
চিনা পণ্যে ৬০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি
শেষ আপডেট: 9 November 2024 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে বাড়তে পারে আইফোনের দাম। ভোটের আগে রিপাবলিকান ট্রাম্প যে বৈদেশিক শুল্ক নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন, ক্ষমতায় বসে তিনি যদি তা প্রয়োগ করেন, তাহলে আইফোনের দাম অন্তত ৩০০ ডলার বেড়ে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা সেরকমই।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার গদিতে থাকাকালীন আইফোনের নির্মাতা সংস্থা অ্যাপল ভালো লাভের মুখ দেখেছিল। কিন্তু, এবারে তথ্যপ্রযুক্তি জগতের এই দৈত্য-সংস্থাকে আইফোনের নিদেনপক্ষে ৩০০ ডলারের মতো দাম বাড়াতে হবে নতুন বৈদেশিক শুল্ক নীতি প্রয়োগ হলে।
অ্যাপলের মালিক টিম কুক ট্রাম্পকে জেতার পর অভিনন্দন জানালেও প্রেসিডেন্টের আসনে বসে তিনি যদি সব আমদানি করা পণ্যে ১০ শতাংশ এবং চিনা পণ্যে ৬০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করেন, তাহলে আইফোনের দাম বেড়ে যাবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, অ্যাপলের উপর তাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অর্থনীতিবিদ জ্যাকব চ্যানেল বিজনেস ইনসাইডার নামে একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যদি আপনি ভাবেন যে আইফোন খুবই দামি। তাহলে এটাও জেনে রাখুন আগামিদিনে তা আরও দামি হতে চলেছে। চিন থেকে যদি ৬০ শতাংশ বেশি দামে মালপত্র কিনে আনতে হয়, তাহলে অবশ্যই দাম বাড়বে আইফোনেরও, বলেন তিনি।
মার্কিন মুলুকে প্রতিবছর ১৩০ মিলিয়ন স্মার্টফোন বিক্রি হয়। প্রধানত আইফোন ও স্যামসাং এই বাজার ধরে রেখেছে। এর মধ্যে আইফোনের এক বিরাট অংশ প্রস্তুত হয় শি জিনপিংয়ের চিনে। এই অবস্থায় কুক নিজে হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষকে আগাম জানিয়ে রেখেছেন শুল্ক নীতিতে বদল ঘটলে অ্যাপলের স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং ট্যাবলেটের দাম বাড়বে। যার ফলে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে কোম্পানি।
পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিকসের অর্থনীতিবিদ মেরি ই লাভলির মতে, ভোগ্য-বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিশ্চিতভাবে বিশেষ সুবিধা পাবে। তবে ট্রাম্প ২ প্রশাসন শেষমেশ কোন নীতিতে যাবে, তা ভবিষ্যতের ব্যাপার হলেও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি জানিয়েছিলেন তাঁর সরকার সব আমদানি দ্রব্যে ১০-২০ শতাংশ শুল্ক বাড়াবে। চিনের ক্ষেত্রে তা হবে ৬০ শতাংশ।
এই হিসেব করে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একহাজার ডলারের একটি আইফোনের ৩০০ ডলার পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। যেখানে স্যামসাং স্মার্টফোন তৈরি হয় চিন ছাড়া অন্যান্য দেশে। ফলে তাদের উৎপাদিত পণ্যে এই শুল্ক নীতির প্রভাব পড়বে না। যদিও অ্যাপল আপাতত এশীয় বাজারে ভারতকে বড় বাজার হিসেবে ধরে নিয়েছে। কিন্তু, বৃহত্তর চিন অ্যাপলের রাজস্ব ভাণ্ডারের মূল অঞ্চল রয়েছে এখনও।