গাড়ির বাজারে (Indian auto market) জিএসটি (GST) সংস্কারের জল্পনা বাড়াচ্ছে অনিশ্চয়তা। কমতে পারে গাড়ির দাম (car price), তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের উপর।

গাড়ির বাজারে কীসের উদ্বেগ? ছবি: এআই নির্মিত।
শেষ আপডেট: 2 September 2025 13:46
এক দল ভাবছেন, “টু বাই, অর (নাউ) নট টু বাই, দ্যাট ইজ় দি কোয়েশ্চন।”
তাই দেখে অন্য পক্ষের চিন্তা, “টু বি, অর নট টু বি, দ্যাট ইজ় দি কোয়েশ্চন।”
বিলিতি কবির কথা ধার ও একটু অদলবদল করলে, এটাই হচ্ছে এখন এ রাজ্য তথা দেশের গাড়ি বাজারের ছবি। সৌজন্যে জিএসটি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক সুপারিশের ফলে অন্যান্য অধিকাংশ পণ্যের সঙ্গে গাড়িতেও জিএসটি হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন ৫, ১২, ১৮ ও ২৮ শতাংশ হারে বিভিন্ন পণ্যের উপরে জিসএটি চাপে। সেই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে সেস। কেন্দ্রের প্রস্তাব মতো মন্ত্রিগোষ্ঠী জিএসটি হারের সংস্কার করে দুটি হার (১২ ও ২৮ শতাংশ) তুলে দিয়ে বাকি দু'টি রাখার সুপারিশ করেছে জিএসটি কাউন্সিলের কাছে। ৩-৪ সেপ্টেম্বরের ওই সুপারিশের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জিএসটি কাউন্সিলে। প্রসঙ্গত স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও জিএসটি সংস্কারের মাধ্যমে আমজনতার আর্থিক বোঝা হ্রাসের বার্তা দেন।
সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন পণ্যের মতো কমতে পারে কিছু গাড়ির দামও। তবে সবটা এখনও সম্ভাবনাই। ওই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় গাড়ির আগ্রহী ক্রেতাদের অনেকেই। আর তাই নিয়েই চিন্তায় বিক্রেতারা (গাড়ি সংস্থা ও ডিলার)। বাজার সূত্রের দাবি, সেই জল্পনার জেরেই অনেকে নাকি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা আপাতত পিছিয়ে দিচ্ছেন। শোরুমে বা নেটে গাড়ির খোঁজখবর করলেও কেনার সিদ্ধান্ত স্তগিত রাখছেন। অপেক্ষা করছেন জিসএটি কমে কি না, তার জন্য। ফলে চাপ বাড়ছে বিক্রেতাদের উপরে। তাঁদের ভাষায় এনকোয়্যারি পারচেজে বদলাচ্ছে অন্য বছরের চেয়ে অনেক কম হারে।

তথ্যসূত্র: গাড়ি সংস্থাগুলির সংগঠন সিয়াম
জিএসটি কমলে গাড়ির দাম কতটা কমতে পারে? এখনই এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ গাড়ি সংস্থা থেকে ডিলারেরা। কারণ গোটাটাই নাকি এখনও জল্পনা। মারুতি, হুন্ডাই, টাটা মোটরসের মতো কোনও সংস্থাই এ নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি। মারুতি সুজুকির চেয়ারম্যান আর সি ভার্গব সোমবার ফোনে বলেন, “জিএসটি কাউন্সিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে আমাদের কিছুই বলা সম্ভব নয়।” একই কথা ডিলারদের সংগঠন ফাডার-ও।
তবুও যদি একটা আশার ভিত্তিতে হিসেব কষা যায়, কতটা পকেটের চাপ কমতে পারে ক্রেতার?
বারকয়েক আর্জির পরে নারাজ গাড়ি শিল্পমহলের একাংশের প্রাথমিক আন্দাজ বলছে, দু’চাকার গাড়ির উপরে এখন যে ২৮ শতাংশ জিএসটি চাপে তা কমে ১৮ শতাংশে এলে হাজার সাত-আট টাকা কমতে পারে। তবে ২৮ শতাংশের সঙ্গে ৩৫০০ সিসি-র বেশি ইঞ্জিনের দু’চাকার গাড়ির উপরে চাপে আরও ৩ শতাংশ সেস। সে ক্ষেত্রে সেস-এর ভবিষ্যতের উপর নির্ভৎ করবে দামের আর কতটা পরিবর্তন হবে।
আর গড়ে পাঁচ লক্ষ টাকার চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে জিএসটি ২৮ থেকে ১৮ শতাংশে নামলে হাজার তিরিশেক টাকার আশেপাশে কমতে পারে মূল দাম। তবে ছোট গাড়ি থেকেই (দৈর্ঘ্য ৪ মিটারের কম এবং ১২০০ সিসি পর্যন্ত ক্ষমতার ইঞ্জিন) শতাংশের হিসেবে, দুই বা চার চাকা, ছোট বা বিলাসবহুল, সব মিলিয়েই গড়ে গাড়ির শোরুমের দাম কমলেও তা ১০ শতাংশের কমই হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। আর জিএসটি কমলেও বিলাসববহুল ও দামি গাড়ির চেয়ে কম দামি বা ছোট গাড়ির বাজারে তার প্রভাব বেশি পড়বে বলেও মনে করছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ।

প্রসঙ্গত, কারখানায় গাড়ি তৈরি খরচ ও ডিলারদের মার্জিন ধরে হিসেব করা হয় গাড়ির মূল দাম। এর উপর চাপে জিএসটি এবং সেস। সবটা নিয়ে হয় গাড়ির শো-রুমের দাম। ক্রেতা গাড়ি কিনলে যোগ হয় রাস্তার কর (রোড ট্যাক্স), বিমার খরচ।
আসলে উৎসবের মরসুমে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি গাড়ির বিক্রিও বাড়ে। নবরাত্রি, দুর্গা পুজো, দীপাবলি, এই সময়কালকেই গাড়ি ব্যবসায় উৎসবের মরসুম ধরা হয়। উৎসবের মরসুমে গাড়ি কেনার বিষয়টিকে সাধারণ ভাবে পরিবারের পক্ষে শুভ বা মঙ্গলজনক মনে করেন অনেকে ক্রেতাই।
ফাডা সূত্রের খবর, এই সময়ে মাসিক গাড়ি বিক্রি কম-বেশি প্রায় ২০% বাড়ে। শিল্পমহলের একাংশের হিসেবে, সাধারণ ভাবে মাসে ও গড়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার দু’ চাকা ও ১০ হাজার চার চাকার গাড়ি বিক্রি হয়। ক্রেতা টানতে গাড়ি সংস্থাগুলি তো বটেই, ডিলারেরাও এই সময়ে তাঁদের তরফেও বাড়তি কিছু ছাড় বা উপহার হিসেবে গাড়ির কোনও সরঞ্জাম দেন ক্রেতাদের। এ বারে এখনও সেই ছাড় বা উৎসবকেন্দ্রিক ঘোষণা শুরু না হলেও শীঘ্রই তা হওয়ার সম্ভাবনা থাকেই। যদিও জিএসটি কমলে সংস্থাগুলি কতটা ছাড় দেবে তা নিয়েও সংশয়ী ডিলারদের একাংশ।

দাম বৃদ্ধির জেরে গত কয়েক বছর ধরেই ক্রমশ কমেছে বিশেষ করে কম দামি ও ছোট চারচাকা গাড়ির বিক্রি। যা এক সময়ে মোট গাড়ি বাজারের ৫০ শতাংশেরও বেশি থাকলেও গত সাত-আট বছরে তারও অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। গ্রামীণ বাজারেও ঝিমুনিভাব প্রভাব ফেলেছে দু’চাকার গাড়ি বিক্রিতে। সেই করোনাকাল থেকে জিএসটি কমানোর আর্জি তুলেছিল গাড়ি শিল্প। যদিও বা জিএসটি কমে, তাহলেও সেস-এর ক্ষেত্রে কী হবে, তা আরও অস্পষ্ট। যদি রাজ্যগুলি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করে তাতে বাধা না দেয় এভং সেস কম, তাহলে আরও কিছুটা কমতে পারে গাড়ির দাম।
বলতে গেলে আগামী দু’দিনের জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে যেন বাজারের জল মাপছে সব পক্ষই।