ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনীতিতে বিপুল প্রভাব ফেলবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

শেষ আপডেট: 1 August 2025 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলা আলোচনার পর অবশেষে লন্ডনে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সাক্ষর হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যা ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ডের (প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে, যা কার্যকর হলে দু’দেশের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে দু’দেশই উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসার পর দেশটি নতুন বাণিজ্যিক সঙ্গী খুঁজতে শুরু করে। ভারত ছিল তাদের অগ্রাধিকার তালিকায়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে এই FTA চুক্তি সম্পন্ন হওয়া দু’দেশের জন্য একটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক জয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে ‘ব্রিটেনের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ’ বলে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এটিকে 'যৌথ সমৃদ্ধির রূপরেখা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দুই দেশ নানা সুবিধা পাবে যেমন - শুল্ক হ্রাস, পণ্যের প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।
ভারতের জন্য কী কী সুবিধার পথ প্রশস্ত হতে চলেছে?
ব্রিটেনের জন্য কী সুবিধা তৈরি হচ্ছে?
বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই চুক্তির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ হতে পারে। ব্রিটেনের জিডিপি ও গড় বেতনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রযুক্তি, অ্যারোস্পেস, উৎপাদন শিল্প ও সাপ্লাই চেইন খাতের কর্মীরা এই চুক্তির বড় উপকারভোগী হবেন।
যদিও এটি একটি যুগান্তকারী চুক্তি, কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে:
ভারতের সংবেদনশীল কৃষিখাত চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ এই খাতে দেশের ৪০ শতাংশ শ্রমশক্তি যুক্ত।
ব্রিটেনের প্রস্তাবিত কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম নিয়ে এখনও দ্বিধা রয়েছে। এই ‘কার্বন ট্যাক্স’ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাড়তি শুল্কের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কিছু সমালোচক আশঙ্কা করছেন, ভারতীয় শ্রমিকদের কারণে ব্রিটিশ শ্রমিকরা চাকরি হারাতে পারেন, যদিও ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস এই দাবিকে 'ভিত্তিহীন' বলেছেন। চুক্তিটি কার্যকর হতে উভয় দেশের সংসদে অনুমোদন পেতে হবে, যার জন্য অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।
শিল্পমহলের প্রতিক্রিয়া
ভারতীয় শিল্প ও বণিক মহল এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল (EEPC India), ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI) ও কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII) এই চুক্তিকে ‘রূপান্তরমূলক’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
বিশেষ করে কৃষি, ওষুধ, পরিষেবা ও গাড়ির যন্ত্রাংশ খাতে এই চুক্তি নতুন সুযোগ আনবে। ভারতীয় কৃষকদের জন্যও এটি লাভজনক হবে, কারণ তাদের উৎপাদিত পণ্য এখন শুল্কমুক্তভাবে ব্রিটেনের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।