দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০২১ সালের আর্থিক বছরের জন্য দ্বিতীয় দফায় আজ ছাড়া হল গোল্ড বন্ড। সরকারের তরফে বন্ড ছাড়ল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ১৫ মে পর্যন্ত আগ্রহীরা বন্ড কিনতে পারবেন। গত ৮ মে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানিয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে ভারত সরকার সোভরেন গোল্ড বন্ড ইস্যু করা শুরু করে। অর্থাৎ সরকারি গোল্ড বন্ড বিক্রি করা হয়। তার নাম গোল্ড মনিটাইজেশন প্রকল্প। এই প্রকল্পে ভারত সরকারের পরামর্শমতো রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গোল্ড বন্ড ইস্যু করে। গোল্ড বন্ড পিছু বছরে ২.৫০ শতাংশ সুদ দেওয়া হয়। বন্ডের মেয়াদ হয় সাধারণত আট বছর। তবে পাঁচ, ছয় অথবা সাত বছরের মাথায় প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসা যায়। ব্যক্তিগতভাবে কেউ চার কেজি পর্যন্ত গোল্ড বন্ড কিনতে পারেন। হিন্দু যৌথ পরিবারও চার কেজি পর্যন্ত সোনার বন্ড কিনতে পারে। বিভিন্ন ট্রাস্ট ২০ কেজি পর্যন্ত সোনার বন্ড কিনতে পারে।
গোল্ড বন্ডে প্রতি গ্রাম সোনার দাম ধার্য করা হয়েছে ৪৫৯০ টাকা। যাঁরা ডিজিটাল মোডে পেমেন্ট করবেন, তাঁদের জন্য ৫০ টাকা করে ছাড় দেওয়া হবে। অর্থাৎ তাঁরা প্রতিটি বন্ড কিনতে পারবেন ৪৫৪০ টাকায়।
এর আগে গত এপ্রিলে আর একদফা গোল্ড বন্ড ইস্যু করা হয়। তখন বিক্রি হয় ১৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ইউনিট। তার মূল্য ৮২২ কোটি। এপ্রিলে গোল্ড ফিউচার প্রাইস রেকর্ড বৃদ্ধি পায়। তার প্রতি ১০ গ্রামের দাম হয় ৪৭ হাজার টাকা। বর্তমানে দেশে লকডাউনের ফলে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ প্রায় বন্ধ। তার ওপরে অর্থনীতিবিদরা ভবিষ্যৎবাণী করছেন, শীঘ্রই বড় ধরনের আর্থিক মন্দার কবলে পড়তে চলেছে বিশ্ব। এই অবস্থায় অনেকে ভাবছেন, গোল্ড বন্ড কেনাই নিরাপদ। বিভিন্ন ব্রোকারেজ সংস্থাও ভাবছে, গোল্ড বন্ডের দাম বাড়তেই থাকবে।
কমোডিটি রিসার্চ সংস্থার প্রধান কুণাল শাহ জানান, অন্যান্য যে কোনও সম্পদের চেয়ে মানুষ এখন সোনার ওপরে ভরসা করছেন বেশি। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা যত বৃদ্ধি পাবে, সোনার ওপরে মানুষের নির্ভরতা তত বাড়বে। তাঁর কথায়, “আমার হিসাবমতো আগামী দু’বছরে গোল্ড ফিউচারে রিটার্ন পাওয়া যাবে অন্তত ১৫ শতাংশ। শেয়ার সূচক যদি আগামী দিনে না ওঠে, তাহলে সোনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে।”