Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

ভারত-ব্রিটেনের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষর, বিশ্ববাণিজ্যে নতুন দিগন্তের পথ প্রশস্ত

ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনীতিতে বিপুল প্রভাব ফেলবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ভারত-ব্রিটেনের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষর, বিশ্ববাণিজ্যে নতুন দিগন্তের পথ প্রশস্ত

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 1 August 2025 13:26

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলা আলোচনার পর অবশেষে লন্ডনে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সাক্ষর হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যা ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চুক্তির আওতায় প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ডের (প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে, যা কার্যকর হলে দু’দেশের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে দু’দেশই উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসার পর দেশটি নতুন বাণিজ্যিক সঙ্গী খুঁজতে শুরু করে। ভারত ছিল তাদের অগ্রাধিকার তালিকায়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে এই FTA চুক্তি সম্পন্ন হওয়া দু’দেশের জন্য একটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক জয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে ‘ব্রিটেনের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ’ বলে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এটিকে 'যৌথ সমৃদ্ধির রূপরেখা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দুই দেশ নানা সুবিধা পাবে যেমন - শুল্ক হ্রাস, পণ্যের প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।

ভারতের জন্য কী কী সুবিধার পথ প্রশস্ত হতে চলেছে?

  • ভারতীয় রফতানি পণ্যের ৯৯ শতাংশ ব্রিটেনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি করা পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, রত্ন ও গয়না, গাড়ির যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক দ্রব্য, সামুদ্রিক খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য।
  • কৃষিপণ্য যেমন হলুদ, এলাচ, গোলমরিচ, আমের শাঁস, ডাল ও আচার শুল্কমুক্তভাবে রফতানি করা যাবে।
  • তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, স্থাপত্য, পেশাদার পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রিটেনে নতুন বাজার পাবে।
  • ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী, যোগ প্রশিক্ষক, সঙ্গীতজ্ঞ ও শেফদের ব্রিটেনে কাজের সুযোগ সহজ হবে।
  • জাতীয় বিমা (ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স) প্রদানে তিন বছর পর্যন্ত ছাড়ের সুবিধা পাবেন প্রায় ৭৫ হাজার ভারতীয় কর্মী।
  • নারী উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ব্রিটেনের জন্য কী সুবিধা তৈরি হচ্ছে?

  • ব্রিটিশ পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশের ওপর ভারতের আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হবে। আগামী ১০ বছরে ৮৫ শতাংশ পণ্যের শুল্ক সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হবে।
  • স্কচ হুইস্কির ওপর শুল্ক প্রথম ধাপে ১৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭৫ শতাংশ করা হবে এবং এক দশকে তা ৪০ শতাংশে নামবে।
  • ব্রিটিশ গাড়ির শুল্ক নির্দিষ্ট কোটার আওতায় ১০০ শতাংশের বেশি থেকে কমে ১০ শতাংশে নামানো হবে। এতে জাগুয়ার ও ল্যান্ড রোভার ব্র্যান্ডের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত হবে।
  • চিকিৎসা সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স, কসমেটিক্স, চকোলেট, বিস্কুট, স্যালমন মাছ ও মহাকাশ শিল্পের যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক কমবে।
  • এই চুক্তির ফলে ব্রিটেনে প্রায় ২,২০০টি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে ২৬টি ব্রিটিশ কোম্পানি ভারতে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই চুক্তির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ হতে পারে। ব্রিটেনের জিডিপি ও গড় বেতনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রযুক্তি, অ্যারোস্পেস, উৎপাদন শিল্প ও সাপ্লাই চেইন খাতের কর্মীরা এই চুক্তির বড় উপকারভোগী হবেন।

যদিও এটি একটি যুগান্তকারী চুক্তি, কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে:

ভারতের সংবেদনশীল কৃষিখাত চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ এই খাতে দেশের ৪০ শতাংশ শ্রমশক্তি যুক্ত।

ব্রিটেনের প্রস্তাবিত কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম নিয়ে এখনও দ্বিধা রয়েছে। এই ‘কার্বন ট্যাক্স’ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাড়তি শুল্কের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কিছু সমালোচক আশঙ্কা করছেন, ভারতীয় শ্রমিকদের কারণে ব্রিটিশ শ্রমিকরা চাকরি হারাতে পারেন, যদিও ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস এই দাবিকে 'ভিত্তিহীন' বলেছেন। চুক্তিটি কার্যকর হতে উভয় দেশের সংসদে অনুমোদন পেতে হবে, যার জন্য অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।

শিল্পমহলের প্রতিক্রিয়া

ভারতীয় শিল্প ও বণিক মহল এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল (EEPC India), ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI) ও কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII) এই চুক্তিকে ‘রূপান্তরমূলক’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।

বিশেষ করে কৃষি, ওষুধ, পরিষেবা ও গাড়ির যন্ত্রাংশ খাতে এই চুক্তি নতুন সুযোগ আনবে। ভারতীয় কৃষকদের জন্যও এটি লাভজনক হবে, কারণ তাদের উৎপাদিত পণ্য এখন শুল্কমুক্তভাবে ব্রিটেনের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।


```