের উল্লম্ফন, আর তারই ধাক্কায় বুধবার রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমে গেল ভারতীয় মুদ্রা। ডলারের বিপরীতে টাকার দর প্রথমবারের মতো ৯২ ছাড়িয়ে ৯২.৩০ টাকা পর্যন্ত নেমে যায়।

বুধবার রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমে গেল ভারতীয় মুদ্রা
শেষ আপডেট: 4 March 2026 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি আঘাত হানল ভারতের অর্থনীতিতে। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে হঠাৎ তেলদামের উল্লম্ফন, আর তারই ধাক্কায় বুধবার রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমে গেল ভারতীয় মুদ্রা। ডলারের বিপরীতে টাকার দর প্রথমবারের মতো ৯২ ছাড়িয়ে ৯২.৩০ টাকা পর্যন্ত নেমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে টাকার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
তেলের দাম বাড়তেই ধাক্কা টাকার
ভারতীয় মুদ্রার পতনের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ইরান-আমেরিকা সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, মাত্র দুদিনে প্রায় ১২–১৩ শতাংশ বেড়েছে দাম। ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। কারণ দেশের মোট তেলের প্রয়োজনের ৮০ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হয়। তেলের দাম বাড়লে আমদানি খরচ দ্রুত বেড়ে যায়, ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ে এবং টাকার ওপর চাপ তৈরি হয়।
অর্থনীতিবিদদের হিসাব বলছে, ক্রুড তেলের দাম প্রতি ১ ডলার বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যায়।
সরকারও উদ্বিগ্ন
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে ভারতের অর্থনীতিতে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এই অঞ্চল দিয়েই ভারতের বড় অংশের বাণিজ্যপথ, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদেশে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের জীবিকা নির্ভর করে।
বাজারে আতঙ্ক, সেনসেক্সেও ধস
টাকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের শেয়ার বাজারেও ধাক্কা লেগেছে। বুধবার লেনদেন চলাকালীন সেনসেক্স প্রায় ১৮০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। নিফটি ৫৫০ পয়েন্টের বেশি নেমে যায়। একদিনেই বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির বাজার মূলধন প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা কমে যায়।
বাজারে অস্থিরতা মাপার সূচক ইন্ডিয়া VIX-ও ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার এই আবহে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা ভারতীয় বাজার থেকেও টাকা তুলতে শুরু করেছেন। গত কয়েক সপ্তাহে হাজার হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন তাঁরা। মুদ্রার দর কমে গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাভও কমে যায়। ফলে আরও পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করতে পারে
টাকার দর ৯২ ছাড়ানোর পর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাজারে ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে বাজার সূত্রে খবর। তবে অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, যদি তেলের দাম দীর্ঘদিন চড়া থাকে, তাহলে টাকার ওপর চাপ বাড়তেই পারে। এমনকি ডলারের বিপরীতে টাকা ৯৩-এর কাছাকাছি পৌঁছনোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেক বিশ্লেষক।
তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে গোটা অর্থনীতিতে। কারণ, এর ফলে পরিবহণ খরচ বাড়ে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়। ফলে মুদ্রাস্ফীতি আবার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সব মিলিয়ে ইরান-আমেরিকা সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং টাকার দর—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।